১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌরজগতেই লুকিয়ে থাকতে পারে আরও এক গ্রহ

প্ল্যানেট ওয়াইয়ের অস্তিত্বের ধারণা সত্য হলে এর অর্থ এই নয় যে প্ল্যানেট এক্স নেই। সে ক্ষেত্রে সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা ১০টি পর্যন্ত হতে পারে।

সৌরজগতেই লুকিয়ে থাকতে পারে আরও এক গ্রহ
কাইপার বেল্ট হচ্ছে নেপচুনের বাইরে থাকা বরফাচ্ছাদিত বস্তু, গ্রহাণু ও বামন গ্রহের একটি বলয়। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Sep 2026, 06:05 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা নিয়ে এতদিনের ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। নেপচুনের বাইরের কাইপার বেল্টে পৃথিবীর আকারের একটি পাথুরে গ্রহ লুকিয়ে থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা সম্ভাব্য এই গ্রহটির নাম ‘প্ল্যানেট ওয়াই’ রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এমএসএন। কাইপার বেল্টের ৫০টি বস্তুর কক্ষপথ অস্বাভাবিকভাবে হেলে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর তারা সম্ভাব্য গ্রহটির অস্তিত্ব নিয়ে ধারণা পান।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ড. আমির সিরাজ বলেন, ‘‘আমরা এমন কিছু ব্যাখ্যা খুঁজতে শুরু করি, যেখানে কোনো গ্রহ ছাড়াই এই হেলে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু আমরা যা পেয়েছি, তাতে সেখানে আসলে একটি গ্রহ থাকা প্রয়োজন।’’

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘‘এই গবেষণাপত্র কোনো গ্রহ আবিষ্কারের কথা বলছে না। বরং এটি এমন একটি ধাঁধার সন্ধান দিয়েছে, যার সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে একটি গ্রহকে বিবেচনা করা যায়।’’

কাইপার বেল্ট হচ্ছে নেপচুনের বাইরে থাকা বরফাচ্ছাদিত বস্তু, গ্রহাণু ও বামন গ্রহের একটি বলয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সৌরজগতের আটটি গ্রহ তৈরির পর অবশিষ্ট বস্তু থেকেই এই অঞ্চল তৈরি হয়েছে।

এই অঞ্চলে কোনো গ্রহ থাকলেও সূর্য থেকে অনেক দূরে অবস্থানের কারণে সেখানে খুব কম আলো পৌঁছাবে। ফলে প্রচলিত দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে এমন গ্রহ সরাসরি দেখা অত্যন্ত কঠিন। তবে কোনো গ্রহ আশপাশের অন্য বস্তুর গতিপথে যে প্রভাব ফেলে, তা বিশ্লেষণ করে এর অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব।

সম্ভাব্য প্ল্যানেট ওয়াই পৃথিবী ও বুধের মধ্যবর্তী ভরের একটি পাথুরে গ্রহ হতে পারে। এটি পৃথিবীর তুলনায় সূর্য থেকে প্রায় ১০০ থেকে ২০০ গুণ দূরে অবস্থান করতে পারে।

২০১৬ সালে ক্যালটেকের জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাইক ব্রাউন ও কনস্টান্টিন বাতিগিন ‘নবম গ্রহ’ ধারণাটি সামনে আনেন। তাদের মতে, কাইপার বেল্টের কয়েকটি বস্তুর গতিপথ একটি বিশাল ও অনেক দূরের ‘প্ল্যানেট এক্স’-এর মহাকর্ষীয় প্রভাবের কারণে হতে পারে।

প্ল্যানেট ওয়াইয়ের সম্ভাব্য অবস্থান প্ল্যানেট এক্সের চেয়ে অনেকটা কাছে। ধারণা করা হয়, প্ল্যানেট এক্স পৃথিবীর তুলনায় সূর্য থেকে প্রায় ৪০০ গুণ দূরে কক্ষপথে ঘুরতে পারে এবং এর ভর পৃথিবীর প্রায় ১০ গুণ হতে পারে।

গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী, প্ল্যানেট ওয়াইয়ের কক্ষপথ সৌরজগতের প্রধান কক্ষপথের সমতল থেকে প্রায় ১০ ডিগ্রি হেলে থাকতে পারে। এই হেলে থাকা অবস্থানও গ্রহটিকে খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলবে।

তবে প্ল্যানেট ওয়াইয়ের অস্তিত্বের ধারণা সত্য হলে এর অর্থ এই নয় যে প্ল্যানেট এক্স নেই। সে ক্ষেত্রে সৌরজগতে গ্রহের সংখ্যা ১০টি পর্যন্ত হতে পারে। ড. সিরাজের আগের গবেষণা অনুযায়ী, সৌরজগতের একেবারে বাইরের অঞ্চলে আরও পাঁচটি পৃথিবীর মতো গ্রহ লুকিয়ে থাকার জায়গাও থাকতে পারে।

তবে এই হিসাব নিয়ে সব জ্যোতির্বিজ্ঞানী একমত নন। কানাডার ইউনিভার্সিটি অফ রেজিনার জ্যোতির্বিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামান্থা ললার সিএনএনকে বলেন, এই ফলাফল ‘‘চূড়ান্ত নয়’’।

তার মতে, কাইপার বেল্টের বস্তুগুলোর হেলে থাকা কক্ষপথের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে প্ল্যানেট ওয়াই। কিন্তু সরাসরি পর্যবেক্ষণ ছাড়া এর অস্তিত্বের শক্ত প্রমাণ নেই।

তবে সেই পরিস্থিতি শিগগিরই বদলাতে পারে। ভেরা রুবিন অবজারভেটরি এরইমধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আকাশের ছবি তুলতে শুরু করেছে।

আগামী এক দশকে এই মানমন্দির প্রতি রাতে আট থেকে ১২ ঘণ্টা আকাশ পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একটি করে ছবি তুলবে। এভাবে বারবার পুরো আকাশ স্ক্যান করার মাধ্যমে হাজার হাজার নতুন মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

প্ল্যানেট এক্স ও প্ল্যানেট ওয়াই সত্যিই সেখানে থাকলে এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সেগুলোর সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

ড. সিরাজ বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, মানমন্দিরটির কার্যক্রম শুরুর প্রথম দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে জানা যাবে। প্ল্যানেট ওয়াই যদি দূরবীক্ষণ যন্ত্রটির দেখার এলাকার মধ্যে থাকে, তাহলে এটি সরাসরি গ্রহটিকে খুঁজে বের করতে পারবে।’’