Published : 03 Sep 2026, 04:29 PM
নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাথমিক ও নিম্ন-মাধ্যমিক সরকারি স্কুলগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে এক বছরের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।
শ্রেণীকক্ষে প্রযুক্তি নির্ভরতা কমিয়ে মানবিক যোগাযোগ ও শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দেশটির বৃহত্তম এ স্কুল ডিস্ট্রিক্টে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া, যা মার্কিন জনপ্রতিনিধিদের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সর্বশেষ পদক্ষেপ বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
নিউ ইয়র্কের স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এ সিদ্ধান্তকে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এ পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর বা বিধিনিষেধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আওতায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষরার্থীরা পড়বে।
এদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ অন্যান্য বেশ কয়েকটি ডিস্ট্রিক্ট বলেছে, তারাও শ্রেণীকক্ষে এআই ব্যবহারের বর্তমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে দেখছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেছেন, শহরের ক্লাসরুমগুলোতে বর্তমানে সচল থাকা শিক্ষা-সংক্রান্ত প্রায় ৪০টি এআই টুলের ব্যবহার এ সিদ্ধান্তের ফলে অবিলম্বে স্থগিত হবে।
“শিশুদের শেখা ও স্বাভাবিক বিকাশের জন্য শিক্ষকের উপস্থিতি ও মানবিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। সহপাঠীদের সঙ্গে মিলে দক্ষতা বাড়ানো, শিক্ষকদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা ও নিজের শক্তিতে কঠিন সব সমস্যার মুখোমুখি হতে শেখাই তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি।”
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি যুক্তরাষ্ট্রে এআই নির্মাতা শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি গুগল, অ্যানথ্রপিক ও মাইক্রোসফট।
নিউ ইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ বিবৃতিতে বলেছে, এ নীতিমালার ফলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সরকারি বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ লাখ শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে এআই ব্যবহার করতে পারবে না।
তবে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা ও সময়সূচি তৈরির মতো দাপ্তরিক কাজে শিক্ষকদের এআই ব্যবহারের অনুমতি থাকছে।
এর আগে, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটি উন্মুক্ত হওয়ার পরপরই নিউ ইয়র্ক সিটির সরকারি বিভিন্ন স্কুলে এআই ব্যবহারের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়েছিল।
পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এর পরিবর্তে বিশেষায়িত এক এআইচালিত টিচিং অ্যাসিট্যান্ট চালু হয় বলে নিশ্চিত করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা কোম্পানি ওপেনএআইয়ের পার্টনার মাইক্রোসফট।