Published : 30 Jul 2026, 10:28 PM
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি চলতি বছরের ছয় মাসে প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ৮ টাকা ১৮ পয়সা লোকসান গুনেছে। এসময়ে ব্যাংকটির মোট লোকসান হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংকটি এর মধ্যে সবশেষ তিন মাসে লোকসান গুনেছে ১ হাজার ১৮ কোটি টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে ব্যাংকটির ছয় মাসের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।
বিশাল এ লোকসানের বিষয়ে ব্যাংকটি ডিএসইর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বলেছে, আমানতের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধ, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ ও অন্য ব্যাংকের প্লেসমেন্ট থেকে আয় কমে যাওয়া দায়ী।
ব্যাংকটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্বক ৮ টাকা ১৮ পয়সা; অর্থাৎ প্রতি শেয়ারের বিপরীতে এ পরিমাণ লোকসান হয়েছে। আগের বছরের এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪২ পয়সা।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার সংখ্যা হচ্ছে ১৬০ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৮টি। সে হিসাবে লোকসান হয়েছে ১ হাজার ৩১৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
সবশেষ প্রান্তিকে (এপ্রিল থেকে জুন) ব্যাংকটি শেয়ারপ্রতি লোকসান গুণেছে ৬ টাকা ৩৯ পয়সা। এ হিসাবে আলোচিত সময়ে লোকসান হয় ১ হাজার ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের বছরের এ সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয় ২৪ পয়সা।
অর্ধবার্ষিকীতে শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ (এনওসিপি) হয়েছে ৯ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছরের এ সময়ে ছিল ১৭ টাকা ৬৮ পয়সা।
ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নগদ অর্থের প্রবাহ কমে যাওয়ার জন্য প্রধান দায়ী করা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) আমানত কমে যাওয়াকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে ইসলামী ব্যাংকে চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমকে দায়িত্ব দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গ্রাহকদের নামে একটি অংশ আন্দোলনে নামে। তখন কিছু আমানতকারী আমানত তুলে নিতে শুরু করলে তারল্য সংকটে পড়ে ব্যাংকটি।
সেই আন্দোলনের মধ্যে সংসদে আলোচনা ও বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে পুরো পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক একজন কর্মকর্তাকে পর্ষদ দেখভাগের দায়িত্ব দেয়।