২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারার পর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নিষিদ্ধ মিশরের হাসান ও জিকো

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ গোলে পরাজয়ের পর রেফারি ও ফিফার সমালোচনা করায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং ফরোয়ার্ড মোস্তফা মোহামেদ জিকোকে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হারার পর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নিষিদ্ধ মিশরের হাসান ও জিকো

ওই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখানো হয় মিশরের কোচ হোসাম হাসানকে। ছবি: রয়টার্স। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Oct 2026, 10:08 AM

Updated : 20 Oct 2026, 10:15 AM

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের তুমুল আলোচিত ম্যাচটি আবার খবরের শিরোনামে উঠে এলো সাড়ে তিন মাস পর। ওই ম্যাচের পর রেফারি ও ফিফার সমালোচনা করার কারণে শাস্তি পেলেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান এবং উইঙ্গার মোস্তফা মোহামেদ জিকো।

কোচ হোসামকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা, পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন জিকো। এছাড়াও হোসামের জমজ ভাই ও দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে তিন ম্যাচের জন্য।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় মিশর।

সেই ম্যাচে মিশরের দ্বিতীয় গোল আসে এই জিকোর পা থেকে। তবে সেটি হতে পারত দলের তৃতীয় গোল। আট মিনিট আগে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে আরেক দফায় বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গোলটি টেকেনি। আক্রমণের শুরুতে জিকোর সতীর্থ ডিফেন্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করায় ভিএআর দেখে গোল দেননি রেফারি।

Image

ম্যাচের পর কান্নাভেজা চোখে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন জিকো।

ওই গোল বাতিল করা ছাড়াও আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। রেফারিকে তীব্র আক্রমণ করে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।”

কোচের আগেই টিভি ক্যামেরার সামনে কান্নভেজা চোখ ও কণ্ঠে জিকো বলেন, “এটা অন্যায়, অন্যায়, অন্যায়। রেফারি অন্যায় করেছেন। এটা অবিচার, স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচার।”

রেফারিকেও সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করান জিকো।

“রেফারি মোটেও ভালো ছিলেন না। শুরু থেকেই আমাদের বিরুদ্ধে ছিলেন তিনি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা ২-০ গোলে জিতব, এটা যেন হতেই পারে না। ক্রমাগত আমাদের ওপর চড়াও হচ্ছিলেন তিনি। একটি জাতির প্রচেষ্টা তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন।

“এটা পাতানো টুর্নামেন্ট। মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকে দিয়েই দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই সবকিছুর সর্বোত্তম নিয়ন্ত্রক।”

সেসব মন্তব্যের শাস্তিই দেওয়া হলো এত দিন পর। মিশরের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আইনি বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখতে এবং আপিল করা হবে কি না, তা নির্ধারণ করার জন্য ফিফার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে বিস্তারিত কারণ জানতে চেয়েছে তারা।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আগামী মাসে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্স বাছাইপর্বের পরবর্তী রাউন্ডে মিশরের দুই ম্যাচে এবং পরে মার্চ মাসের আন্তর্জাতিক সূচির প্রথম ম্যাচে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান। আগামী জুন মাসের আগে খেলতে পারবেন না জিকো।