কঙ্গো গোলরক্ষকের অনিয়ম জেনেও ফিফার বিরুদ্ধে নীরব থাকার অভিযোগ
লিওনেল এমপাসির ফেডারেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে পেয়েও চুপ ছিল ফিফা, দাবি নাইজেরিয়ান ফুটবলের সাবেক সভাপতির।
নিয়ম মানেননি ডিআর কঙ্গো গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি, তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফিফার বিরুদ্ধে। নাইজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম মুসা গুসাউয়ের দাবি, বড় সংকট তৈরি হওয়ার ভয়ে নীরব থেকেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।
২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর বিশ্বকাপের আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্লে-অফে কঙ্গোর মুখোমুখি হয় নাইজেরিয়া। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা।
ওই ম্যাচের পর কঙ্গোর বিরুদ্ধে নিয়ম ভেঙে কোনো এক খেলোয়াড়কে খেলানোর অভিযোগ তুলে ফিফার কাছে আপিল করে নাইজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে ফিফা প্রথমে জানায়, ওই খেলোয়াড়কে খেলানোয় কোনো সমস্যা নেই।
তবে তদন্তের সময় ফ্রান্সের যুব দলের হয়ে খেলা এমপাসির ফেডারেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনিয়ম খুঁজে পায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
ওই পরিস্থিতিতে নাইজেরিয়াকে জয়ী ঘোষণা করা, জরিমানা করা, আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে কঙ্গোর জায়গায় নাইজেরিয়াকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারত ফিফা। কিন্তু কোনো ধরনের পদক্ষেপই নেয়নি তারা। ফিফার যুক্তি ছিল, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর নাইজেরিয়া অভিযোগ করেছিল।
ওই সময়ে নাইজেরিয়ান ফুটবল প্রধানের দায়িত্বে থাকা ইব্রাহিম ‘দা নিউইয়র্ক টাইমস’-কে বলেন, আনুষ্ঠানিক কারণ দেখিয়ে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে দেয় ফিফা। তবে এমপাসির খেলার যোগ্যতা নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত কী ছিল, সে বিষয়ে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
“ফিফা শুধু নীরব থেকেছে এবং কাউকে কিছু বলেনি, কারণ তারা জানত, এটা বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।”
কঙ্গোর বিপক্ষে ওই হার নাড়িয়ে দেয় নাইজেরিয়ান ফুটবলকে। যার জেরে বোর্ডের আরও কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে ইব্রাহিমকেও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রটি তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখেছে, তারা যে নথিপত্র হাতে পেয়েছে, সেগুলো ইব্রাহিমের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ভেরোঁ মোসেংগো-ওমবার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ফিফার সাবেক ক্যামেরুনিয়ান কর্মকর্তা প্রিন্স জেলকিফলি রাহমান এনগুফোনজা।
“ফিফা যদি কঙ্গোকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিত, তাহলে আফ্রিকা থেকে তাদের সমর্থন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারত। টিকে থাকতে ইনফান্তিনোর আফ্রিকাকে প্রয়োজন। আফ্রিকায় সদস্য হারানোর সামর্থ্য তার নেই।”
তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লেও, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল পর্বেও খেলেন এমপাসি। দলের চারটি ম্যাচেই মাঠে নামেন তিনি। আফ্রিকার দলটির নকআউট পর্বে ওঠার পথে রাখেন বড় ভূমিকা।
