১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চ্যাটজিপিটিতে মানসিক সমস্যা ‘বাড়ছে’: গবেষণা

এরইমধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ফলে বহু মানুষের বিশেষ এক ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গবেষকরা একে বলছেন ‘চ্যাটবট সাইকোসিস’।

চ্যাটজিপিটিতে মানসিক সমস্যা ‘বাড়ছে’: গবেষণা
বহু ব্যবহারকারীর মধ্যে ‘চ্যাটবট সাইকোসিস’ দেখা দিচ্ছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jul 2025, 03:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

চ্যাটজিপিটি ও অন্যান্য এআই চ্যাটবট মানুষের মধ্যে মনোরোগ বাড়িয়ে তুলছে বলে নতুন এক গবেষণায় সতর্কবাণী উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের চিকিৎসকদের করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এ ধরনের এআই প্রযুক্তি মানসিকভাবে দুর্বল মানুষের জন্য বাস্তব আর কল্পনার পার্থক্য বোঝা কঠিন করে দিচ্ছে। এ ছাড়া, এগুলো মানসিক সমস্যা তৈরি করছে বা আগে থেকেই যাদের মানসিক সমস্যা ছিল তাদের অবস্থা আরও খারাপ করছে এবং এ ধরনের ঘটনার প্রমাণ দিন দিন বাড়ছে।

গবেষকরা দেখেছেন, এরইমধ্যে এআই চ্যাটবট ব্যবহারের ফলে বহু মানুষের বিশেষ এক ধরনের মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। গবেষকরা একে বলছেন ‘চ্যাটবট সাইকোসিস’। 

গবেষণাটিতে যুক্ত থাকা কিংস কলেজ লন্ডনের নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট হ্যামিল্টন মরিন বলেছেন, “চ্যাটবট সাইকোসিস একটি বাস্তব ঘটনা, যা এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি।”

তিনি লিংকডইনে এক পোস্টে লিখেছেন, “অনেকে ভয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের উচিত আসল সমস্যা কী তা নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা। বিশেষ করে এআই চ্যাটবটগুলো যেভাবে ব্যবহারকারীদের সাপোর্ট দেয়, তাদের সঙ্গে কথা বলে আর মানুষের মতো আচরণ করে এই ধরনের প্রযুক্তি মানসিকভাবে দুর্বল মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এটা কীভাবে সাইকোসিসকে বাড়িয়ে দিতে পারে বা নতুন করে শুরু করতে পারে, সেটা বোঝাটা এখন খুব জরুরি।

“আমরা সম্ভবত সেই সময় পেরিয়ে গিয়েছি যখন মানুষ শুধু মেশিন নিয়ে ভুল ধারণায় থাকত। এখন এমন এক সময়ে ঢুকেছি যেখানে সরাসরি মেশিনের সঙ্গেই ভুল ধারণায় জড়িয়ে পরছি।”

গবেষণার সহ-লেখক এবং কিংস কলেজ লন্ডনের শিক্ষক টম পোলাক বলেন, মানসিক রোগ সাধারণত হঠাৎ করে দেখা দেয় না, তবে এআই চ্যাটবটের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রে ‘উদ্দীপক কারণ’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

পোলাক এআই কোম্পানিগুলোকে তাদের টুলে আরও বেশি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এআই নিরাপত্তা টিমে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।

ওপেনেএআই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। 

ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে, এর আগে ওপেনএআই তাদের এআইয়ের নিরাপত্তা, সঠিকভাবে কাজ করা এবং ব্যবহারকারীরা যেভাবে এআই ব্যবহার করেন সেই অনুযায়ী দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে। 

ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান গত মে মাসে এক পডকাস্টে বলেছিলেন, মানসিকভাবে দুর্বল ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করতে তারা ‘হিমশিম খাচ্ছেন’।

তিনি বলেন, “যারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ভেঙে পড়া অবস্থায় তাদের কাছে কীভাবে সতর্কবার্তা পাঠানো যায় সেটা আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারিনি।”