সিটিতে থেকে সময় ‘নষ্ট করতে চাননি’ স্টার্লিং

ম্যানচেস্টার সিটিতে যতটা না নেতা হতে পেরেছিলেন, তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রত্যাশা নিয়েই চেলসিতে পাড়ি দিয়েছেন স্টার্লিং।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 August 2022, 06:19 PM
Updated : 11 August 2022, 06:19 PM

সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন রাহিম স্টার্লিং। সাফল্যের চূড়ায় উঠতে উজাড় করে দিতে চান নিজেকে। ম্যানচেস্টার সিটিতে সেই সুযোগ সীমিত হয়ে আসছিল। বিষয়টা মনে নাড়া দিতেই আর সময় নষ্ট করতে চাননি তিনি।

সাত বছর সিটিতে কাটিয়ে এবারের গ্রীষ্মের দলবদলে স্টার্লিং পাড়ি জমান চেলসিতে। তাকে পেতে ৫ কোটি পাউন্ড খরচ লন্ডনের দলটির।

কিন্তু যেখানে এত এত সাফল্য পেয়েছেন, সেই সিটি কেন ছাড়লেন স্টার্লিং? বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই কারণ জানালেন ২৭ বছর বয়সী ফুটবলার।

“১৭ বছর বয়স থেকে আমি শুরুর একাদশে নিয়মিত খেলি এবং ক্যারিয়ারের চূড়ায় পৌঁছাতে নিয়মিত খেলতে না পারার বিষয়টি মানতে পারব না।”

“আমার ব্যক্তিত্ব হলো লড়াই করা এবং দৃশ্যপট পরিবর্তনের চেষ্টা করা। কিন্তু সেটা হচ্ছিল না, আর এটাই (ক্লাব বদলের) কারণ।”

২০১০ সালে ওয়েস্ট লন্ডনের ক্লাব কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের একাডেমি থেকে লিভারপুলে যোগ দেন স্টার্লিং। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে অ্যানফিল্ডের মূল দলে নিয়মিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১৫ সালে চার কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দেন সিটিতে।

ম্যানচেস্টারের ক্লাবটির হয়ে চারটি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছেন স্টার্লিং। লিগ কাপ জিতেছেন পাঁচ বার। একবার জিতেছেন এফএ কাপ শিরোপা। তবে জেতা হয়নি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠলেও চেলসির কাছে হেরে যায় সিটি। সেই ম্যাচে সিটির শুরুর একাদশেই ছিলেন স্টার্লিং। তবে এরপর ধীরে ধীরে একাদশে তার পাকা জায়গা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। দলটির সবশেষ ১৩ নকআউট ম্যাচের মাত্র পাঁচটিতে শুরু একাদশে সুযোগ পান তিনি।

২০১৮-১৯ মৌসুম থেকে প্রিমিয়ার লিগে তার শুরুর একাদশে থাকার ম্যাচ সংখ্যা কেবলই কমেছে। সবশেষ মৌসুমে সংখ্যাটা মাত্র ২৩।

১৭ বছর বয়সে লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে অভিষেকের পর শীর্ষ স্তরে সব মিলিয়ে ৪৬৯ ম্যাচে খেলেছেন স্টার্লিং। ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ৭৭ ম্যাচ। তবে সিটিতে যতটা না নেতা হতে পেরেছেন, তার চেয়ে বেশি কিছুর প্রত্যাশা নিয়েই চেলসিতে পাড়ি দিয়েছেন স্টার্লিং।

“ব্যক্তি হিসেবে সবাই কিছু অর্জন করার চেষ্টা করে। শেষ দিকে আমার মনে হচ্ছিল, বিভিন্ন কারণে সিটিতে আমার খেলার সময় কমে আসছিল। এই সময়টা হারানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আমার আগের মতো একই ধাপে থাকার এবং নতুন চ্যালেঞ্জ বেছে নেওয়া প্রয়োজন ছিল।”

নতুন চ্যালেঞ্জ কতটা উতরাতে পারবেন স্টার্লিং, তা বলবে সময়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক