২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

‘জ্বালানি খরচ বৃদ্ধিতে’ লাফার্জহোলসিমের মুনাফা কমেছে ২১%

বছরের প্রথম নয় মাসে নিট বিক্রি ৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩০১ কোটি ৬০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Oct 2026, 12:33 AM

Updated : 20 Oct 2026, 12:33 AM

‘জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে’ মুনাফা ২১ শতাংশের মতো কমে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে সিমেন্ট খাতের বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি চলতি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম।

২০২৫ সালের এই নয় মাসে নিট মুনাফার অঙ্ক ছিল ৩৫৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটি সোমবার তাদের সর্বশেষে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠিয়েছে তারা।

এতে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) নিট বিক্রি ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৩০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা হয়েছে। কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ এবং বিশেষায়িত পণ্যগুলোর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

২০২৫ সালের এই নয় মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

তবে এই নয় মাসে কর পূর্ববর্তী পরিচালন মুনাফা ৪২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা থেকে কমে ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ।

“একই সময়ে জ্বালানি এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে কর পরবর্তী মুনাফা (নিট মুনাফা) ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ২৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা হয়েছে।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোম্পানির অ্যাগ্রিগেটস ব্যবসা নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সন্তোষজনক মুনাফা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামগ্রিক ফলে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল চৌধুরীর বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতায় ব্যয় বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক মন্দায় চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দক্ষ পরিচালনার মাধ্যমে গত নয় মাসে ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

“সামষ্টিক অর্থনৈতিক এই মন্দা মুনাফার ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও, আমাদের বিশেষায়িত পণ্য যেমন—হোলসিম ওয়াটার প্রোটেক্ট, সুপারক্রিট প্লাস এবং কোস্টাল গার্ড শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যা বাজারে আমাদের শীর্ষস্থান ও আমাদের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে।

তিনি বলেন, “লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ‘জিওসাইকেল’ সাফল্য অর্জন করেছে।

“জিওসাইকেলের মাধ্যমে আমরা প্রথম নয় মাসে ৩১ হাজার টনের বেশি পুনর্ব্যবহার-অযোগ্য বর্জ্য কো-প্রসেস করেছি এবং প্রায় ১০ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচালন দক্ষতা উভয়কেই গতিশীল করেছি।

তিনি বলেন, “বর্তমান বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলায় আমরা কঠোর ব্যয়-সংকোচন নীতি এবং কৌশলগত মূল্য নির্ধারণ অব্যহত রেখেছি।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে শেয়ার প্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ কমে ২ টাকা ৪১ পয়সা হয়েছে। গত বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ছয় পয়সা।

“সামগ্রিক মুনাফা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল উচ্চ জ্বালানি খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি।”

লাফার্জহোলসিম পরিচালনা পর্ষদ জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের জন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০ শতাংশ হারে ১ টাকা অন্তবর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। এ হিসাবে ১১৬ কোটি টাকা অন্তবর্তীকালীন নগদ লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হবে।