সেকেন্ডে ২০০ কোটি ফ্রেম ধারণ করে এই ‘ক্যামেরা’
তাত্ত্বিকভাবে এমন এক সাধারণ ক্যামেরা তৈরি সম্ভব হলেও হেডেট বলেছেন, সাধারণ মানুষের গ্যারাজে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
এক বিজ্ঞানী ইউটিউবার এমন এক ক্যামেরা তৈরি করেছেন, যা প্রতি সেকেন্ডে দুইশো কোটি ফ্রেমের ভিডিও ধারণ করতে পারে বলে দাবি তার।
ইউটিউবে ‘আলফাফিনিক্স’ নামে ভিডিও তৈরি করেন ব্রায়ান হেডেট। তিনি নতুন একটি ভিডিওতে এমন এক ক্যামেরা দেখিয়েছেন, যা লেজার পয়েন্টারকে আলোর গতিতে ধারণ করতে পারে।
আগের ডিজাইনেরই উন্নত সংস্করণ এই ক্যামেরা, যা প্রতি সেকেন্ডে একশ কোটি ফ্রেম ধারণ করতে পারত। ক্যামেরাটিন সীমাবদ্ধতা হচ্ছে একবারে কেবল একটি পিক্সেলই ধারণ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
হেডেটের ক্যামেরাটি তৈরি হয়েছে একটি গিম্বল-মাউন্ট করা আয়ন, দুটি টিউব, একটি সাধারণ লেন্স, একটি লাইট সেন্সর ও কিছু পাইথন কোড দিয়ে, যা সবকিছুকে একসঙ্গে যোগ করেছে।
ক্যামেরাটিকে লেজার পয়েন্টের দিকে নির্দেশ করা হলে প্রতি সেকেন্ডে দুইশো কোটি ফ্রেমে আলো ধরতে পারে, যা দেখায় আলো কীভাবে বিভিন্ন আয়নের মধ্যে মসৃণভাবে চলাচল করছে এবং এর গতি ক্যামেরার লেজার পয়েন্টের সঙ্গে অবস্থানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হচ্ছে।
হেডেট বলেছেন, “এই ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেমে আলো প্রায় ছয় ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে। এ আলো মহাবিশ্বের গতি সীমা অনুসারে চলছে। কোনো পরিপ্রেক্ষিতে আলো কখনো এই গতির চেয়ে দ্রুত বা ধীরে চলতে পারে না।”
তাত্ত্বিকভাবে প্রতি সেকেন্ডে দুইশো কোটি ফ্রেম ধারণ করতে পারে এমন সাধারণ ক্যামেরা তৈরি সম্ভব হলেও হেডেট বলেছেন, সাধারণ মানুষের গ্যারাজে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে তা তৈরি করা সম্ভব নয়।
হেডেটের সমাধান ছিল একবারে একটি পিক্সেল ধারণ করা এবং পরে সেইসব ফুটেজ একত্র করে এমন কিছু তৈরি করা যা দেখা যায়। তিনি বলেছন, “সব ভিডিওকে যদি একসঙ্গে করা যায় এবং আমরা অনেক, অনেক, অনেক এক-পিক্সেলের ভিডিও নিই তবে সেগুলোকে পাশাপাশি সাজিয়ে একসঙ্গে চালালে আমরা এমন কিছু পেতে পারি, যা দেখতে ভিডিওর মতো মনে হয়।”
এ পদ্ধতিতে যে ভিডিও তৈরি হয়েছে তা আসল দুইশো কোটি ফ্রেম প্রতি সেকেন্ডের ক্যামেরার মতো না হলেও হেডেট বলছেন, “আসলে সেই আসল ক্যামেরা বানানো অনেক বেশি ব্যয়সাপেক্ষ’। এ ছাড়া “এটি আমাদের আরও ভালো ফলাফল দেবে না।”
