১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গুগল আর্থ’-এ আসছে ‘ন্যানো ব্যানানা’ এআই ইমেইজ টুল

এ টুরের মাধ্যমে ইতিহাসের শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা ৭৮ খ্রিষ্টাব্দের পম্পেই নগরীর ধ্বংসাবশেষ দেখতে কেমন ছিল এর ‘হাইপার-রিয়ালিস্টিক’ ছবি তৈরি করে নিতে পারবেন

‘গুগল আর্থ’-এ আসছে ‘ন্যানো ব্যানানা’ এআই ইমেইজ টুল
গুগল আর্থের বিভিন্ন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে তথ্যচিত্র বা ইনফোগ্রাফিক বানিয়ে দিতে পারবে এই টুল। ছবি: গুগল

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 03:50 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের বাস্তব মানচিত্র দেখার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘গুগল আর্থ’-এ এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক ছবি তৈরির সরঞ্জাম ন্যানো ব্যানানা যোগ করার ঘোষণা দিয়েছে গুগল।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, মানচিত্রের একটি অ্যাপে এআই ইমেইজ জেনারেটরের প্রয়োজনীয়তা ঠিক কোথায়? এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্র সামনে এনেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি।

প্রথমত, ব্যবহারকারীদের ‘অতীতকে চোখে দেখার’ সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে এটাকে বাজারজাত করা হচ্ছে।

গুগলের ভাষ্য, ইতিহাসের শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা এ টুলের মাধ্যমে ৭৮ খ্রিষ্টাব্দের পম্পেই নগরীর ধ্বংসাবশেষ দেখতে কেমন ছিল এর ‘হাইপার-রিয়ালিস্টিক’ ছবি তৈরি করে নিতে পারবেন, অর্থাৎ বর্তমানের ধ্বংসাবশেষ মুহূর্তের মধ্যেই রূপান্তরিত হবে রোমান সাম্রাজ্যের এক ব্যস্ত ও বর্ণিল রাস্তায়।

এ ফিচার নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। দু’হাজার বছর আগে কোনো স্যাটেলাইট ক্যামেরা ছিল না। ফলে এআইয়ের তৈরি এসব ছবি অনুমানের ওপর নির্ভর করবে।

পাশাপাশি, প্রাথমিক উদাহরণ হিসেবে দেখানো এসব ছবিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের কাছে খুব বেশি নিখুঁত বা মানসম্মত মনে হয়নি।

দ্বিতীয়ত, কিছু নির্দিষ্ট পেশাদার কাজের ক্ষেত্রও তুলে ধরেছে গুগল। যেমন, রিয়াল এস্টেটের পেশাদার নকশা তৈরির কাজ। উদাহরণের মাধ্যমে গুগল দেখিয়েছে, টোকিও শহরের একটি ফাঁকা জায়গাকে কিভাবে এআই ব্যবহার করে ‘ঝকঝকে কেনাকাটার বাণিজ্যিক এলাকায়’ রূপ দেওয়া সম্ভব।

গুগলের দাবি, এর মাধ্যমে ক্লায়েন্টদের কোনো প্রজেক্টের সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সহজ হবে।

এক্ষেত্রে বড় কোনো অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিজস্ব আর্কিটেকচারাল রেন্ডারিংয়ের বদলে এআই দিয়ে জেনারেট করা সাধারণ ছবির ওপর মানুষ কতটা আস্থা রাখবে তা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

আগের বিভিন্ন ফিচারের পাশাপাশি যে কোনো নির্মাণকাজ শুরুর আগেই এর সম্ভাব্য একটি ছবি তুলে ধরার সক্ষমতার কথাও প্রচার করছে গুগল।

এক উদাহরণে গুগল দেখিয়েছে, কীভাবে প্ল্যাটফর্মটি মুহূর্তেই একটি লেকের পাড়ে পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় কাঁচামালে তৈরি ‘আধুনিক কেবিন’-এর ছবি তৈরি করে দেয়। দিনশেষে ফলাফলটি দেখতে অন্যান্য এআই-জেনারেটেড ঘরবাড়ির মতো সাধারণ ছবি ছাড়া তেমন ব্যতিক্রমী কিছু নয়।

এর বাইরে আরেকটি আকর্ষণীয় সংযোজন হচ্ছে, কাস্টম ‘ইনফোগ্রাফিক’ তৈরির সুবিধা। গুগল আর্থের বিভিন্ন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে তথ্যচিত্র বা ইনফোগ্রাফিক্স বানিয়ে দিতে পারবে এই টুল।

যেমন, ‘স্ট্যাচু অফ লিবার্টি’র কথা বলা যায়। মূর্তিটির উচ্চতা ও এর তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ এক ইনফোগ্রাফিক প্রস্তুত করেছে ন্যানো ব্যানানা।

এ সুবিধাটি বিশ্বের যে কোনো স্থানের ক্ষেত্রে কাজ করবে নাকি কেবল পরিচিত ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানের মধ্যেই সীমিত থাকবে সে বিষয়ে এখনও কিছু খোলসা করেনি গুগল। যেহেতু এসব তথ্য এআই তৈরি ফলে তথ্যের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

গুগল আর্থের নতুন এই ‘ন্যানো ব্যানানা’ ইন্টিগ্রেশন সুবিধাটি এরইমধ্যে সবার ব্যবহারের জন্য চালু করেছে কোম্পানিটি। যে কেউ চাইলে এখন সুবিধাটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। হয়ত হারিয়ে যাওয়া আটলান্টিস নগরী কেমন ছিল তারই এক রেন্ডার ছবি বানিয়ে ফেলা যাবে।