১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেসির অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের সুন্দর শেষ দেখার অপেক্ষায় লিনেকার

ইংলিশ গ্রেট লিনেকারের দেখা সেরা ফুটবলার আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Dec 2022, 01:39 PM

Updated : 18 Dec 2022, 01:39 PM

গ্যারি লিনেকার অনেকবারই বলেছেন, লিওনেল মেসির প্রতি মুগ্ধতা, তাকে ঘিরে মোহাবিষ্ট থাকার কথা। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আরও একবার আর্জেন্টাইন মহাতারকার গুনগান শোনা গেল ইংলিশ গ্রেটের কণ্ঠে। বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মাধ্যমে মেসির অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের রঙিন সমাপ্তি দেখতে চান তিনি।

লুসাইল স্টেডিয়ামের ফাইনাল দিয়ে শেষ হবে মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায়। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রোববার ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি।

কাতার আসরই তার শেষ বিশ্বকাপ, টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ইঙ্গিত দেওয়া মেসি সেমি-ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর পর নিশ্চিত করে দেন সেটা। মেসির শেষটা আলো ঝলমলে হোক, অনেকের মতো চান ১৯৮৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৬ গোল করে ‘গোল্ডেন শু’ জেতা লিনেকার।

চলতি আসরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন মেসি। বয়স ৩৫ হলেও মাঠে যেন তরুণদের মতোই খেলে যাচ্ছেন তিনি। উপহার দিচ্ছেন জাদুকরী সব মুহূর্ত। এরই মধ্যে ৬ ম্যাচে গোল করে ফেলেছেন পাঁচটি। সতীর্থদের তিনটি গোলে রেখেছেন অবদান। দুটিই এবারের বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

পাঁচ গোল আছে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেরও। গোল্ডেন বুট এই দুইজনের যে কেউ নিতে পারেন। তবে গোল্ডেন বল জেতার জন্য মেসিকেই এগিয়ে রাখছেন লিনেকার।

“এমবাপে ফাইনালে হ্যাটট্রিক কিংবা অসাধারণ কিছু না করলে, আমার মনে হয় গোল্ডেন বল মেসি জিতবে। আর গোল্ডেন বুট, এটা সমানে-সমান অবস্থানে, একটি গোলেই মেসি বা এমবাপে এটা জিততে পারে।”

রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলেছেন মেসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ১১ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। কাতারে তার পারফরম্যান্স আরও একবার মন জয় করে নিয়েছে লিনেকারের। তবে গোল কিংবা অ্যাসিস্টের জন্য নয়, মেসিকে ভালো লাগার আরও কারণ ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার।

“পিএসজিতে দারুণ ফর্মে থেকে সে এই টুর্নামেন্টে এসেছে। শ্বাসরুদ্ধকর কিছু মুহূর্ত উপহার দিয়েছে-মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত সেই গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওই অ্যাসিস্ট, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যান অব ম্যাচ, আর অবশ্যই সেমি-ফাইনালে তৃতীয় গোলের সময় অসাধারণ সেই অ্যাসিস্ট।”

“তবে মেসিকে ভালোলাগার কারণ কেবল তার অ্যাসিস্ট বা গোল নয়। ছোট ছোট আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা লোকে বোধহয় সেভাবে খেয়াল করে না। তাকে যখন তিন-চারজন আটকে রাখে, হুট করে সে ওই জায়গা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে নেয়…আমার মনে হয় এটাই মেসিকে সবার থেকে আলাদা করে।”

ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের খেলা খুব একটা দেখা হয়নি ৬২ বছর বয়সী লিনেকারের। তবে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনার সঙ্গে একই বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি, ১৯৮৬ আসরে। সেবার লিনেকার সর্বোচ্চ গোল করলেও ইংল্যান্ডকে শিরোপা জেতাতে পারেননি। একক নৈপুণ্যে মারাদোনা আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছিলেন তাদের দ্বিতীয় ও সবশেষ বিশ্বকাপ।

তবে জীবদ্দশায় দেখা লিনেকারের সেরা খেলোয়াড় মেসি। মারাদোনার চেয়েও তার চোখে এগিয়ে মেসি। তুলে ধরলেন এর কারণ।

“যার খেলা নিজে দেখা হয়, তাকে নিয়ে কেবল কথা বলা যায়। যেহেতু আমি অনেক ছোট ছিলাম, তাই পেলের খেলা তেমন দেখিনি। তবে আমার দেখা কেবল দিয়েগো মারাদোনাকে নিয়ে তুলনা করা যায়, তিনি এমন কিছু করেছেন, যা অন্য কেউ পারেনি। গোলের পরিসংখ্যান দিয়ে খেলোয়াড়দের তুলনা করতে পারেন-অবশ্যই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো দারুণ ফুটবলার। তবে যা মেসিকে এমনকি সেরা খেলোয়াড়দের থেকেও আলাদা করে তা হলো, এমন কাজ করার তার সামর্থ্য আছে যা অন্যরা পারে না। মারাদোনাই একমাত্র যিনি এমনটা করতে পেরেছেন। তবে মেসির মতো লম্বা সময় ধরে করেননি। এখানেই সম্ভবত মেসি এগিয়ে যায়।”

বিশ্বকাপ না জিতলেও মেসিকে নিয়ে লিনেকারের ভাবনায় একটু বদল আসবে না। তবে তার চাওয়া, এবার বিশ্বকাপটা উঠুক সময়ের সেরা এই ফুটবলারের হাতে।

“হ্যাঁ, আমি গভীরে চিন্তা করি। তার ক্যারিয়ার অনেক বেশি উপভোগ করেছি। স্রেফ তার জন্য, আমি এটা (আর্জেন্টিনার জয়) দেখতে চাই, কারণ সে এই খেলাটিকে অনেক কিছু দিয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে সে আমাকে আনন্দ দিয়ে গেছে। আমি তার শতশত ম্যাচ দেখেছি। এমন কোনো ম্যাচ নেই, এমনকি তার খারাপ দিনেও, যেখানে সে তেমন কিছু করেনি তবুও আমার মনে হয়নি যে, সে এটা কীভাবে করলে?”

“আমার মনে হয়, দারুণ একটি ম্যাচ হবে। ফ্রান্স খুবই ভালো দল। আমি মনে করি না, মেসি না জিতলে তাকে নিয়ে আমাদের ভাবনায় সেটা প্রভাব ফেলবে। তবে যদি সে জিতে, এটি হবে সবচেয়ে অবিশ্বাস্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর সমাপ্তি।”