হলান্ডের জোড়া গোল, ম্যানচেস্টার সিটির সাতে সাত
তৃতীয়বার জালে বল পাঠিয়েও হ্যাটট্রিক পাননি আর্লিং হলান্ড।
অনেকদিন পর গোলের দেখা পেলেন ফিল ফোডেন, যদিও সেই ব্যবধান দুই মিনিটও স্থায়ী হলো না। এরপর দলকে আবার পথ দেখালেন আর্লিং হলান্ড। শেষ সময়ে আরেকটি গোল শোধ করে নাটকীয়তা জাগাল ইপ্সউইচ টাউন, তবে সম্ভাব্য ফল বদলাল না। প্রিমিয়ার লিগে শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখল ম্যানচেস্টার সিটি।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে সিটি। টানা সপ্তম জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে তারা।
সাত জয়ে সিটির পয়েন্ট হলো ২১। এক ম্যাচ কম খেলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আর্সেনাল।
প্রিমিয়ার লিগের আইন ভাঙার দায়ে অভিযুক্ত হয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে আছে সিটি। এই কঠিন সময়ে সমর্থকদের পাশে থাকতে ম্যাচের আগে বিশেষ বার্তা দেন কোচ এন্টসো মারেস্কা।
তার চাওয়াই যেন ফুটে ওঠে গ্যালারিতে, সিটি সমর্থকদের হাতে শোভা পায় হলুদ রঙের কলা আকৃতির বেলুন। ম্যাচ শুরুর আগে প্রিমিয়ার লিগের জাতীয় উদ্বোধনী সঙ্গীত বেজে উঠতেই হাজারো সিটি সমর্থক দুয়ো দেয়, এরপরই তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়- সিটি, সিটি, সিটি।
প্রত্যাশিতভাবেই আক্রমণাত্মক শুরু করে সিটি এবং দ্রুত গোলও পেয়ে যায় তারা। ১৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে জেরেমি ডোকুর পাস ডি-বক্সের মাঝামাঝি পেয়ে, প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের চ্যালেঞ্জের মুখে দারুণ ফ্লিক শটে দলকে এগিয়ে নেন ফোডেন।
চলতি মৌসুমে এটাই তার প্রথম গোল। আর প্রিমিয়ার লিগে ১০ মাস পর এবং এই বছরে প্রথম জালের দেখা পেলেন তিনি।
দুই মিনিটের মধ্যেই দারুণ নৈপুণ্যে পাল্টা জবাব দেন দাইজেন মায়েদা। বল দখলের লড়াইয়ে ডিফেন্ডার মার্ক গেয়িকে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন জাপানিজ ফরোয়ার্ড।
দারুণ ছন্দে ছুটে চলা হলান্ডের নৈপুণ্যে ৩৪তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় সিটি। ডান দিকে একজনকে কাটিয়ে মাতেও কোভিসিচ ক্রস বাড়ান, আর প্রায় ১০ গজ দূর থেকে হেডে গোলটি করেন নরওয়ের তারকা।
প্রিমিয়ার লিগে এই নিয়ে টানা ছয় ও সব মিলিয়ে সিটির হয়ে টানা আট ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হলান্ড।
বিরতির পরও একইরকম চাপ ধরে রেখে ৬৯তম মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় সিটি। ইলিমান এনদিয়াইয়ের থ্রু পাস শুরুতে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি হলান্ড, তবে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের দুর্বলতায় তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
এবারের লিগে হলান্ডের গোল হলো আটটি, মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২টি।
নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট হয় সিটির। হলান্ডের পাস পেয়ে এন্সো ফের্নান্দেসের নেওয়া শট রুখে দেন গোলরক্ষক, এরপর হলান্ডের হেডপাস পেয়ে এনদিয়াইয়ের প্রচেষ্টা লাগে ক্রসবারে। সবশেষে, ফের্নান্দেসের বাড়ানো বল জোরাল ভলিতে জালে পাঠান হলান্ড; কিন্তু এ যাত্রায় অফসাইডে ছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার ফের্নান্দেস।
ওই গোল মিসের হতাশা খানিক পরই দ্বিগুণ হয় সিটির। ডি-বক্সে ঘানার উইঙ্গার আব্দুল ফাতাউকে ডিফেন্ডার গেয়ি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সফরকারী। সোজাসুজি জোরাল স্পট কিকে রোমাঞ্চ ছড়ান জিয়ান ফ্লেমিং।
যোগ করা সময় দেওয়া হয় ১২ মিনিট। তাই ম্যাচের নতুন মোড় নেওয়ার সময় যথেষ্টই ছিল, তবে ইপ্সউইচ আর পারেনি তেমন কিছু করতে।
সাত ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দশম স্থানে আছে ইপ্সউইচ।
