ভুটান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক, চান সাবিনাও!

সেমি-ফাইনালের আগে বরাবরের মতোই আত্মবিশ্বাস ঝরল বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের কণ্ঠে।

কাঠমান্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Sept 2022, 01:20 PM
Updated : 15 Sept 2022, 01:20 PM

মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ ও ভুটানের প্রথম দেখা ২০১০ সালে। লাল-সবুজ জার্সিধারীদের জয় আকাশচুম্বি ৯-০ ব্যবধানে। ২০১২ এবং সবশেষ ২০১৯ সালে মুখোমুখিতেও জয়ের হাসি বাংলাদেশের। স্কোরলাইন যথাক্রমে ১-০ ও ২-০। এই পরিসংখ্যান এক পাশে রেখে ভুটান অধিনায়ক গালেই ওয়াঙ্গমোর হুঁশিয়ারি-এবারের ম্যাচ একপেশে হবে না। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের কথায় বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের জবাবও বেশ কৌতুহল জাগানিয়া-আমরাও চাই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ খেলা হোক!

নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় প্রথম সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। এবারই প্রথম সাফের সেরা চারে খেলছে ভুটান। ২০১৬ প্রথম এবং সবশেষ ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ উন্মুখ হয়ে আছে আবার শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে ওঠার।

স্বাগতিক নেপালের কাছে ৪-০ গোলে হেরে সাফ শুরু ভুটানের। দ্বিতীয় ম্যাচে তারাঙ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দেয় ৫-০ ব্যবধানে। দলটির উন্নতি চোখে পড়েছে সাবিনারও। ২০১৯ সালে নেপালের বিরাটনগরে দলটিকে হারাতে বেগ পাওয়ার কথাও মনে রেখেছেন অধিনায়ক।

“ভুটানের গত দুই ম্যাচ যদি দেখেন, ওরা নেপালের বিপক্ষে খেলার চেষ্টা করেছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভালো ব্যবধানে জিতেছে। শেষ সাফেও কিন্তু ওদেরকে গোল দিতে আমাদের বেশ কষ্ট করতে হয়েছে। তো আমার মনে হয়, ভুটান আগের তুলনায় এখন অনেক ভালো দল। তো দেখা যাক, আমরা চেষ্টা করব, আমাদের সেরাটা দেওয়ার।”

“প্রতিটি ম্যাচের আগেই আমরা ভিডিও সেশন করি। এক একটা দলের বিপক্ষে এক এক রকম পরিকল্পনা থাকে, এক একভাবে খেলতে হয়, ভুটানকে নিয়েও আমাদের সেরকম পরিকল্পনা আছে।”

ব্যক্তিগত একটি পরিকল্পনাও আছে সাবিনার। ৫ গোল নিয়ে এ মুহূর্তে প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে তিনি। ভুটানের বিপক্ষে আগের তিন দেখায় তিনবার জালের দেখা পেয়েছিলেন ২৮ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। ভারত ম্যাচে গোল না পাওয়ার কারণ জানিয়ে আসছে ম্যাচের ব্যক্তিগত চাওয়াটাও জানালেন তিনি।

“ভারত ম্যাচে আমাদের লক্ষ্য ছিল ভালো কিছু করার, আপনারাও দেখেছেন আমরা পজিশনটা একটু নিচে ছিল, সুযোগ পেয়েছি এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছি, সেটাই তো গুরুত্বপূর্ণ…আমার মনে হয় দল জিতেছে এবং সেটাই বড় পাওয়া।”

“আমি সবসময় প্রতিটি ম্যাচে চেষ্টা করছি আমার অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগানোর। লক্ষ্য থাকবে আগামী ম্যাচগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার। অবশ্যই আমি চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দেওয়ার এবং সুযোগ পেলে তা কাজে লাগাব।”

২০০৩ বিশ্বকাপ খেলা দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ হং কিউং-সুকের হাত ধরে এবারই প্রথম সাফের সেমি-ফাইনাল খেলছে ভুটান। তবে এনিয়ে কোনো চাপ অনুভব করছেন না সাবিনা। প্রতিপক্ষ অধিনায়কের লড়াইয়ের হুংকারের জবাব দিলেন ভিন্ন সুরে।

“বিদেশি কোচের অধীনে ভুটান ভালো করছে, আমরা এটা অ্যাপ্রিশিয়েট করি। প্রভাব বলতে…আমরা কোনো ম্যাচকে চাপ হিসাবে নিচ্ছি না, কিন্তু প্রতিপক্ষকে শ্রদ্ধা করছি। যেহেতু তারা ভালো করছে, সেহেতু তাদের শ্রদ্ধা প্রাপ্য। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যাব, ম্যাচ বাই ম্যাচ আমাদের যে লক্ষ্য, সেটা মাথায় রেখেই মাঠে নামব।”

“আমিও চাই না একপেশে ম্যাচ হোক, আমরাও চাই প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ খেলা হোক।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক