গত নভেম্বরে টিকটকে শুরু হওয়া ঝগড়ার জেরে এক টিনএজার আরেক টিনএজারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।
Published : 08 Mar 2025, 12:02 PM
শিশুদের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে এক বছরের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ আলবেনিয়া।
জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্মটি শিশুদের মধ্যে সহিংসতা ও বুলিয়িং উস্কে দিচ্ছে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দেশটির মন্ত্রিসভা অ্যাপটি নিষিদ্ধের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
গত নভেম্বরে টিকটকে শুরু হওয়া ঝগড়ার জেরে এক টিনএজার আরেক টিনএজারকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনার পরই এমন পদক্ষেপ নিলো আলবেনিয়ার সরকার।
শিক্ষামন্ত্রী ওগের্তা মানাস্তিরলিউ বলেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে প্রায় ৬৫ হাজার আলবেনিয়ান অভিভাবকের সঙ্গে এক হাজার তিনশটি বৈঠক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এসব অভিভাবকেরাই “টিকটক বন্ধ বা এর ব্যবহার সীমিত” করার পক্ষে সুপারিশ করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের টিকটক ব্যবহারে মা বাবার নিয়ন্ত্রণ, বয়স যাচাইকরণ ও অ্যাপটিতে আলবেনীয় ভাষা অন্তর্ভুক্তির মতো নির্দিষ্ট কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা যোগ করা নিয়ে টিকটকের সঙ্গে আলোচনা করছে দেশটির শিক্ষা বিভাগ।
আলবেনিয়া সরকারের এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি টিকটক।
বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী এডি রামা বলেছেন, টিকটকের সঙ্গে “ইতিবাচক আলোচনা” করেছেন তারা। শিগগিরই “শিশুদের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ” নিতে দেশটি সফর করবে কোম্পানির প্রতিনিধিরা।
টিকটক বলেছে, ছুরিকাঘাতে টিনএজার হত্যাকাণ্ডে অপরাধী বা ভুক্তভোগীর টিকটক অ্যাকাউন্ট ছিল এমন কোনও প্রমাণ পায়নি তারা। একাধিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করেছে, ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ভিডিও টিকটক নয়, বরং পোস্ট হয়েছিল অন্য প্ল্যাটফর্মে।
এদিকে, গবেষকরা বলছেন, দেশটিতে টিকটক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দল হচ্ছে আলবেনীয় শিশুরা।
ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কনটেন্ট দেখে স্কুলে ছুরি নিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হচ্ছে শিশুরা বা টিকটকে দেখা গল্পের মাধ্যমে হয়রানির ঘটনা ঘটছে এমন খবর প্রচার হওয়ার পর আলবেনীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগের পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
এজন্য কিছু স্কুলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়িয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য এ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’সহ অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে আলবেনিয়া সরকার।