২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েল ম্যাচে গাজাকে তুলে ধরল আইরিশ খেলোয়াড়রা

দলের মধ্যে ভোটাভুটির সিদ্ধান্তে ইসরায়েলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেললেও, মাঠে নানাভাবে প্রতিবাদ জানায় আয়ারল্যান্ড দল।

ইসরায়েল ম্যাচে গাজাকে তুলে ধরল আইরিশ খেলোয়াড়রা

ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় মাথা নিচু করে রাখেন আইরিশ ফুটবলাররা। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 06:29 PM

Updated : 28 Sep 2026, 06:29 PM

দলের অনেকের ‘ইচ্ছার বিরুদ্ধে’ শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচটি খেলতে নামলেও, বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয় রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ-পূর্ব আনুষ্ঠানিকতায় তাদের অংশগ্রহণ না নেওয়াকে গাজায় ইসরায়েলের কয়েক বছর ধরে হামলা ও গণহত্যা চালানোর ঘটনায় ‘বিশ্বব্যাপী সচেতনতা তৈরির’ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন দলটির কোচ হেমির হালগ্রিমসন।

হাঙ্গেরিতে রোববার ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষের কারও সঙ্গে হাত মেলাননি এবং ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত চলার সময় মাথা নিচু করে রাখেন আইরিশ ফুটবলাররা।

এছাড়া আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক ডারা ও’শে এবং ইসরায়েলের অধিনায়ক মানর সলোমন নিজেদের মধ্যে ছোট আকৃতির পতাকা বদল করেননি এবং তারা হাতও মেলাননি।

ম্যাচটি নিয়ে নানা টানাপোড়েন অবশ্য অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। দল দুটি একই গ্রুপে পড়ার পর থেকেই, গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে আয়ারল্যান্ডে এই ম্যাচগুলো না খেলার দাবি জোরাল হয় এবং ‘স্টপ দা গেম’ প্রচারণাও গতি পায়।

আয়ারল্যান্ড স্কোয়াডের মধ্যেও ম্যাচটি না খেলার দাবি জোরাল হয়। সেটা প্রকাশ্যেও চলে আসে। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে তারা, দিনের অনুশীলনও পিছিয়ে যায়। পরে অবশ্য ভোটাভুটিতে ম্যাচটি খেলার পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় দল দুটির মধ্যে দুই লেগের লড়াই-ই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের সিদ্ধান্ত অবশ্য অনেক আগেই হয়। ‘বি’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচ শেষে আয়ারল্যান্ডের কোচ হালগ্রিমসন স্বীকার করেন যে, অনেকেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে খেলেছে ম্যাচটি।

“এটা অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই ছিল খুব কঠিন। আশা করি, পরবর্তী ম্যাচে এমন কিছু হবে না, কারণ তারা (ইসরায়েলের গণহত্য চালানোর) প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছে। কেবল আয়ারল্যান্ডে নয়, এ বিষয়ে তারা বিশ্বব্যাপী সচেতনতা জাগিয়েছে, প্রতিবাদ জানানোর এটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল, পরিস্থিতিটা নিয়ে সচেতনতা তৈরি।

“আমি মনে করি, এই খেলোয়াড়রা তাদের কাজ দিয়ে, তাদের কথা দিয়ে সেটা করেছে। গ‍্যাভিন বাজুনুর চেয়ে বেশি নয়, তবে অন্যরাও মাঠে সেটা করেছে এবং তাদের কাজে প্রমাণ দিয়েছে, তাই আশা করি মানুষ বুঝতে পারবে।”

ভোটাভুটির ফলের হিসেবে সব সতীর্থ শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি খেলতে প্রস্তুত হলেও, আইরিশ গোলরক্ষক গ‍্যাভিন বাজুনু সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এতে একটু বেকায়দায়ও পড়ে তার দল।

উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, নেশন্স লিগের ম্যাচগুলোর জন্য দলগুলোকে তিন জন গোলরক্ষকের নাম নিবন্ধন করতে হয়। তাই শেষ মুহূর্তে উপায় না পেয়ে তারা ডিফেন্ডার জিমি ডানকে দলের রিজার্ভ গোলরক্ষক হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

আইরিশ খেলোয়াড়রা এদিন কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামে। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কওরেলের মতে, এটা গাজা যুদ্ধে প্রাণ হারানো সকলের জন্য।