Published : 23 Aug 2025, 01:06 PM
মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগলের সঙ্গে ছয় বছরের জন্য এক হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটা।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়টির সঙ্গে জড়িত একটি সূত্র রয়টার্সকে এমন তথ্য জানিয়েছে। গুগলের জন্য এটি সাম্প্রতিক দ্বিতীয় বড় চুক্তি। এর আগে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআইয়ের সঙ্গেও মোটা অংকের চুক্তি করেছে মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি।
চুক্তির আলোচনা গোপন হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, চুক্তি অনুসারে গুগল ক্লাউডের সার্ভার, ডেটা সংরক্ষণ, নেটওয়ার্কিং ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ব্যবহার করবে মেটা।
তবে এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি দুটি।
এ চুক্তির খবর প্রথম প্রকাশ করে প্রযুক্তি ব্যবসাকেন্দ্রিক আমেরিকান প্রকাশনা ইনফরমেশন।
এর আগে, জুলাইয়ে ফেইসবুক প্রতিষ্ঠাতা ও মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেছিলেন, এআইনির্ভর অনেকগুলো বড় ডেটা সেন্টার বানাতে শত শত কোটি ডলার খরচ করবে তারা। তার এমন মন্তব্যের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ চুক্তির খবর এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
গত মাসে মেটার বার্ষিক খরচের পূর্বাভাসে উঠে এসেছে, আগের চেয়ে আরও বেশি অর্থ খরচের পরিকল্পনা করছে কোম্পানিটি।
মেটা বলেছে, খরচের সর্বনিম্ন সীমা দুইশো কোটি ডলার বাড়িয়ে এ বছর ছয় হাজার ছয়শ কোটি ডলার থেকে সাত হাজার দুইশো কোটি ডলার খরচ করতে পারে তারা।
এ মাসের শুরুতে সরকারের কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে ফেইসবুকের মূল কোম্পানিটি বলেছে, নিজেদের এআইকে শক্তিশালী করতে যে বিশাল কম্পিউটার ও ডেটা সেন্টার দরকার তার জন্য অন্য কোম্পানিদের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চায় মেটা। ফলে খরচ কমাতে প্রায় দুইশো কোটি ডলারের ডেটা সেন্টার সংশ্লিষ্ট সম্পদ বা যন্ত্রপাতি অন্যদের কাছে বিক্রি বা হস্তান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স লিখেছিল, বর্তমানে নিজেদের বিভিন্ন বড় এআই প্রজেক্ট চালানোর জন্য গুগল ক্লাউড ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই। ওই সময় বিষয়টি অনেককেই বিস্মিত করেছিল, কারণ এআই প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম বড় প্রতিযোগী ওপেনএআই ও গুগল দুটি কোম্পানিই।
এসব বড় চুক্তির মধ্যেই জুলাইয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে গুগলের মূল ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ, যেখানে তাদের আয় বেড়েছ প্রায় ৩২ শতাংশ, যা আগের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।