১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এয়ারপ্লেন মোডে চার্জ: কাজের কথা নাকি নিছক ভুল ধারণা?

কেবল দ্রুত চার্জ পাওয়ার উদ্দেশ্যে চার্জের পুরোটা সময় ফোনটিকে পুরোপুরি ব্যবহারের অযোগ্য করে রাখা আদৌ যুক্তিসঙ্গত কি না তা ভেবে দেখার বিষয়।

এয়ারপ্লেন মোডে চার্জ: কাজের কথা নাকি নিছক ভুল ধারণা?
বুদ্ধিটি আদৌ কোনো কাজে আসে কি না তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Aug 2026, 02:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

বিভিন্ন স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ আগের চেয়ে উন্নত হলেও ফোন দ্রুত চার্জিংয়ের উপায় খুঁজে নেওয়াটাও এখন নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিককালের ফোনগুলোতে তারওয়ালা ও তারহীন উভয় পদ্ধতিতেই বেশ দ্রুত চার্জ নেওয়ার সুবিধা রয়েছে।

তবে বিশেষ কোনো জরুরী প্রয়োজনে চার্জিংয়ের গতি এক ফোঁটা বাড়ানো গেলেও তা চেষ্টা করে দেখতে দোষ নেই। এমনই এক বহুল প্রচলিত ধারণা, ফোন চার্জে দেওয়ার সময় ‘এয়ারপ্লেন মোড’ চালু করে রাখা। বুদ্ধিটি আদৌ কোনো কাজে আসে কি না তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতে কি সত্যিই কোনো তফাত ঘটে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ, চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনটি ‘এয়ারপ্লেন মোডে’ রাখলে তা কিছুটা দ্রুত চার্জ হতে সাহায্য করে। তবে চার্জিংয়ের গতির এই পার্থক্য এতটাই নগণ্য যে চোখে পড়ার মতো নয়।

কেবল অল্প কিছুটা দ্রুত চার্জ পাওয়ার উদ্দেশ্যে চার্জের পুরোটা সময় ফোনটিকে পুরোপুরি ব্যবহারের অযোগ্য করে রাখা আদৌ যুক্তিসঙ্গত কি না তা ভেবে দেখার বিষয়।

এয়ারপ্লেন মোড আসলে কীভাবে কাজ করে?

নাম থেকেই বোঝা যায়, ‘এয়ারপ্লেন মোড’টি প্লেনে ব্যবহারের উপযোগী করেই তৈরি, যা সাময়িকভাবে ফোনের সব ধরনের বেতার যোগাযোগ বা ‘ওয়্যারলেস ট্র্যান্সমিশন’ যেমন সেলুলার নেটওয়ার্ক, ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ বন্ধ করে দেয়।

পাশাপাশি সব ধরনের নোটিফিকেশন ও ইন্টারনেটভিত্তিক কনটেন্ট দেখাও বন্ধ হয়ে যায়। উড্ডয়নকালে এয়ারলাইনের নিয়মকানুন মেনে চলতেই ফিচারটি ব্যবহৃত হয়।

তবে ফোন একদম বন্ধ না করেই যে কোনো নেটওয়ার্ক ও কল সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখতে বা কোনো রকম বিভ্রান্তি ছাড়া শান্ত থাকতেও অনেকে মোডটি ব্যবহার করেন। সে ক্ষেত্রে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা ‘ফোকাস মোড’ ব্যবহার করা বেশি যুক্তিসঙ্গত।

এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহারের আরেকটি পরোক্ষ সুবিধা হচ্ছে, ব্যাটারি বাঁচানো। যেমন, চার্জার ছাড়া কোথাও বের হলে বা ঘরে ফেরার পথে ফোনের ব্যাটারি শেষপর্যায়ে পৌঁছালে চার্জ ধরে রাখতে এয়ারপ্লেন মোড বেশ কার্যকর।

অন্যদিকে চার্জ করার সময় এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখলে ফোন নেটওয়ার্ক সিগনাল খোঁজা বন্ধ করে দেয়। তবে এতে চার্জিং সময়ের খুব বড় কোনো সাশ্রয় হয় না, যার জন্য ফোনকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

বিভিন্ন পরীক্ষায় উঠে এসেছে, চার্জিংয়ের সময় এয়ারপ্লেন মোড চালু রাখলে চার্জ পূর্ণ হওয়ার সময় কেবল চার থেকে ১১ মিনিট এগিয়ে আসে। পুরানো মডেলের ফোন বা বর্তমান আধুনিক ও কাযকর ব্যাটারির ফোন উভয় ক্ষেত্রেই এ হিসাব প্রায় একই।

ফলে খুব জরুরি মুহূর্তে বা দ্রুততম সময়ে সামান্য হলেও বেশি চার্জ পাওয়ার তাগিদ থাকলে মোডটি উপকারে আসতে পারে। তবে মাথায় রাখতে হবে, চার্জ চলাকালীন অফলাইন কাজ ছাড়া ফোনটি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

বিকল্প উপায় কী?

চার্জিংয়ের সর্বোচ্চ গতি পেতে চাইলে এয়ারপ্লেন মোডের ওপর ভরসা না করে ভালো মানের চার্জার অ্যাডাপ্টার বা পাওয়ার ব্লক ও কেবল ব্যবহার করাই আসল সমাধান।

বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনেই দ্রুত চার্জিং সুবিধা থাকে। তবে বাক্সের ভেতরে প্রায়শই সেই সক্ষমতার অ্যাডাপ্টার দেওয়া থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে তা আলাদা কিনতে হয়। যেমন, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৬ আল্ট্রা বা আইফোন ১৭ সিরিজের ফোনগুলোর বক্সে কোনো চার্জিং অ্যাডাপ্টারই থাকে না।

অথচ আইফোন ১৭ সিরিজের ফোনগুলোতে ৪০ ওয়াট পর্যন্ত দ্রুত চার্জিং সাপোর্ট করে এবং আইফোন এয়ার-এ ২০ ওয়াট। ফলে ফোনের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ চার্জিং স্পিড দেখে নিয়ে সেই অনুসারে শক্তিশালী পাওয়ার ব্লক কিনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফোন যদি ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি ‘চি টু’ সাপোর্ট করে তবে গতি বাড়াতে ‘চি টু’ মানের ওয়্যারলেস চার্জার ব্যবহার করতে পারেন।

এ ছাড়া, যে কোনো সাধারণ ‘ইউএসবি-এ’ থেকে ‘ইউএসবি-সি’ কেবল বদলে ‘ইউএসবি-সি’ থেকে ‘ইউএসবি-সি’ ফাস্ট-চার্জিং কেবল ব্যবহার করলে চার্জ দ্রুত হয়। কেবলের গুণমানও যেহেতু চার্জিং স্পিডে সরাসরি প্রভাব ফেলে ফলে সবসময় বিশ্বস্ত ও ভালো কোনো ব্র্যান্ডের চার্জিং কেবল ব্যবহার করা উচিত।

ছাড় দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়

চার্জে রাখা অবস্থায় ফোন ‘এয়ারপ্লেন মোড’-এ রাখলে বিশেষ কোনো সুবিধা মিলবে না ঠিকই। তবে এর ভালো দিক হচ্ছে, মোডটি ব্যবহারকারীকে ঘনঘন স্ক্রিন জ্বালিয়ে মেসেজ চেক করা বা সামাজিক মাধ্যম স্ক্রল করা থেকে বিরত রাখবে।

এয়ারপ্লেন মোড অন না করেও যদি চার্জিংয়ের সময় ফোন ব্যবহার করা বন্ধ রাখতে পারেন তাহলে ফোন দ্রুতই চার্জ হবে। কোনো দরকারি নোটিফিকেশন এলে তা স্ক্রিনের প্রিভিউতে বা স্মার্টওয়াচে দেখে নিন।

জরুরি কিছু না হলে ফোন আনলক করার দরকার নেই। কারণ, চার্জে থাকা অবস্থায় স্ক্রিনের আলো যত বেশি জ্বলবে ও ফোন যত বেশি ব্যবহার করবেন, চার্জিংয়ের গতি ততই ধীর হবে।

এয়ারপ্লেন মোড অন রাখা অবস্থায় যদি হঠাৎ কোনো জরুরি কল বা মেসেজ আসে? ব্যাটারির সামান্য সাশ্রয়ের জন্য এ ঝুঁকি নেওয়া একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ফলে চার্জিংয়ের সর্বোচ্চ গতি পেতে ভালো মানের কেবল ও শক্তিশালী অ্যাডাপ্টারে বিনিয়োগের পাশাপাশি ভালো পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখতে পারেন।

চার্জের জন্য এক ঘণ্টার মতো সময় ধরে ফোনকে অকেজো বা নিষ্ক্রিয় বানিয়ে রাখার চেয়ে সঙ্গে পাওয়ার ব্যাংক রাখা বেশি কার্যকর সমাধান।