Published : 18 Aug 2026, 05:32 PM
আগামী বছর থেকে চীনে নিজেদের সব ধরনের পিক্সেল ডিভাইসের উৎপাদন পুরোপুরি গুটিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, সাম্প্রতিক সাফল্য ও নতুন পরিকল্পনাকে কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামসহ বিকল্প দেশগুলোতে উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তরের মতো বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।
জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গুগল ভিয়েতনাম ও ভারতে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেও তাদের বেশিরভাগ ডিভাইসের নির্মাণ কাজ এখনও চীনেই পরিচালিত হয়ে আসছে।
এবার সরবরাহকারীদের গুগল বলেছে, ২০২৭ সাল থেকে সব ধরনের পিক্সেল স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ ও ইয়ারবাড চীনের বাইরে উৎপাদিত হবে।
এর আগে, এ বছরের জানুয়ারিতে নিক্কেই এশিয়ার আলাদা এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, ভিয়েতনামে তাদের পরবর্তী ‘পিক্সেল ১১’ সিরিজের বিভিন্ন ডিভাইসের নকশা ও তৈরির কাজ সম্পন্ন করবে টেক জায়ান্টটি।
একেবারে নতুন স্থান থেকে উচ্চপ্রযুক্তির পিক্সেল ফোন তৈরির জন্য গুগলকে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে হয়েছে, যেখানে টেস্টিং ইকুইপমেন্ট ও আধুনিক যন্ত্রপাতি বসানো থেকে শুরু করে পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই ও ত্রুটিমুক্ত করার পেছনে বিপুল সময় ও অর্থ ঢালতে হয়েছে তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভিয়েতনামে পিক্সেল ফোনের এই পরীক্ষামূলক সাফল্যই গুগলের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়েছে।
স্মার্টফোনের মতো জটিল পণ্য যদি ভিয়েতনামে ভালো করে তৈরি করা সম্ভব হয় তবে স্মার্টওয়াচ বা ইয়ারবাডের মতো তুলনামূলক সহজ ডিভাইসের উৎপাদন প্রক্রিয়া সেখানে স্থানান্তর করা কেবল সময়ের ব্যাপার।
কারণ ইয়ারবাড বা ঘড়ির তুলনায় স্মার্টফোন তৈরির প্রযুক্তিগত বিভিন্ন ধাপ অনেক জটিল ও সংবেদনশীল।
এক সূত্রের বরাত দিয়ে জাপানি সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, অ্যাপলের মতো কোম্পানির তুলনায় গুগলের পক্ষে চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়া অনেকটাই সহজ হবে। কারণ চীনে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পিক্সেল ডিভাইস বিক্রি করে না তারা।
পাশাপাশি, বিশ্ববাজারে তাদের ফোন ব্যবহারের পরিসরও অ্যাপলের মতো খুব বড় নয়। ভিয়েতনামে স্যামসাং আগে থেকেই যেসব স্মার্টফোন সাপ্লাই চেইন ও অবকাঠামো গড়ে তুলেছে সেগুলোর সুবিধাও সহজেই কাজে লাগাতে পারছে গুগল।
সরবরাহকারীদের সূত্র বলছে, এ বছর পিক্সেল ফোনের সরবরাহ ৮ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে গুগলের।
২০১৫ সালে তাদের চালানের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউনিট। নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল জেমিনাইয়ের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়াতেই ফোনের উৎপাদন বাড়ানোর এই কৌশল নিয়েছে গুগল।
তবে মেমোরি যন্ত্রাংশের ক্রমাগত দামবৃদ্ধির প্রভাব এড়াতে কোম্পানিটি এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছে, যেখানে তাদের ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থার জন্য নির্ধারিত চিপের ক্রয়াদেশের সঙ্গেই ফোনের মেমোরি চিপের ক্রয়াদেশ যোগ করে একসঙ্গে কেনাকাটা করছে তারা।