'চীনে ডেটা শেয়ারিং শঙ্কায়' ক্রাফটনের গেইম বন্ধ ভারতে

নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনও কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়নি ভারত সরকার। তবে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে গেইমের অ্যাপটি দেখা যায়নি।

প্রযুক্তি ডেস্ক
Published : 30 July 2022, 12:48 PM
Updated : 30 July 2022, 12:49 PM

দক্ষিণ কোরিয়ার গেইম নির্মাতা ক্রাফটন ইনকর্পোরেটেডের জনপ্রিয় ব্যাটল-রয়াল গেইমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতীয় সরকার, যার কারণ হিসেবে চীনে ডেটা শেয়ারিং ও মাইনিং শঙ্কার কথা উল্লেখ করেছে দেশটি।

গেইমটির নাম ‘ব্যাটলগ্রাউন্ডস মোবাইল ইন্ডিয়া (বিজিএমআই)’।

জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ভারতের আইটি আইনের বরাতে ‘বিজিএমআই’ গেইমে নয়া দিল্লি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারী কর্মকর্তা ও এ বিষয় সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। এ লক্ষেই ২০২০ সালে আইন তৈরি করেছিল ভারত যার আশ্রয়ে সে সময় চীনের অন্যান্য অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়েছিল দেশটিতে।

এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনও কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেয়নি ভারত সরকার। তবে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে গেইমের অ্যাপটি দেখা যায়নি।

নিষেধাজ্ঞায় আক্রান্ত ‘বিজিএমআই’ গেইমের প্রায় ১০ কোটি গেইমার রয়েছেন ভারতে। ২০২০ সালে ক্রাফটনের আরেকটি টাইটেল ‘প্লেয়ার আননোন’স ব্যাটলগ্রাউন্ডস (পাবজি)’ গেইমেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি।

‘পাবজি’র নিষেধাজ্ঞা নয়াদিল্লির দেওয়া একশটির বেশি চীন ভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ নিষেধাজ্ঞার অংশ ছিল। পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাসব্যাপী সামরিক উত্তেজন চলছিল সে সময়।

এই নিষেধাজ্ঞার ব্যাপ্তি আরও বেড়ে তিনশটির বেশি অ্যাপ পর্যন্ত পৌঁছে, যার মধ্যে আছে সিংগারপুরের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘সি লিমিটেড’-এর তৈরি জনপ্রিয় গেইমিং অ্যাপ ‘ফ্রি ফায়ার’।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফাইলিং অনুযায়ী, মার্চের শেষ নাগাদ নির্মাতা কোম্পানি ক্রাফটনের সাড়ে ১৩ শতাংশের মালিকানা নিয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান টেনসেন্ট।

শুক্রবার ক্রাফটনের শেয়ারমূল্য কমে গিয়েছিল ৯ শতাংশেরও বেশি। পরবর্তীতে সিউলে অবশ্য চার দশমিক পাঁচ শতাংশ লোকসান নিয়ে দিন শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি বলেছিল, এই বছরের প্রথম প্রান্তিকে ভারত থেকে এক অঙ্কে প্রকাশযোগ্য উচ্চ শতাংশের আয় আসবে তাদের।

টেনসেন্ট হোল্ডিংসের শেয়ারমূল্য কমেছে ৪.৯ শতাংশ, যা ১৫ মার্চের পর থেকে তাদের সর্বনিম্ন মূল্য।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে গুগলের এক মুখপাত্র বলেছেন, সরকারী নির্দেশের পর তারা গেইমটিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে রয়টার্স ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও অ্যাপলের মন্তব্য জানতে চাইলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর মেলেনি। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট সূত্ররাও নিজেদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছা দেখিয়েছেন কারণ, এই ধরনের নির্দেশ সাধারণত প্রকাশ্যে আসে না।

এই বিষয়ে রয়টার্স নয়াদিল্লির চীনা দূতাবাসে যোগাযোগ করলে সেখান থেকেও কোনো উত্তর মেলেনি।

সিউলে ক্রাফটনের এক মুখপাত্র বলেছেন, ভারতে এই পরিস্থিতির আসল কারণ খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলছেন তারা।

এই সপ্তাহের শুরুতে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টেকক্রাঞ্চকে ক্রাফটনের ভারতীয় অংশের সিইও শন হিউনিল সোন বলেছেন, ভারতীয় সরকার এর আগেই যাচাই করেছে যে পাবজি ও বিজিএমআই দুটো আলাদা গেইম।

তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের সকল নীতিমালাই মেনে চলে বিজিএমআই।

চীনের প্রভাব

ভারত নিজেদের আইটি আইনে একটি ধারা যোগ করেছে যা ‘৬৯এ’ নামে পরিচিত। --রয়টার্সকে বলেছে এই বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জনসাধারণের কনটেন্ট অ্যাক্সেস ব্লক করায় সরকারকে অনুমতি দেয় এই ধারা। আর এই ধারার অধীনে জারি করা সকল আদেশ সাধারণত গোপনীয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

‘স্বদেশি জাগরণ মঞ্চ (এসজেএম)’ এবং অলাভজনক সংস্থা ‘প্রহর’ সরকারকে ক্রমাগত বিজিএমআই গেইমে চীনের প্রভাবের বিষয়টি নিয়ে তদন্তের কথা জানিয়ে আসছিল।

এই নিষেধাজ্ঞার কারণে টুইটার ও ইউটিউব সহ জোরালো অনলাইন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় গেইমাররা।

“আমার প্রত্যাশা, আমাদের সরকার যেন বুঝতে পারে যে হাজার হাজার ইস্পোর্টস অ্যাথলেট, কনটেন্ট নির্মাতা ও তাদের জীবন নির্ভর করে বিজিএমআই-এর ওপর।” --টুইট করেছেন আভিজিত আন্ধারে, একজন টুইটার ব্যবহারকারী যার অনুসারী সংখ্যা লাখের কাছাকাছি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক