Published : 22 Sep 2024, 01:52 PM
শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় চলমান বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সংশ্লিষ্ট চীনা হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখতে যাচ্ছে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ঝুঁকির বিষয়টিকে কারণ দেখিয়ে সোমবার এ প্রস্তাবনা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবকাঠামো ও চালকদের কাছ থেকে চীনা কোম্পানিগুলোর ডেটা সংগ্রহ এবং ইন্টারনেট ও ন্যাভিগেশন সিস্টেম সংযোগওয়ালা গাড়িতে সম্ভাব্য বৈদেশিক হস্তক্ষেপ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাইডেন প্রশাসন।
চীন থেকে বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভ সিস্টেম সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার আমদানি ও বিক্রিতে প্রস্তাবিত আইনটি নিষেধাজ্ঞা দেবে বলে জানিয়েছে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র দুটি।
চীনা গাড়ি, সফটওয়্যার ও অন্যান্য পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে এরইমধ্যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেতে যাচ্ছে নতুন এ পদক্ষেপ। গত সপ্তাহেও চীনা পণ্য আমদানির শুল্কহার বাড়িয়েছে বাইডেন প্রশাসন, যার মধ্যে রয়েছে ইভি’র ওপর শতভাগ এবং ইভি ব্যাটারি ও এর মূল খনিজের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো বলেছেন, মে মাসে চীনা সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলতি গাড়িগুলো নিয়ে বড় ঝুঁকি দেখা গিয়েছিল।
“ভেবে দেখুন, রাস্তায় থাকা ২০ লাখ গাড়ির সফটওয়্যার একসঙ্গে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে,” বলেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক তদন্তের আদেশ দেন, যার লক্ষ্য ছিল, ‘কানেক্টেড-কার’ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে চীনা গাড়ির আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় হুমকি কি না এবং মার্কিন রাস্তায় চলমান সেইসব গাড়ির সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার নিষিদ্ধ করা উচিৎ কি না, সে বিষয়াদি খতিয়ে দেখা।
“চীনের গাড়ি সংশ্লিষ্ট নীতিমালা আমাদের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে। এমনকি সেটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যেও হুমকি,” এর আগে বলেছিলেন বাইডেন।
“আমার নাকের ডগায় আমি সেটা হতে দেব না।”
সূত্ররা বলেছেন, এই নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে জনগণের মন্তব্য নিতে ৩০ দিন সময় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় চালু হওয়া প্রায় সব নতুন গাড়িই ‘কানেক্টেড’ হিসেবে বিবেচিত।
এ ধরনের গাড়িতে একটি নেটওয়ার্ক হার্ডওয়্যার থাকে, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ মেলে। এমনকি বিভিন্ন ডিভাইস দিয়ে গাড়ির ভেতরে ও বাইরে ডেটা শেয়ার করার সুবিধাও পেয়ে থাকেন ব্যবহারকারী।