ক্রিপ্টো জালিয়াতি মামলায় অব্যাহতি পেলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় নতুন চালু হওয়া ‘লিব্রা’ নামের ক্রিপ্টো কয়েনের প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
ক্রিপ্টোকারেন্সি কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ও তার বোনের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি তদন্ত শেষ পর্যন্ত খারিজ করে দিয়েছে আদালত।
আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, কৌঁসুলিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মিলেই ও তার বোন কারিনা মিলের বিরুদ্ধে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ করেছেন ফেডারেল বিচারক মার্সেলো মার্টিনেজ দে জিওর্গি।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই সময় নতুন চালু হওয়া ‘লিব্রা’ নামের ক্রিপ্টো কয়েনের প্রচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ওই কয়েন নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পরই এর বাজারদরে ধস নেমেছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট মিলে দাবি করেছিলেন, ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম যখন ঊর্ধ্বমুখী ছিল, তখন তিনি সম্পূর্ণ ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ পোস্টটি করেছিলেন। পরবর্তীতে কয়েনটির দাম কমলে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
এ মামলা খারিজের বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি প্রেসিডেন্ট মিলেই।
মামলা খারিজের ব্যাখ্যায় বিচারক বলেছেন, “অভিযুক্ত ঘটনাগুলো কোনো আইনি ধারার আওতাভুক্ত নয়। এ ঘটনায় কোনো ধরনের ফৌজদারি অপরাধমূলক প্রতারণার প্রমাণ মেলেনি।”
মিলেই যখন সামাজিক মাধ্যম এক্সে ‘লিব্রা’ কয়েনটি নিয়ে পোস্ট করেন তখন থেকেই মূলত জালিয়াতির অভিযোগের সূত্রপাত হয়।
ওই সময় তিনি বলেছিলেন, কয়েনটি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও নতুন উদ্যোগ বা বিভিন্ন স্টার্টআপকে অর্থায়নে সহায়তা করবে।
এ ঘটনার জেরে কংগ্রেসের বিরোধীদলীয় সদস্যরা অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন। অন্যদিকে, অনলাইনে কেউ কেউ মিলেইকে ‘রাগ পুল’-এর সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযুক্ত করেছিলেন।
‘রাগ পুল’ এমন ধরনের প্রতারণা, যেখানে কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রণেতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করেন ও পরে লেনদেন বন্ধ করে বিক্রি থেকে তোলা অর্থ নিয়ে চম্পট দেন।
এ বিষয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “আমি এমন কিছুই প্রচার করিনি, আমি কেবল শেয়ার করেছিলাম।”
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, “লিব্রার উন্নয়নের সঙ্গে মিলের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন অফিস বিষয়টি খতিয়ে দেখবে যে, প্রেসিডেন্ট অনুপযোগী কোনো আচরণ করেছিলেন কি না।
এদিকে, ওই ক্রিপ্টো নিয়ে পোস্ট মুছে দেওয়ার পক্ষে মিলেই বলেছেন, ওই সময় ‘প্রকল্পটির বিশদ বিবরণ সম্পর্কে আমি জানতাম না ও তা জানার পরেই আমি এটার প্রচার চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম’।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মিলেই বলেছিলেন, যারা লিব্রাতে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা ‘স্বেচ্ছায়’ তা করেছিলেন ও এর ঝুঁকি সম্পর্কে তারা জানতেন।
