মাস্কের প্রেমের সমাপ্তি হৃদয়হীনতায়: সাবেক প্রেমিকা
২০১৬ সালে তাদের পরিচয় এবং ২০২০ সালে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এক অভিনব সম্পর্কের পথে হাঁটেন।
শীর্ষ ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সর্বশেষ প্রেমের হঠাৎ ও আকস্মিক ইতি ঘটেছে। সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে এই বিচ্ছেদের কথা বলেছেন মাস্কের চার সন্তানের জননী ও অন্যতম শীর্ষ নির্বাহী শিভন জিলিস।
৪০ বছর বয়সি এ নারী নির্বাহী ৫৫ বছর বয়সি মার্কিন বিলিয়নেয়ার মাস্কের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড মিরর প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০১৬ সালে তাদের পরিচয় এবং ২০২০ সালে তারা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে এক অভিনব সম্পর্কের পথে গিয়েছেন, যেখানে তারা কেবল সন্তান জন্মদানের উদ্দেশ্যে শুক্রাণু দাতার চুক্তি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে রোমান্টিক সম্পর্কে রূপ নিয়েছে।
তাদের ঘরে মোট চারটি সন্তান রয়েছে। এ বছরের শুরুতে এ জুটিকে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
তবে সম্প্রতি শিভন জিলিস বলেছেন, গেল মাসের শেষদিকে স্পেসএক্স প্রধান মাস্ক নিজেই এই সম্পর্কের ইতি টেনেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স পোস্টে শিভন জিলিস লিখেছেন, “কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই কেবল এক সপ্তাহের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া ভীষণ কঠিন। তবে জীবনের বাস্তবতা কখনও কখনও এমনই হয়।
“তবে আমি আনন্দিত যে, আমি ইলনকে বোঝাতে পেরেছি গভীরভাবে বুঝে ওঠার অনুভূতি, যত্ন ও পরিচর্যা এবং স্থিতিশীলতা ও কোমলতার সঙ্গে শান্তিময় ভালোবাসার অভিজ্ঞতা কেমন হতে পারে।
“তার ছোটবেলার অস্থির জীবন, ভেতরের নানা মানসিক টানাপোড়েন ও মানবজাতির কল্যাণে তার অক্লান্ত সংগ্রামের কথা ভেবে আমি চেয়েছিলাম তিনি যেন এই দুনিয়ার সবচেয়ে গভীর ও নিরাপদ ভালোবাসার ছোঁয়া পান।
“আমি তা করতে পেরেছি ভেবে আমার মন তৃপ্তিতে ভরে আছে। আশা করি এর একটা ভালো প্রভাব সবসময় থাকবে। আমরা সবসময় তার জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় ছিলাম। তার বাকি কঠিন ও যুদ্ধংদেহী কর্মজীবনের বিপরীতে, যেখানে যুদ্ধ ছাড়া কিছু নেই।
“আমাদের পরিবেশটি সবসময় আনন্দ ও ভালোবাসায় ভরা থাকত। রণক্ষেত্র থেকে ফিরে এসে হৃদয় ও আত্মায় নতুন শক্তি পাওয়ার জন্য এটা ছিল তার এক পরম শান্তির জায়গা।
“নিরাপত্তা, শান্তি ও ভালোবাসার সেই প্রশান্তির আধার হয়ে থাকতে আমার খুব ভালো লাগত। মাস্ক যখনই মন খারাপ করে থাকতেন তার মুখে হাসি ফুটাতে পারাটাই আমার কাছে আনন্দের ছিল। আমি তাকে খুব মিস করব।”
শিভন আরও বলেছেন, ইলনকে ‘নিজের জীবনের চেয়েও বেশি’ ভালোবেসেছেন এবং তাদের একসঙ্গে থাকা সন্তানগুলোর জন্য তিনি ‘কৃতজ্ঞ’। মনে ভীষণ কষ্ট পেলেও তিনি এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ধরে রাখতে চান।
এক্স-এ শেয়ার করা এক টেক্সট বার্তার স্ক্রিনশটে শিভন বলেছেন, “আমি তাকে জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবেসেছি। তিনি আমাকে শত জন্মের সমান জ্ঞান দিয়েছেন ও আমার জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তুলেছেন।
“তাই হারানোর বেদনা অনেক। তবে সৌভাগ্যের বিষয় হলো আমরা আমাদের জীবনের চারটি সুন্দর ছোট্ট ভালোবাসার জন্ম দিতে পেরেছি। আমাদের সন্তানদের জন্য আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ, তারা আমার প্রতিটি দিনকে জীবনের সেরা দিনে পরিণত করে!
মাস্ক বিগত বছরগুলোতে মোট ১৪ জন সন্তানের জনক হয়েছেন। তবে তার প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার কেবল ১০ সপ্তাহের মাথায় আকস্মিকভাবে মারা যায়।
প্রথম স্ত্রী জাস্টিন মাস্কের সঙ্গে ছয়টি সন্তানের বাবা হয়েছেন মাস্ক। তাদের প্রথম সন্তানের মৃত্যুর পর আইভিএফ-এর সহায়তায় ২০০৪ সালে এই দম্পতির যমজ সন্তান ও ২০০৬ সালে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
২০২০ সালের মে মাসে মাস্ক ও তার সাবেক সঙ্গী গ্রিমস নিজেদের প্রথম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যার নাম ‘এক্স অ্যাশ এ-১২’। পরবর্তীতে তাদের ঘরে এক্সা ডার্ক সিডরাইল ও টেকনো মেকানিকাস নামের আরও দুই সন্তান আসে।
মাস্ক নিজের ব্রেইন চিপ কোম্পানি নিউরোলিংকের শীর্ষ নির্বাহী শিভন জিলিসের সঙ্গেও যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজিউরের বাবা। ২০২১ সালের নভেম্বরে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। এরপর এই জুটির ঘরে আর্কেডিয়া ও সেলোডন লাইকারগাস নামের সন্তান আসে।
২০২৪ সালে প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্ব অ্যাশলি সেইন্ট ক্লেয়ার দাবি করেন, তিনি মাস্কের ১৩তম সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
পরবর্তীতে তিনি আদালতের মাধ্যমে তাদের ছেলের (আদালতের নথিতে যার নাম ‘আর.এস.সি’) সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব ও মাস্ককে পিতৃত্বের পরীক্ষা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছেন। পরবর্তীতে শিশুটির নাম ‘রোমুলাস’ বলে প্রকাশ পায়।
