১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতির বুলেট ট্রেন আনছে ব্রাজিল

গাড়ি বা বাসের তুলনায় রিও ডি জেনেইরো থেকে সাও পাওলো যেতে ব্রাজিলের নতুন এ বুলেট ট্রেনটির কেবল দুই ঘণ্টার কম সময় লাগবে।

ঘণ্টায় ৩২০ কিলোমিটার গতির বুলেট ট্রেন আনছে ব্রাজিল
ট্রেনটি ফ্রান্স ও জাপানসহ অন্যান্য দেশের উচ্চ-গতির ট্রেনের সমান। ছবি: ফ্রিপিক, এআই দিয়ে তৈরি।

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Nov 2025, 12:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:10 PM

আধুনিক ভ্রমণের যুগে যত দ্রুত সম্ভব গন্তব্যে পৌঁছাতে চান মানুষ। যার মধ্যে ট্রেনে ভ্রমণ অন্যতম, বিশেষ করে বুলেট ট্রেন, যা অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটতে পারে। প্রথমবারের মতো ব্রাজিলে শিগগিরই চালু হচ্ছে বুলেট ট্রেন, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার গতিতে চলবে।

এ গতির তুলনা বোঝাতে ধরে নেওয়া যাক আপনি ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেইরো থেকে সাও পাওলো যাচ্ছেন। সাধারণভাবে গাড়ি বা বাসে যেতে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে ব্রাজিলের নতুন বুলেট ট্রেন একই দূরত্ব কেবল দুই ঘণ্টার কম সময়ে পেরতে পারবে বলে প্রতিদেনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

ট্রেনটি ফ্রান্স ও জাপানসহ অন্যান্য দেশের উচ্চ-গতির ট্রেনের সমমানের, যেগুলো বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন। তবে ২০২৫ সালের শরতে চীনে পরীক্ষিত ট্রেনটির তুলনায় ধীরগতির হবে ব্রাজিলের এ ট্রেনটি। চীনের অত্যাধুনিক ‘সিআর৪৫০’ মডেলের ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ চারশ ৫৩ কিলোমিটার ছুঁয়েছিল।

ট্রেনটি বানাচ্ছে ব্রাজিলের কোম্পানি ‘টিএভি ব্রাজিল। কোম্পানিটির নেতৃত্বে রিও ডি জেনেইরো থেকে সাও পাওলো পর্যন্ত রুটটি ৪১৭ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে, পথে ব্রাজিলের শহর ভোলটা রেডোন্ডা ও সাও জোসে দোস কম্পোসে থামবে।

এসব বিদ্যুচ্চালিত বিভিন্ন ট্রেন বিশেষ এক রেলপথে চলবে, যা একই আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেটি বর্তমানে স্পেনের মতো দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্রেনটির জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ও প্রযুক্তিগত গবেষণা চলমান রয়েছে এবং এর কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের শেষের দিকে।

ব্রাজিলের নতুন বুলেট ট্রেন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি। তবে সবকিছু নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এগোলে ট্রেন ২০৩২ সালের মধ্যে রেলপথে ছুটতে শুরু করবে। ট্রেন চালু হলে তা ব্রাজিলের ঘনবসতিপূর্ণ হাইওয়ে ও বিভিন্ন বিমানবন্দরে চাপ কমাতে সাহায্য করবে। 

দেশটির ভেতর ভ্রমণকারীদের জন্য বড় সুবিধা দিলেও প্রকল্পটি বিতর্কের বাইরে নয়।

এক্ষেত্রে প্রথমেই রয়েছে এর খরচের বিষয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রকল্পে প্রায় ১১৩০ কোটি ডলার খরচ হবে। বেসরকারি অর্থায়নের উদ্যোগ হলেও বিভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হবে। পর্যাপ্ত অর্থ জোগাড় না হলে প্রকল্পটি বাধার মুখে পড়তে পারে।

বুলেট ট্রেন চালুর পর এর টিকিটের দাম বেশি হলে তা ব্রাজিলিয়ানদের হাইওয়ে বা প্লেনের মাধ্যমে ভ্রমণ করতে বাধ্য করতে পারে। প্রাথমিক অনুমান বলছে, টিকিটের দাম ৯৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া, ট্রেনের ধারণসক্ষমতা কত হবে তা এখনো অজানা। কারণ এ বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি টিএভি ব্রাজিল।

চীনের মতো অন্যান্য দেশে বুলেট ট্রেনের দিকে তাকালে সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যেখানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উচ্চ-গতির রেলপথ রয়েছে। কারণ চীনের এই সিস্টেমে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। 

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে, যাত্রীরা ট্রেনে ভ্রমণের জন্য যে অর্থ দিতেন তা সাধারণত মূল ঋণ কমাতে ব্যবহার হত না, কেবল সুদ পরিশোধের জন্যই হত। ব্রাজিলের বুলেট ট্রেনেও একই ধরনের সমস্যা হবে কি না তা এখনও দেখার বিষয়।