Published : 04 May 2026, 01:34 PM
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হাতে নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছে বিশ্বের নামী সব প্রযুক্তি কোম্পানি। এ তালিকায় নতুন করে নাম লিখিয়েছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস, মাইক্রোসফট ও এনভিডিয়া।
গোপন সামরিক নেটওয়ার্কে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে ‘এআই-প্রধান’ যুদ্ধশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে যুুক্তরাষ্ট্র, যা প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, এ তিন জায়ান্টের পাশাপাশি ‘রিফ্লেকশন এআই’ নামের আরও এক কোম্পানি পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তি করেছে।
এর মাধ্যমে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উচ্চ-নিরাপত্তাওয়ালা গোপন নেটওয়ার্কগুলোতে এখন থেকে বৈধ সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এসব শক্তিশালী এআই টুল ব্যবহৃত হবে।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগন বলেছে, “এসব চুক্তি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘এআই-প্রধান’ যুদ্ধশক্তিতে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে আরও বাড়িয়ে দেবে।”
এর আগে, ইলন মাস্কের এআই কোম্পানি এক্সএআই, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআই ও গুগলও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করেছিল। এখন নতুন এ চারটি কোম্পানিও সংস্থাটির সঙ্গে যোগ দিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেবল অ্যানথ্রপিক’ই বর্তমানে পেন্টাগনের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে নেই।
ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ অ্যানথ্রপিক’কে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
তিনি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, কোম্পানিটি যদি তাদের চ্যাটবট ক্লড-এর ওপর থেকে বিশেষ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা তুলে না নেয় তবে তাদেরকে ‘সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
অ্যানথ্রপিকের এসব সুরক্ষা ব্যবস্থা তাদের এআই’কে মার্কিন নাগরিকদের ওপর ব্যাপক নজরদারি চালানো বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মারণাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে বাধা দেয়।
অ্যানথ্রপিক হেগসেথের এ দাবি মেনে না নিলে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেই আদেশে বলা হয়, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব ধরনের ফেডারেল সংস্থাকে ক্লড ও অ্যানথ্রপিকের অন্যান্য পণ্য ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আইনি লড়াই চলছে।
প্রতিরক্ষা দপ্তরের এ দ্রুত এআই গ্রহণ এবং মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে নিজেদের পণ্য বিক্রির এ প্রতিযোগিতা প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত বলে উঠে এসেছে এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে।
তবে সামান্য স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, এআই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পেন্টাগনের এসব চুক্তিগুলো খুব একটা ভালোভাবে নিচ্ছে না মার্কিন নাগরিকরা।
বাজার বিশ্লেষণ ফার্ম ‘সেন্সর টাওয়ার’ এর তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে পেন্টাগনের সঙ্গে চুক্তির পর গত বছরের তুলনায় ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি আনইনস্টলের হার বিস্ময়করভাবে ৪১৩ শতাংশ বেড়েছে।