অল্টম্যানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলা: যুবক গ্রেপ্তার
অল্টম্যানের বাসায় হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি কোম্পানিটির সদর দপ্তরেও অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়েছিল।
চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যানের স্যান ফ্রান্সিসকোর বাসায় পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অল্টম্যানের বাসায় হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি কোম্পানিটির সদর দপ্তরেও অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়েছিল। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
২০ বছর বয়সী ওই যুবক অল্টম্যানের বাড়িতে পেট্রোল বোমা বা মোলোটভ ককটেল ছুড়ে মেরেছিল। এ হামলায় তার বাড়ির সীমানা প্রাচীরের গেটে আগুন ধরে যায়।
শুক্রবার ভোরে শহরের নর্থ বিচ এলাকায় এ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছায় স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ।
স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ বিভাগ আক্রমণকারী যুবক বা বাড়ির পরিচয় নিশ্চিত না করলেও ওপেনএআইয়ের একজন মুখপাত্র শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ঘটনাটি অল্টম্যানের বাড়িতেই ঘটেছে। একই ব্যক্তি তাদের স্যান ফ্রান্সিসকো সদর দপ্তরেও হামলার হুমকি দিয়েছিল।
“তবে এ ঘটনায় সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশ দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহর কর্তৃপক্ষ যে সমর্থন দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”
পুলিশ বলেছে, অল্টম্যানের বাড়ির সামনে থেকে পুলিশ আসার আগেই ওই ব্যক্তি পালিয়ে গিয়েছিল। তবে এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সে ওপেনএআই অফিসের সামনে উপস্থিত হয়ে ‘ভবনটি পুড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেয়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্যান ফ্রান্সিসকো পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত ওই ব্যক্তি আটক ছিল কি না বা কখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে সে বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তারা বিষয়টিকে ‘চলমান ও সক্রিয় তদন্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অল্টম্যান একজন বিলিয়নেয়ার ও অনেকগুলো কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তার প্রধান বাসস্থান স্যান ফ্রান্সিসকোতেই। এখানেই ওপেনএআই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি এর সহপ্রতিষ্ঠাতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দুনিয়ার একজন শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে অল্টম্যান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও বিখ্যাত প্রযুক্তি নির্বাহীতে পরিণত হয়েছেন।
২০২২ সালের শেষদিকে তার কোম্পানির তৈরি চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি’র বাজারে আসার পর প্রযুক্তি শিল্পে বিপ্লব ঘটিয়েছে। ফলে এআইভিত্তিক নতুন টুল ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বর্তমানে এ খাতে প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে।
এআইয়ের সুদূরপ্রসারী প্রভাব এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
তবে ওপেনএআই দাবি করেছে, এ প্রযুক্তি বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণ হবে, বিশেষ করে এআই যত উন্নত এবং সব ধরনের কাজের উপযোগী হয়ে উঠবে ততই বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।
এ সপ্তাহের শুরুতে ওপেনএআই সরকারের জন্য কিছু নীতিমালার প্রস্তাব দিয়েছে, যা এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাবে এবং ‘মানুষকে প্রাধান্য’ দেবে।
এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কর্মীদের নতুন কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া, এআই টুলের দক্ষতা বাড়ানো ও বড় বিভিন্ন কর্পোরেট কোম্পানির ওপর কর বাড়ানো।
