এআই ব্যবহার: গংকোর পুরস্কারের তালিকা থেকে উপন্যাস বাদ
ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গংকোর। ১৯০৩ সাল থেকে আকাদেমি গংকোর এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগে ফরাসি সাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ গংকোর সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘতালিকা থেকে বাদ পড়েছে জনপ্রিয় এক উপন্যাস।
সাহিত্য অঙ্গনে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আয়োজকরা এই সিদ্ধান্ত নিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
শুক্রবার গংকোর সাহিত্য পুরস্কারের আয়োজকরা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে উপন্যাস লেখার অভিযোগ ওঠার পর হাইতিয়ান-কানাডিয়ান লেখক থেলিসন ওরেলিয়েনের সর্বাধিক বিক্রিত এক বইয়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন তারা।
‘সেতে সা উ মুরিখ’ বা ‘হয় এটা করতে হত, নয় মরতে হত’ নামের উপন্যাসটি এআই দিয়ে লেখার অভিযোগ ওঠার পর ফরাসি সাহিত্য মহলে বর্ণবাদ, সাহিত্যিক মান ও মৌলিকত্ব নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
তবে ওরেলিয়েন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ সপ্তাহে ‘বালা তোঁ ক্লোদ’ নামের খুব একটা পরিচিত নয় এমন এক এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এআই ব্যবহারের এ অভিযোগটি প্রথম তোলা হয়।
পরবর্তীতে প্রাবন্ধিক স্যামুয়েল ফিতুসি ওই অ্যাকাউন্টটির মালিকানা দাবি করে বলেন, তিনি ও অন্যান্য অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মিলে এটা পরিচালনা করতেন।
এআই ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি ওরেলিয়েনের আগের বিভিন্ন লেখাতেও চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘ল্য প্রেস’ লিখেছে, ওরেলিয়েনের ২০১২ সালের এক ছোটগল্পে ফরাসি লেখক লুই পাওয়েলসের একটি বইয়ের অংশবিশেষ হুবহু নকল এবং ২০১৩ সালের একটি মতামত নিবন্ধ ফিলিপিন্সের স্টার পত্রিকা থেকে কপি করা।
ওরেলিয়েন এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এবং শুক্রবার রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধেও সাড়া দেননি।
প্যারিসভিত্তিক আকাদেমি গংকোর বলেছে, তারা এআই ও চৌর্যবৃত্তির বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে ‘গংকোর পুরস্কারের সম্মান ও আকাদেমির মর্যাদা রক্ষার্থে’ তার উপন্যাসটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নারী ও পুরুষ লেখকদের রচিত সাহিত্যকে উৎসাহিত ও সম্মানিত করাই এই অ্যাকাডেমির মূল উদ্দেশ্য। ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার গংকোর। ১৯০৩ সাল থেকে আকাদেমি গংকোর এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।
আকাদেমি বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ‘এআইয়ের সহায়তায় টেক্সট তৈরির’ বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
আগামী ৬ অক্টোবর পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করার আগে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয় আকাদেমি।
হাইতিতে জন্ম নেওয়া এ লেখকের প্রথম উপন্যাসটিতে লাতিন আমেরিকা হয়ে কানাডায় পাড়ি জমানো এক হাইতিয়ান অভিবাসীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে, বইটি বেশ কয়েকটি সাহিত্য পুরস্কার জিতেছিল ও একাধিক ভাষায় অনূদিত হওয়ার কথা ছিল।
এআই ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর লেখকের ফরাসি ও কানাডীয় প্রকাশকরা প্রথমে তাকে সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
তবে শুক্রবার মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সাড়া দেননি।
‘বালা তোঁ ক্লোদ’ অ্যাকাউন্টটি দাবি করেছে, পাণ্ডুলিপির অংশবিশেষ ‘প্যানগ্রাম’ নামের এআই শনাক্তকরণ টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা গেছে উপন্যাসটি ‘পুরোপুরি এআই দিয়ে লেখা’।
তবে, কিছু বিশেষজ্ঞ এআই শনাক্তকরণ বিভিন্ন টুলের কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
