Published : 21 Sep 2022, 04:50 PM
সৌদি আরব স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন স্পেস ক্যাপসুলের দুটি আসনের ‘টিকেট কেটেছে’ বলে খবর রটেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সৌদি নভোচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ নিয়ে যাবে ইলন মাস্কের কোম্পানি।
সৌদি নভোচারীদের মহাকাশযাত্রা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে, সমঝোতা চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বছরের শুরুতেই হিউস্টনভিত্তিক ‘অ্যাক্সিওম স্পেস’-এর মাধ্যমে চুক্তি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
ব্যক্তিমালিকানাধীন পর্যায়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষক এবং পর্যটকদের জন্য মহাকাশযাত্রার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কাজটি করে অ্যাক্সিওম স্পেস। এ কোম্পানির মাধ্যমেই সৌদি আরব ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের দুটি আসনে বুকিং দিয়েছে বলে উঠে এসেছে রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
রয়টার্স আরও জানিয়েছে, কম-বেশি এক সপ্তাহ আইএসএসসে থাকবেন সৌদি নভোচারীরা। ব্যক্তিমালিকানাধীন মহাকাশ যানে চড়ে মহাকাশে যাওয়া প্রথম সৌদি নাগরিক হবেন তারা।
এ প্রসঙ্গে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি অ্যাক্সিওম; চেষ্টা করেও সৌদি আরবে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মহাকাশ গবেষণা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি রয়টার্স।
রয়টার্স বলছে, সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তির কারণে অভিনব এক ভূমিকায় আবির্ভূত হচ্ছে অ্যাক্সিওম। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মহাকাশ অভিযানের চুক্তির ক্ষেত্রে এতেদিন মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকা পালন করে এসেছে নাসা।
ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াইশ মাইল উচ্চতায় ভাসতে থাকা দুই দশকের পুরনো স্টেশনটির উদ্দেশ্যে যাত্রায় সৌদি নভোচারীদের দুই মার্কিন নভোচারী সঙ্গ দেবেন; ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে অবসারপ্রাপ্ত নাসা নভোচারী পেগি হুইটসন এবং রেসকার চালক জন শফনার থাকবেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছে গোপন সূত্র।
অ্যাক্সিওমের ব্যবস্থাপনায় দ্বিতীয় মিশন হবে ‘এএক্স-২’।
তবে, এএক্স-২ মিশনের নভোচারীরা এখনও নাসার নেতৃত্বাধীন প্যানেল থেকে অনুমোদন পায়নি। নাসা ছাড়াও আইএসএসের অংশীদার দেশ রাশিয়া, কানাডা, জাপান এবং ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রতিনিধিরা আছেন ওই প্যানেলে। তবে, সৌদি নভোচারীদের অনুদোমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলেই জানিয়েছে ওই সূত্র।
অ্যাক্সিওম নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রথম স্পেস মিশন পাঠিয়েছে এ বছরের এপ্রিল মাসেই। স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলের চার যাত্রীর মধ্যে ছিলেন একজন কানাডীয় বিনিয়োগকারী এবং একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী।
অন্যদিকে সোমবার তুরস্কের সঙ্গে নতুন চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। চুক্তির অংশ হিসেবে এএক্স-৩ মিশনে মহাকাশে যাবেন দেশটির দুই নভোচারী। সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ মহাকাশে যেতে পারে এএক্স-৩ মিশনটি।
সৌদি সরকারের সঙ্গে অ্যাক্সিওমের চুক্তির আর্থিক খুঁটিনাটি এখনও প্রকাশ পায়নি। তবে অ্যাক্সিওমের প্রথম মিশনে প্রতিটি ক্রু ড্রাগন আসনের খরচ ছিল সাড়ে পাঁচ কোটি ডলার।