১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে বড় পতন, ডিএসইএক্স কমল ৯৭ পয়েন্ট

ডিএসইতে অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি লেনদেন নেমেছে ৫৭১ কোটি টাকায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 06:25 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:59 AM

সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আবারও বড় পতন হয়েছে। 

রোববার দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৯৬ দশমিক ৬১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে নেমেছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৫১৫ দশমিক ১৬ পয়েন্ট।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে বড় ধরনের সূচক পতন হয়েছিল। সেদিন ডিএসইএক্স ১০৩ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৫৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্টে নেমেছিল।

রোববার লেনদেনের শুরুতে সূচক কিছুটা বাড়লেও ১০ মিনিটের মধ্যে পতন শুরু হয়। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ডিএসইএক্স। 

এদিন ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫৪৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ব্লক মার্কেটেও লেনদেন কমে ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় নেমেছে।

বিনিয়োগ সংকটের কারণে বাজারে লেনদেনের গতি কমেছে বলে মনে করছেন ব্যক্তি পর্যায়ের বিনিয়োগকারী আনিছুর রহমান।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ছয় মাস আগেও শুনেছি বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার দেশে আসবে। তারা নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। নির্বাচনের পর তো ছয় মাস পার হল, এখনো কোনো বিনিয়োগকারী আসেনি। বাজারে নতুন বিনিয়োগ নাই। কতদিন আর পুরোনো বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করবে।”

অন্যদিকে, লেনদেন খরা ও সূচকের পতনের পেছনে জ্বালানি সংকটেরও প্রভাব দেখছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত কয়েক মাসে জেড শ্রেণির শেয়ার লেনদেন বেশি হয়। এগুলো তো এত বেশি দর বাড়ার কথা না। সেগুলো তো এখন পড়বেই।”

মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর সাধারণত ধীরে পরিবর্তিত হয়। এ কারণে এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফার আশায় জেড শ্রেণির শেয়ারে কেনাবেচা করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ ধরনের লেনদেন যে টেকসই নয়, সে কথা তুলে ধরে সাইফুল ইসলাম বলেন, “বাজারের তো সাপোর্ট নেই। এখন তো স্থায়ীভাবে কিছু ভালো শেয়ার দরকার। এর সঙ্গে তো জাতীয় অর্থনীতিও ভালো হওয়া দরকার।”

নির্বাচনের আগে ও পরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনেও বড় ওঠানামা দেখা যায়। নির্বাচনের পর ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টানা তিন দিন ডিএসইতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়।

এরপর ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ডিএসইতে দৈনিক লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়নি। তবে ৮ এপ্রিল লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৯৯২ কোটি টাকা।

ঈদের ছুটি শেষে কয়েক দিন লেনদেন আবার ১ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি ওঠে। জুনের বেশিরভাগ সময়ও লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ছিল। জুলাই ও অগাস্টে অবশ্য মাঝে মাঝে ওই মাত্রায় লেনদেন হয়েছে।

এরপর গত এক সপ্তাহে লেনদেন ৬০০ কোটি টাকার নিচে নেমে আসে। রোববার হাতবদল হয় ৫৭১ কোটি টাকার শেয়ার।

রোববার ডিএসইতে ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ২৭টির, কমেছে ৩৩৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল বস্ত্র, বিমা ও ব্যাংক খাতের শেয়ারের।

দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের। এরপর ছিল ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে ক্লোজিং প্রাইসের হিসাবে সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানির তালিকায় ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স ও আমরা টেকনোলজিস।