১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করলে কি ব্যাটারির আয়ু কমে?

‘চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করা যাবে না’ ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানো সংক্রান্ত এ প্রচলিত ধারণা ভুল। এরকম আরেকটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, সারারাত ফোন চার্জে দিয়ে রাখা অনুচিত।

চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করলে কি ব্যাটারির আয়ু কমে?
চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 04:52 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

বর্তমান যুগে স্মার্টফোনের ওপর মানুষের নির্ভরতা এতটাই বেড়েছে যে, ফোনটি চার্জে থাকা অবস্থাতেও তা ব্যবহারের তাগিদ অনুভব করেন অনেকে। বসার ঘরের সোফার পাশে বা কাজের টেবিলে চার্জিং কেবল যোগ রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ক্রল করা বা ভিডিও দেখার দৃশ্য এখন খুবই সাধারণ।

চলতে-ফিরতে ব্যবহারের সুবিধার্থে তারওয়ালা ও তারহীন পাওয়ার ব্যাংকের ব্যবহারও আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে কি ব্যাটারির আয়ু কমে যায়?

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট বলছে, সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে না। চার্জে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার করলে কিছুটা ধীরগতিতে চার্জ হতে পারে তবে সার্বিকভাবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি কোনো ক্ষতি করে না।

এর নেপথ্যে রয়েছে আধুনিক ডিভাইসে ব্যবহৃত ‘বাইপাস চার্জিং’ ও অতিরিক্ত তাপ ছড়িয়ে দেওয়ার ‘হিট ডিসিপেশন’ প্রযুক্তি।

বাইপাস চার্জিং যেভাবে কাজ করে

বাইপাস চার্জিং চালু থাকলে চার্জে থাকা অবস্থাতেও ফোন ব্যবহার করা হলে তা ব্যাটারি রিচার্জ করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থামিয়ে দেয় এবং সরাসরি অ্যাপ বা হ্যান্ডসেট চালানোর কাজে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।

ফলে ফোন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় যেমন ব্যাঘাত ঘটে না তেমনই ব্যাটারির প্রধান শত্রু অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন থেকেও ফোন সুরক্ষায় থাকে, বিশেষ করে গেইম খেলার মতো কাজের সময় ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতেই এ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার দেখা যায়।

তবে এ প্রযুক্তির অসুবিধা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ ভিডিও এডিটিং বা গেইমিং শেষে প্লাগ খুলে নেওয়ার পর দেখা যেতে পারে ব্যাটারির চার্জের পরিমাণ আগের মতোই রয়ে গেছে। কারণ সরবরাহ করা বিদ্যুতের পুরোটাই ব্যাটারিতে জমা না হয়ে সরাসরি ডিভাইসের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

২০২০ সালে বাজারে আসা ‘সনি এক্সপেরিয়া ১ টু’ ফোনে প্রথম ‘হিট সাপ্রেসন পাওয়ার কন্ট্রোল’ নামে বাইপাস চার্জিং প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়।

বর্তমানে স্যামসাং, গুগল, শাওমি ও জেডটিই’র মতো শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর আধুনিক স্মার্টফোনে এ সুবিধা রয়েছে। তবে অ্যাপলের আইফোনে এখনও সরাসরি এ প্রযুক্তি আসেনি।

বাইপাস চার্জিং না থাকলেও চার্জে থাকা অবস্থায় আইফোন ব্যবহার করলে চার্জিংয়ের গতি কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ব্যবহারকারী যদি খেয়াল করেন ফোনটি অতিরিক্ত গরম হচ্ছে তবে ব্যাটারির ক্ষতি এড়াতে তা সাময়িকভাবে ব্যবহার করা বন্ধ রাখাই শ্রেয়।

তবে বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টফোনেই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে উন্নত ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট ও ‘হিট ডিসেপেশন’ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ফলে চার্জে রেখে ফোন ব্যবহারে সার্বিক কোনো বড় ঝুঁকি না থাকলেও প্রয়োজন ছাড়া তা না করাই ভালো।

জরুরী প্রয়োজনে বার্তা পাঠানো, কল করা, ছবি তোলা বা পাওয়ার ব্যাংকে সংযোগ করে ভিডিও ধারণের মতো কাজে ফোন নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়। এতে স্বাভাবিক চার্জিংয়ের গতি কিছুটা কমলেও ব্যাটারির স্থায়ী ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা থাকে না।

ফোন চার্জিং নিয়ে অন্যান্য ভুল ধারণা

‘চার্জে রেখে ফোন ব্যবহার করা যাবে না’ ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানো সংক্রান্ত এ প্রচলিত ধারণা ভুল। এরকম আরেকটি বহুল প্রচলিত ধারণা হচ্ছে, সারারাত ফোন চার্জে দিয়ে রাখা অনুচিত।

সারারাত প্লাগে সংযোগ থাকলে সামান্য কিছু অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হলেও ফোনে ‘ওভারচার্জিং’ বা অতিরিক্ত চার্জড হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আধুনিক প্রায় সব স্মার্টফোনেই শতভাগ চার্জড হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার প্রযুক্তি থাকে। অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ঘুমানোর ও ওঠার অভ্যাসের সঙ্গে মিল রেখে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে শতভাগ চার্জ সম্পন্ন করে, যা ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

যেমন, কেউ যদি রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমায় তবে দেখা যায় রাতে হয়ত ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জড হওয়ার পর অপটিমাইজড চার্জিং ফিচারটি কাজ শুরু করে। ফলে বাকি চার্জ ধীরগতিতে হয়ে ঠিক সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময়ে ১০০ শতাংশ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া, রিচার্জ করার আগে ফোনের চার্জ একদম শূন্য বা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করারও কোনো প্রয়োজন নেই, বরং ব্যাটারির আয়ু বাড়াতে তা পুরোপুরি খালি হতে দেওয়ার চেয়ে চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে থাকতেই প্লাগড ইন বেশি কার্যকর।

মূল কথা

অতিরিক্ত গরম হওয়া ছাড়া চার্জিং অবস্থায় ফোন ব্যবহারে ব্যাটারির কোনো ক্ষতি হয় না। তবে খুব দ্রুত চার্জ করার প্রয়োজন থাকলে ওই সময় ফোন ব্যবহার না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।