Published : 31 Jul 2025, 06:26 PM
উৎক্ষেপণের এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশ অভিযানের প্রথম রকেট। এ ঘটনায় আশপাশে তৈরি হয়েছে বিশাল আকারের ধোঁয়ার কুণ্ডলি।
রকেটটি ভেঙে পড়লেও এটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও এক নতুন ইতিহাসের সূচনা। কারণ সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে রকেটটিকে ডিজাইন ও তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়া, যেটিকে তারা প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করেছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
‘এরিস’ নামের রকেটটি তৈরি করেছে গোল্ড কোস্টভিত্তিক কোম্পানি ‘গিলমোর স্পেস’। দীর্ঘদিন ধরে সঠিক আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষার পর বুধবার সকালে উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ‘বোয়েন অরবিটাল স্পেসপোর্ট’ থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে উৎক্ষেপিত হয় এটি।
রকেট কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টাটি আশপাশের পাহাড় থেকে আগ্রহী দর্শকরা সরাসরি দেখেছিলেন এবং ওই সময় তা লাইভ সম্প্রচার করছিলেন ‘অসিনাট’ নামে পরিচিত ইউটিউবার জোশ কিগানসহ অনেকে।
“ঠিক আছে, আমরা যাচ্ছি, আমরা যাচ্ছি, রকেটটি উপরে উঠছে!”— দুই দিন ধরে অপেক্ষার পর এভাবেই উত্তেজনায় নিঃশ্বাস বন্ধ করে বলছিলেন কিগান। তবে তার সেই উৎসবঘন মুহুর্ত বেশিক্ষণ টিকল না।
এরিস রকেটটি ভেঙে পড়লেও গিলমোর ও অস্ট্রেলিয়ার নবীন বিভিন্ন মহাকাশ কোম্পানি আশা করছে, এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রথম পদক্ষেপ এটি।
কিছুক্ষণ পর এক বিবৃতিতে গিলমোর স্পেস বলেছে, এরিস রকেটের এই ১৪ সেকেন্ডের উড়ান অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের সেই গুটিকয়েক দেশের কাতারে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল, যারা নিয়মিতভাবে মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ করছে।
“এটি ছিল আমাদের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে অপেক্ষার পর এই পরীক্ষা অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব মহাকাশ প্রযুক্তি গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ ও বড় অগ্রগতি বলে বিবেচিত হচ্ছে।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এ দলের সবাই নিরাপদ আছেন এবং দ্বিতীয় পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের জন্য উদ্দীপ্ত ও প্রস্তুতও রয়েছেন।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে কোম্পানিটির সিইও অ্যাডাম গিলমোর লিখেছেন, এই উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট তিনি।
“প্যাড থেকে নেমেছি, অবশ্যই আরও বেশি উড়ানের সময় পেলে বিষয়টি ভালো লাগত। তবে এটুকু নিয়েই আমি সন্তুষ্ট।”
২৩ মিটার উচ্চতা ও ৩০ টন ওজনের এ রকেটটি বিভিন্ন সেন্সরে ঢাকা ছিল। কুইন্সল্যান্ডভিত্তিক কোম্পানিটি আশা করছে, ভবিষ্যতের উৎক্ষেপণ প্রচেষ্টায় সাহায্য করবে এসব সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য।
মহাকাশ শিল্পে ভবিষ্যতের কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার জন্য শিক্ষা কর্মসূচি তৈরি করে ‘ওয়ান জায়েন্ট লিপ অস্ট্রেলিয়া ফাউন্ডেশন’। গিলমোর স্পেস-এর প্রচেষ্টাকে ‘অসাধারণ’ বলে বর্ণনা করে অভিনন্দন জানিয়েছে তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংস্থাটি লিখেছে, “শেখার একমাত্র পথ হলো এগিয়ে যাওয়া। আজ আমরা যা জানি তা গতকালের চেয়ে বেশি।”
মঙ্গলবার রকেট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিয়েছিল গিলমোর স্পেস। তবে বাতাস খুব তীব্র হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া, মে মাসেও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করেছিল কোম্পানিটি। কিন্তু পারেনি।
গত সপ্তাহে এরিস উৎক্ষেপণযানের জন্য অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছ থেকে ৫০ লাখ ডলার পেয়েছে গিলমোর স্পেস। যার মাধ্যমে নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মের তরল ইঞ্জিন উন্নয়নে কাজ করতে পারবে তারা।