২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

এইসব কারণে ফোন কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়

সামাজিক মাধ্যমে এ কৌশলটিকে সহজ সমাধান হিসেবে শেয়ার করা হলেও বাস্তবে তা ব্যবহারকারীর ফোনটিকে স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিতে পারে।

এইসব কারণে ফোন কখনোই ফ্রিজে রাখা উচিত নয়
বাইরের তাপমাত্রা ও ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রার আকস্মিক পার্থক্যের কারণে ফোন ‘থার্মাল শক’-এর মুখে পড়ে। ছবি: এআই

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Aug 2026, 03:54 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ডিভাইসের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে অনেকেই স্মার্টফোন ঠান্ডা করতে রেফ্রিজারেটর বা সহজ ভাষায় ফ্রিজে রাখেন, যা ফোন ঠান্ডা করার বহুল প্রচলিত ও ভুল এক উপায়। এমন কাজ করা মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ কৌশলটি সহজ সমাধান হিসেবে শেয়ার করা হলেও বাস্তবে তা ব্যবহারকারীর ফোনটিকে স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

এদিকে, প্রযুক্তি সাইট ‘টেকস্পট’-এর প্রতিবেদন বলছে, ইউরোপের মোবাইল সারাইকারী দোকানগুলোতে ফ্রিজে রাখার কারণে নষ্ট হওয়া ফোন নিয়ে আসার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

কেন এটা বিপজ্জনক?

ফোন ফ্রিজে না রাখার প্রধান কারণ ‘কনডেনসেশন’ বা বাষ্প জমে পানি তৈরি হওয়া। ওভারহিট বা অতিরিক্ত গরমে ফোন ফ্রিজে রাখা হলে এর ভেতরের বাতাস ঠান্ডা হয়ে ভেতরের স্পর্শকাতর ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে পানির কণা জমাতে পারে।

আবার ঠান্ডা হওয়ার পর ফোনটি যখন বের করে বাইরের উষ্ণ বাতাসে আনা হয় তখন ডিভাইসের ভেতরে বাষ্প জমে পানি হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

ওয়াটার রেজিস্ট্যান্ট বা পানিনিরোধক ফোন হলেও এই সুরক্ষা কেবল বাইরের পানির জন্য প্রযোজ্য, ভেতরের যন্ত্রাংশে সরাসরি জমে থাকা পানির জন্য নয়।

এ ছাড়া বাইরের তাপমাত্রা ও ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রার আকস্মিক পার্থক্যের কারণে ফোন ‘থার্মাল শক’-এর মুখে পড়ে। তাপমাত্রা হুট করে বদলে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি ফোনের নানা ক্ষতি করতে পারে।

এতে লিথিয়াম ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে ব্যাটারি লাইফ দ্রুত নষ্ট হয়। পাশাপাশি ভেতরের যন্ত্রাংশ সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ডিসপ্লে বা স্ক্রিন ফেটেও যেতে পারে।

ফোন ঠান্ডা রাখার নিরাপদ উপায়

ফোনের ঝুঁকি না বাড়িয়ে গরমের দিনে ডিভাইস ঠান্ডা রাখার জন্য বেশ কিছু কার্যকর ও নিরাপদ উপায় রয়েছে। ভিডিও স্ট্রিম করা বা অতিরিক্ত গ্রাফিক্সওয়ালা গেইম খেলার মতো কাজ পরিহার করলে ফোনের ওপর থেকে চাপ কমে আসে, ফলে ফোন গরমও কম হয়।

ব্যাকগ্রাউন্ড বা পেছনে চলমান অ্যাপের কাজ কমাতে ফোনে ‘পাওয়ার সেইভিং মোড’ চালু করা যেতে পারে। ফোন যদি আগেই অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় তবে তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য এর পেছনের কাভার বা কেসটি খুলে ফেলা উচিত।

অনেক সময় মোবাইল কেস তাপরোধক হিসেবে কাজ করে ফোনের ভেতরের তাপ আটকে রাখে। তবে সব ধরনের কাভারই যে ক্ষতিকর তা নয়। বাতাস চলাচলের জন্য বিশেষ মেশ বা ছিদ্রওয়ালা কাভার তাপ আটকে রাখা কমাতে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত গরম ফোনের ক্ষেত্রে কাভারটি পুরোপুরি খুলে ফেলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। চরম গরম ও ঠান্ডা উভয় পরিস্থিতিতেই ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে ‘থার্মাল পাউচ’ বা ‘ম্যাগসেইফ’ প্রযুক্তিতে যোগ করা যায় এমন পোর্টেবল কুলিং ফ্যান ব্যবহৃত হতে পারে।

সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় প্রচণ্ড গরমে ফোন অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছু সময়ের জন্য তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং নিজের সঙ্গে কাটানো সময় উপভোগ করা।