১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থায় তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

এক কর্মীর অবহেলার কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ৫০ জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

যুক্তরাজ্যের সরকারি সংস্থায় তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে এআই যেভাবে নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলো বের করে নিচ্ছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ছবি: এআই

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Aug 2026, 06:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

এক কর্মীর অবহেলায় উচ্চপর্যায়ের নথি ও অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তার ইমেইল ঠিকানা অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে তথ্য ফাঁসের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় এক বিনিয়োগ সংস্থা।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বৃদ্ধির ফলে সাইবার নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সময়ে ঘটা এ ঘটনা দেশটির সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জন্য বড় এক সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ইউকে গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্টস’ বা ইউকেজিআই-এর অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের এ ঘটনা সামনে আসার পর সংস্থাটির নিরাপত্তা জোরদার করার তাগিদ এসেছে।

নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে প্রায় দুই দিন ধরে সংস্থাটির ‘উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা তথ্য’ সবার জন্য উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল। ‘চ্যানেল ৪’ ও পোস্ট অফিসসহ একাধিক শীর্ষ সংস্থায় করদাতাদের আর্থিক স্বার্থ ও শেয়ার দেখভাল করে ইউকেজিআই।

সংস্থাটি বলেছে, এ ব্যর্থতার কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে ৫০ জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ‘রয়াল ব্যাংক অফ স্কটল্যান্ড’ ও ‘লয়েডস’-এর মতো ব্যাংকগুলোতে যুক্তরাজ্য সরকারের শেয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল সংস্থাটি।

তথ্য ফাঁসের পেছনে তাদেরই এক কর্মীর নিরাপত্তা নিয়ম অমান্য করাকে দায়ী করেছে ইউকেজিআই। তবে, ওই কর্মীর নাম প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, “এক কর্মীর নির্ধারিত তথ্য নিরাপত্তা নীতি মেনে না চলার কারণে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা তথ্য এবং ৫১ জন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও দাপ্তরিক ইমেইল ঠিকানা সম্বলিত এক অভ্যন্তরীণ নথি প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে উন্মুক্ত ছিল।”

নিরাপত্তা লঙ্ঘনের এ ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে ঘটেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও সংস্থাটি বলেছে, বিগত অর্থবছরের মধ্যে বিষয়টি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এরপর ঘটনাটি দ্রুত বোর্ডের সদস্যবৃন্দ ও যুক্তরাজ্যের তথ্য তদারকি সংস্থা ‘ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিস’ বা আইসিও’কে জানানো হয়।

ঘটনাটির পর নিরাপত্তা প্রটোকল বা নিয়মাবলী পর্যালোচনার জন্য বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিয়েছিল ইউকেজিআই কর্তৃপক্ষ। এসব বিশেষজ্ঞরা সংস্থাটিকে তাদের ‘নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জরুরি পরিস্থিতি ঠেকানোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করার’ পরামর্শ দিয়েছেন।

ইউকেজিআই তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, “এসব পরামর্শের সিংহভাগই সংস্থাটি এরইমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে এবং বাকিগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে।”

প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যেভাবে নিরাপত্তার ফাঁকফোকরগুলো বের করে নিচ্ছে তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনাটিকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি মার্কিন এআই কোম্পানি ওপেনএআই বলেছে, তাদের স্বয়ংক্রিয় এক এআই এজেন্ট মানব সহায়তা ছাড়াই নিজস্ব কমান্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের এআই মডেলভিত্তিক ডেটাবেইস প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’ ছাড়াও আরও চারটি সরকারি বা উন্মুক্ত সেবার লগইন তথ্য খুঁজে বের করে সেগুলোতে অনধিকার প্রবেশ করেছে।

হাগিং ফেইস বলেছে, কোনো মানব হ্যাকারও হয়ত এই একই নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করে এর অপব্যবহার করতে পারত। তবে পার্থক্যটি তৈরি করেছে এআই এজেন্টের কাজের ব্যাপকতা ও গতি।

“এআই এজেন্ট যোগ হওয়ার ফলে একজন আক্রমণকারী একসঙ্গে অসংখ্য পথ পরীক্ষা করতে, ব্যর্থ হওয়া চেষ্টাগুলো দ্রুত বদলে ফেলে নতুন উপায় খুঁজতে এবং হামলা চিহ্নিতের আগেই বিপুল পরিমাণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফেলতে পারে।”