ট্যাবলেট বাদ দিয়ে কি ফোল্ডএবল ফোন বেছে নেওয়া উচিত?
ফোল্ডএবল ফোনের এখনও স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটের তুলনায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ, এর হার্ডওয়্যার।
বইয়ের মতো ভাঁজ করা যায় এমন ফোল্ডএবল ফোন ছোটখাটো ট্যাবলেটের সমান হওয়ার মতো যথেষ্ট বড় স্ক্রিন বা ডিসপ্লে দেয়। এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, এসব ফোন কি তবে ট্যাবলেটের জায়গা দখল করবে?
উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, সর্বশেষ আইপ্যাড মিনিতে রয়েছে ৮ দশমিক ৩ ইঞ্চির স্ক্রিন, যা পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড ও গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ আল্ট্রা’র চেয়ে কেবল ০ দশমিক ৩ ইঞ্চি বড়।
এ ছাড়া, ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির ‘আইফোন ডুও’ কিছুটা ছোট হলেও এই ব্যবধান খুবই সামান্য। অধিকাংশ মানুষ পকেটে বা ব্যাগে করে ছোট ট্যাবলেট বহন করেন না। কোনো ৮ ইঞ্চির ডিভাইস যদি ভাঁজ করে স্মার্টফোনের আকারে নিয়ে আসা যায় তবে বিষয়টি আলাদা।
এ সুবিধাই ট্যাবলেট বদলে ফোল্ডএবল ফোন ব্যবহারের পক্ষে সবচেয়ে জোরালো যুক্তি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
স্মার্টফোনে ব্যবহারকারী যেসব ফিচার ব্যবহার করেন সেগুলোর সবই এতে পাবেন ও যখনই বড় স্ক্রিনে ট্যাবলেটের মতো অভিজ্ঞতা পাওয়ার ইচ্ছা হবে তখন স্ক্রিনটি মেলে ধরতে পারবেন।
একটি ফোল্ডএবল ফোন মোবাইল ডেটা ব্যবহারের প্রক্রিয়াকেও সহজ করে তোলে। কারণ বাইরে চলাফেরার সময় ট্যাবলেটের পূর্ণ সুবিধা পেতে চাইলে বেশিরভাগ ট্যাবলেটের জন্যই আলাদা সেলুলার প্ল্যানের প্রয়োজন।
কারো যদি দ্বিতীয় কোনো প্ল্যান না থাকে তবে ফোনের হটস্পটের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হতে পারে।
ফোল্ডএবল ফোন এসব ব্যবহারকে একটিমাত্র ডিভাইসের মধ্যে নিয়ে আসে ও কাজ শেষে পকেটে রেখে দেওয়া যায়, যা নিখুঁত নয় ও সবকিছুর সার্বজনীন বিকল্পও নয়।
তবে বিশেষ করে চলার পথে সাধারণ ব্যবহারের জন্য ট্যাবলেট প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এটা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ কার্যকর।
বড় কাজ ও দীর্ঘসময়ের ব্যবহারের জন্য ট্যাবলেটই সেরা
ট্যাবলেট ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজের বড় অংশ জুড়ে থাকলে হিসাবটা আলাদা। ফোল্ডএবল ফোন একসঙ্গে দুটি বা বড় জোর তিনটি অ্যাপ ব্যবহার করে মাল্টিটাস্কিং ও পোর্টেবল বিনোদনের জন্য দারুণ।
এ ক্ষেত্রে, একটি ট্যাবলেট কাজের ক্ষেত্রে যে স্বস্তি ও বড় কাজের জায়গা বা ওয়ার্কস্পেস দেয় তার সঙ্গে এর তুলনা চলে না।
ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা বড় ক্যানভাসের প্রয়োজন হয় এমন কাজের জন্য তৈরি করা বিভিন্ন ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি প্রযোজ্য।
ফোল্ডএবল ফোন ট্যাবলেটের মতো প্রায় সব সহায়ক ডিভাইসের সঙ্গেই যোগ হতে পারে, যা প্রাথমিক কাজের জন্য সেগুলোকে বেশ ভালো ভ্রমণ উপযোগী হাতিয়ার করে তোলে।
তবে, এটা কখনও পুরোপুরি ‘ওয়ার্ক হর্স’ হওয়ার মতো নয়। ফোনটিকে ফুল-টাইম কাজের মেশিন হিসেবে ব্যবহার করলে এর ব্যাটারির ওপর বেশি চাপ পড়ে, যা বড় এক আপস। কারণ ফোনটিই আবার দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রধান ডিভাইস।
দামের বিষয়টিও বিবেচনা করার মতো। ফোল্ডএবল ফোন খুব একটা পকেট-বান্ধব নয়। পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড ও গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এর দাম বেশ চড়া। ফলে প্রয়োজন অনুসারে ফোন ও ট্যাবলেটকে একটি পণ্যে একত্র করতে গেলে আলাদা আলাদা ডিভাইস কেনার চেয়েও বেশি খরচ হতে পারে।
ফোল্ডএবল ফোনের অসুবিধাগুলো কী কী?
ফোল্ডএবল ফোনের এখনও স্মার্টফোন বা একটি ডেডিকেটেড ট্যাবলেটের তুলনায় বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ, এর হার্ডওয়্যার।
হিঞ্জ ও ফোল্ডিং ডিসপ্লে নিয়ে অনেক কথাই বলা হয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত এগুলো ডিভাইসের জটিলতা ও খরচ বাড়িয়ে দেয়। সঙ্গে যোগ হয় বাড়তি ক্ষতির ঝুঁকি।
দৈনন্দিন ব্যবহারে এর ডিজাইন কিছু ছোটখাটো নেতিবাচক দিকও তৈরি করে। এটা বেশি স্ক্রিন স্পেস বা বড় ডিসপ্লে দিলেও এর ফলে ডিভাইসটি আকারে ভারী ও স্থূল হয়ে পড়ে ও নির্দিষ্ট কিছু আলোতে এর ভেতরের স্ক্রিনের ভাঁজ দৃশ্যমান হয়।
ফোল্ডএবল ফোনগুলো দিন দিন আরও পাতলা ও হালকা হয়ে উঠলেও কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে এদের আরও কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে।
মাঝেমধ্যে সফটওয়্যারগত কিছু সীমাবদ্ধতাও দেখা যায়। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বড় স্ক্রিন ও স্প্লিট-স্ক্রিন মাল্টিটাস্কিং আগের চেয়ে ভালো সামলালেও মাঝেমধ্যে কিছু অ্যাপ আনফোল্ড করা বড় স্ক্রিনে সঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে না।
অনেক অ্যাপ কেবল একটা লম্বা লেআউটকে চওড়া প্যানেলে টেনে বসিয়ে দেয়, যার ফলাফল বেশ অদ্ভুত দেখায়।
ফোল্ডএবল ফোন প্রিমিয়াম মানের একটি সুবিধা। এগুলো প্রতিটি ফোন বা ট্যাবলেটের পুরোপুরি সার্বজনীন বিকল্প নয়। এগুলো ছোট ট্যাবলেটের কাজ বেশ ভালোভাবেই সামলে নিতে পারে তবে সে ক্ষেত্রে কিছু ছাড়ও দিতে হয়।
যারা নতুন কোনো ঝামেলা বা আপস করতে চান না ও কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ডিভাইস খুঁজছেন তাদের জন্য আলাদা ট্যাবলেট ব্যবহার করাই এখনও বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
