সমতায় শেষ সিটি-চেলসির রোমাঞ্চকর লড়াই

রদ্রির শেষ সময়ের গোলে ঘরের মাঠে হার এড়িয়েছে পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2024, 07:40 PM
Updated : 17 Feb 2024, 07:40 PM

লম্বা সময় ব্যবধান ধরে রাখল চেলসি। আশা জাগাল তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ার। কিন্তু একের পর এক আক্রমণের সুফল ঠিকই পেল ম্যানচেস্টার সিটি। রদ্রির গোলে হার এড়াল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। দুই দলের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষ হলো সমতায়।

ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে সিটি। নিজেদেরই সাবেক খেলোয়াড় রাহিম স্টার্লিংয়ে গোলে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল তারা।

দুই দলের আগের ম্যাচ শেষ হয়েছিল ৪-৪ সমতায়। এবারও হলো ড্র।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শুরু থেকে দারুণ জমে ওঠা ম্যাচে দ্বাদশ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় সিটি। হুলিয়ান আলভারেসের চমৎকার ক্রসে লাফিয়ে হেড করেন আর্লিং হলান্ড। তবে খুব কাছ থেকেও তারকা স্ট্রাইকারের চেষ্টা থাকেনি লক্ষ্যে।

পরের মিনিটে রাহিম স্টার্লিংয়ের আড়াআড়ি শট সহজেই ঠেকান সিটি গোলরক্ষক এদেরসন। অষ্টাদশ মিনিটে একটি ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তার দ্বিধায় একটি সুযোগ পেয়েছিল চেলসি। কিন্তু ছুটে গিয়ে দারুণ স্লাইডে কোল পালমারকে বলের নাগাল পেতে দেননি নাথান আকে।

২৩তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের নিদারুণ ব্যর্থতায় হতাশায় পুড়ে চেলসি। পালমারের কাছ থেকে বল পেয়ে চমৎকার পাসে মালো গুস্তো খুঁজে নেন জ্যাকসনকে। ওয়ান অন ওয়ান পজিশনে শট নিতে অনেক দেরি করে ফেলেন তিনি। সুযোগ বুঝে এগিয়ে আসেন এদেরসন, শেষ পর্যন্ত চেলসি স্ট্রাইকারের দুর্বল শট ঠেকিয়েও দেন তিনি।

প্রিমিয়ার লিগের চলতি আসরে এ নিয়ে চেলসি গোলের ৪৮টি বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছে, যা অন্য যে কোনো দলের চেয়ে বেশি। এর মধ্যে সেনেগালের স্ট্রাইকার জ্যাকসন একাই নষ্ট করেছেন ১৪টি।

৪২তম মিনিটে স্টার্লিংয়ের ঠাণ্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় চেলসি। জ্যাকসনের কাছ থেকে ডি বক্সে বল পেয়ে কাইল ওয়াকারের চ্যালেঞ্জের মুখে নিয়ন্ত্রণ প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তবে দ্রুতই সামলে নেন নিজেকে, ওয়াকার ও এদেরসনের প্রবল চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ঠাণ্ডার মাথার বাঁকানো শটে খুঁজে নেন জাল।

যোগ করা সময়ে আলভারেসের শট এনসো ফের্নান্দেসের বুকে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটে হলান্ডের শট একটুর জন্য থাকেনি লক্ষ্যে। এতে ১৩ মাসের মধ্যে প্রথমবার ঘরের মাঠে লিগে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সিটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় সিটি। সেটা প্রায় কাজে লাগিয়ে ফেলেছিলেন কেভিন ডে ব্রুইনে। বেলজিয়ান মিডফিল্ডারের শট যায় ক্রসবার ঘেঁষে।

গতিময় ফুটবলে দারুণ উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচে দুই দলের সামনেই আসতে থাকে সুযোগ।

৫১তম মিনিটে প্রতি আক্রমণে সুযোগ পান হলান্ড। ফিল ফোডেনের ক্রসে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ভলি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই স্ট্রাইকার। দুই মিনিট পর জ্যাকসনের ক্রসে শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কনর গ্যালাগার।

৫৫তম মিনিটে এদেরসনের দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে বাড়েনি ব্যবধান। ভীষণ কাছ থেকে স্টার্লিংয়ের শট পা বাড়িয়ে ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে বেন চিলওয়েলের শটও ফেরান তিনি।

৭৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হলান্ড। ডে ব্রুইনের ক্রসে খুব কাছ থেকেও হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি অরক্ষিত এই তারকা। পাঁচ মিনিট পর সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতা ফেরায় সিটি। ওয়াকারের শট ব্লকড হলে বল পেয়ে যান রদ্রি। তার বুলেট গতির শট ট্রেভো শ্যালাবার হাঁটুতে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের।

শেষ দিকে মরিয়া চেষ্টায় আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় সিটি। সুযোগও আসতে থাকে একের পর এক। যোগ করা সময়ে হলান্ডের হেড ঠেকিয়ে দেন চেলসি গোলরক্ষক। ম্যাচের অন্তিত সময়ে রদ্রির হেড সফরকারীদের একজনের গায়ে লেগে বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে!

এই ড্রয়ে শিরোপা ভাগ্য আর সিটির হাতে থাকল না। ২৪ ম্যাচে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে থাকল দলটি।

২৫ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় লিভারপুল। শিরোপা ভাগ্য চলে এলো ইয়ুর্গেন ক্লপের দলটির হাতে। সমান ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে থাকা আর্সেনালও লড়াইয়ে থাকল প্রবলভাবে।

২৫ ম্যাচে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে চেলসির অবস্থান দশম।