১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই ও ক্লাউডের জোরে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে অ্যামাজন

২০২৪ সালের জুনে প্রথমবারের মতো ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় অ্যামাজন। এরপর কেবল দুই বছরের মধ্যে কোম্পানিটির বাজারদরে আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হল।

এআই ও ক্লাউডের জোরে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে অ্যামাজন
ক্লাউড সেবাই অ্যামাজনের আয়ের মূল চালিকাশক্তি। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 03:44 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জোয়ার আর ক্লাউড সেবার রেকর্ড প্রবৃদ্ধিতে ভর করে প্রথমবারের মতো তিন ট্রিলিয়ন বা তিন লাখ কোটি ডলারের ক্লাবে প্রবেশ করেছে মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন।

রয়টার্স লিখেছে, সোমবার শেয়ারবাজারে এই নতুন ইতিহাস গড়েছে কোম্পানিটি। এদিন লেনদেনের একপর্যায়ে অ্যামাজনের শেয়ার দর পাঁচ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ২৮৫ দশমিক ০১ ডলারে গিয়ে ঠেকে। এ বছরই কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ২৩ শতাংশের বেশি।

এর আগে, গেল সপ্তাহে গত চার বছরের মধ্যে নিজেদের সর্বোচ্চ ক্লাউড প্রবৃদ্ধির খবর জানিয়েছে ওয়াশিংটনের সিয়াটলভিত্তিক এ প্রযুক্তি জায়ান্ট। একইসঙ্গে কোম্পানিটি তাদের বার্ষিক মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছে।

এ ঘোষণার পরপরই শেয়ারবাজারে ২০১২ সালের এপ্রিলের পর একদিনে দর বৃদ্ধির নতুন রেকর্ড গড়েছিল কোম্পানিটি। 

ক্লাউড সেবাই অ্যামাজনের আয়ের মূল চালিকাশক্তি।

বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ‘নেশনওয়াইড’-এর প্রধান বাজার কৌশলবিদ মার্ক হ্যাকেট বলেছেন, “অ্যামাজন সম্ভবত এই মুহূর্তের বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে উপযোগী প্রতীক, যা একদিকে ভোক্তাদের কেনাকাটার গল্প, অন্যদিকে নতুন যুগের এআই বিপ্লবেরও গল্প।

“আয়ের আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশের আগে মূল সংশয় ছিল, বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্ট এআই খাতে বিনিয়োগের রাশ টেনে ধরছে কি না। তবে অ্যামাজন বা মাইক্রোসফটের পক্ষ থেকে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বিষয়টি পুরো শেয়ারবাজারের জন্যই ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।”

সোমবারে অ্যামাজনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের শেয়ারেও বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। এ দিন মেটা প্ল্যাটফর্মসের শেয়ার দর বেড়েছে ছয় শতাংশ, ওরাকলের পাঁচ শতাংশ, মাইক্রোসফটের চার শতাংশ এবং গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেটের শেয়ার দর বেড়েছে তিন দশমিক ছয় শতাংশ।

এর আগে, গেল সপ্তাহে মাইক্রোসফট বলেছে, ২০২৭ অর্থবছর পর্যন্ত তাদের নগদ অর্থপ্রবাহ বেশ ইতিবাচক থাকবে। একইসঙ্গে তাদের মূলধনী ব্যয় ওয়াল স্ট্রিটের অনুমানের চেয়ে কম হবে।

এ বার্তার পরপরই ২০০৮ সালের পর একদিনে শেয়ারের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি দেখেছিল মার্কিন সফটওয়্যার জায়ান্ট কোম্পানিটি।

মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন যখন এআই জোয়ারে ভাসছে তখন এআই খাতে শত শত কোটি ডলার ঢালতে গিয়ে নগদ অর্থের টানাপোড়েনে পড়েছে অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানি।

গত প্রান্তিকে টেসলা ও অ্যালফাবেট উভয় কোম্পানিই ঋণাত্মক অর্থপ্রবাহের মুখ দেখেছে। অ্যালফাবেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম। একই কারণে মেটা প্ল্যাটফর্মসের অর্থপ্রবাহ কমেছে প্রায় ৯১ শতাংশ।

প্রযুক্তি খাতের এ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘নেশনওয়াইড’-এর প্রধান বাজার কৌশলবিদ মার্ক হ্যাকেট বলেছেন, “আমরা ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন জোটের ভেতরে জয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখতে শুরু করেছি।

“দীর্ঘদিন ধরে এ সাত কোম্পানিকে একক এক বড় কোম্পানির মতো বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে গত সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতিতে প্রমাণ মিলেছে, বিনিয়োগকারীরা এখন এগুলোকে আলাদা আলাদা কোম্পানি হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। বাজারের ভারসাম্য ফিরে আসার জন্য এমনটা ইতিবাচক লক্ষণ।”

বাজারের এ ওঠানামার মধ্যেও বাজারদরে ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্লাবে অ্যামাজনের নাম যোগ হল। এর আগে, বিশ্ববাজারে কেবল অ্যাপল, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও এনভিডিয়া এই মাইলফলকে যেতে পেরেছে। এদের মধ্যে এনভিডিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

১৯৯৪ সালে জেফ বেজোসের হাতে প্রতিষ্ঠিত অ্যামাজনের জন্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সফরটি বেশ দ্রুতগতিরই ছিল। ২০২৪ সালের জুনে কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ২ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।

এরপর কেবল দুই বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তাদের বাজারমূল্যে আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তিভিত্তিক জোট ও পার্টনারশিপ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস বা এডব্লিউএস, বিশেষ করে ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও মেটার মতো শীর্ষ বিভিন্ন এআই কোম্পানির সঙ্গে ক্লাউড অবকাঠামো ও চিপ সরবরাহ চুক্তি তাদের এ প্রবৃদ্ধিতে মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।