২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যে শত শত কনটেন্ট মডারেটর ছাঁটাই করছে টিকটক

এ ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে লন্ডনে অবস্থিত টিকটকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি বিভাগের কর্মীদের ওপর। এশিয়ার কর্মীরাও ছাঁটাইয়ের আওতায় আসবেন।

যুক্তরাজ্যে শত শত কনটেন্ট মডারেটর ছাঁটাই করছে টিকটক
কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে টিকটক। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2025, 04:50 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:38 PM

যুক্তরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখানো কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ বা মডারেশনের কাজ করছেন এমন শত শত কর্মীকে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে টিকটক।

টিকটক বলেছে, পরিকল্পনা অনুসারে কর্মী ছাঁটাই করা হলেও মডারেশনের কাজ বন্ধ হচ্ছে না। ইউরোপের অন্য অফিসে কাজ সরিয়ে নিচ্ছে তারা। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ কাজ আরও দ্রুত ও বড় পরিসরে করার চেষ্টা করছে প্লাটফর্মটি।

কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে টিকটকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “গত বছর আমরা যে পুনর্গঠন শুরু করেছি তা এখনও চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে আমাদের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি টিমের বৈশ্বিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা যায়। এরই অংশ হিসেবে অনেক জায়গায় না রেখে কিছু নির্দিষ্ট জায়গায় আমাদের কাজের কেন্দ্র গড়ে তুলছি।”

তবে ‘কমিউনিকেশন ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ বা সিডব্লিউইউ-এর একজন মুখপাত্র বলেছেন, টিকটকের এমন সিদ্ধান্ত ‘কর্মী ও জনসাধারণের নিরাপত্তার ওপর কর্পোরেট লোভই চাপিয়ে দিচ্ছে’।

সিডব্লিউইউ-এর জাতীয় প্রযুক্তি কর্মকর্তা জন চ্যাডফিল্ড বলেছেন, “টিকটকের কর্মীরা অনেক দিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, মানব মডারেশন টিম ছেঁটে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা অপরিপক্ব ও কাঁচা এআই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে বাস্তব জীবনে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে।”

তিনি আরও বলেছেন, এ ছাঁটাইয়ের ঘোষণা এমন সময়ে এল যখন ‘কোম্পানির কর্মীরা ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংগঠনের স্বীকৃতির জন্য ভোটের আয়োজন করছেন’, যার মাধ্যমে তারা আরও সুরক্ষা ও অধিকার পেতে পারতেন।

তবে টিকটক বলেছে, তারা কনটেন্ট মডারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি আরও উন্নত করতে চাইছে এবং ‘প্রযুক্তির অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে এর কার্যকারিতা ও এর গতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

এ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে লন্ডনে অবস্থিত টিকটকের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেইফটি বিভাগে কাজ করা কর্মীদের ওপর। একই বিভাগের শত শত কর্মী এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও রয়েছে, যারা এ ছাঁটাইয়ের আওতায় আসতে পারেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।

কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, যেমন– এআই ও মানব মডারেটরদের সমন্বয়ে কাজ করে টিকটক। কোম্পানির মতে, নিয়ম ভঙ্গ করা ৮৫ শতাংশ পোস্ট তাদের এআইনির্ভর স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম নিজে থেকেই সরিয়ে ফেলে।

টিকটক আরও বলেছে, এ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে প্লাটফর্মটি এমন সব ভয়ঙ্কর বা অস্বস্তিকর ভিডিও আগে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরিয়ে ফেলতে পারছে, যাতে মানুষকে সেগুলো না দেখতে হয়। আর এতে ব্যবহারকরীদের মানসিক চাপও কমে যাচ্ছে।

তবে ছাঁটাইকৃত কর্মীরা চাইলে টিকটকের অন্য পদে আবেদন করতে পারবেন এবং ওই পদের জন্য তারা যোগ্য হলে তবে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।