১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসমাইল-রোনানের বীরত্বে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

টাইব্রেকারে ভারতের প্রথম শট রুখে দিয়ে সুর বেঁধে দেন গোলকিপার ইসামাইল হোসেন মাহিন।

ইসমাইল-রোনানের বীরত্বে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবার ভারতকে হারাল বাংলাদেশ। ছবি: বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Apr 2026, 01:00 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

টাইব্রেকারে বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে এলেন স্যামুয়েল রাকসাম। তখনই ভারত গোলকিপার সুরজ সিং ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে শুয়ে পড়লেন মাটিতে। বাংলাদেশের মোমেন্টাম কিছুটা নষ্ট হয়ে গেল সেখানেই। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নিয়ে পোস্টে ফিরলেন সুরজ। স্যামুয়েল রাকসামের শট ক্রসবার কাঁপিয়ে ফিরল। ভারতও ৩-৩ সমতায় ফিরল। কিন্তু পঞ্চম শট নিতে এসে ভারতের ওমং দোদুম মারলেন বাইরে। বাংলাদেশ তখন তাকিয়ে রোনান সুলিভানের দিকে। নিখুঁত ‘পানেনকা’ শটে লক্ষ্যভেদ করলেন তিনি। জয়ের উচ্ছ্বাসে বাঁধনহারা উৎসবে মেতে উঠল বাংলাদেশ।

মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য সমতায়।

চলতি আসরেই গ্রুপ পর্বের দেখায় দুই দলের দ্বৈরথ শেষ হয় ১-১ ড্রয়ে।

টাইব্রেকারে বাংলাদেশের হয়ে জালের দেখা পান মুর্শেদ আলি, চন্দন রায়, আব্দুল রিয়াদ ফাহিম ও রোনান। মিস করেন স্যামুয়েল।

টাইব্রেকারে ভারতের ঋষি সিংয়ের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে আটকান ইসমাইল হোসেন মাহিন। এরপর লক্ষ্যভেদ করেন মোহাম্মদ আরবাস, স্যামসন ও বিশাল যাদব। পঞ্চম শটে বাইরে মারেন দোদুম।

বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হলো মোট আটবার। এর মধ্যে চারবার সেরা ভারত। নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশও জিতল দুইবার। ২০২৪ সালে প্রথম এই শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।

সব ক্যাটাগরি মিলিয়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো ফাইনালে মুখোমুখি হলো বাংলাদেশ ও ভারত। ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরি- আগের তিন ফাইনালেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারই প্রথম এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভারতকে হারানোর আনন্দ সঙ্গী হলো বাংলাদেশের।

একটি পরিবর্তন এনে শুরুর একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স। সানি দাসের বদলে শুরু থেকে খেলান আব্দুল রিয়াদ ফাহিমকে। নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে বদলি হিসেবে অভিষিক্ত হয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন ডেকলান সুলিভান, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই ডিফেন্ডারকে বেঞ্চে রাখেন বাংলাদেশ কোচ।

ডেকলানের ভাই রোনান নিয়মিতই খেলছেন লাল-সবুজের জার্সিতে। ভারতের বিপক্ষেও শুরু থেকে আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সপ্তম মিনিটে বাম দিক থেকে রোনানের বাম পায়ের দুর্বল শট পারেনি গোলকিপারকে পরাস্ত করতে।

ভারতের রোহেন সিং ডান প্রান্ত ধরে একের পর এক বিপদজনক ক্রস ফেলতে থাকেন বক্সে, কিন্তু রক্ষণের দৃঢ়তায় বিপদে পড়েনি বাংলাদেশ।

ত্রয়োদশ মিনিটে রোনানের ক্রসে বক্সের ভেতরে অনেকটা লাফিয়ে মিঠু চোধুরি হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। দুই মিনিট পর মানিকের বক্সে ফেলা বলে দুই ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বেরিয়ে পা চালিয়েছিলেন রোনান, কিন্তু পাননি বলের নাগাল।

৩৬তম মিনিটে কর্নারের পর ছোট বক্সের উপর থেকে ঋশিকান্ডা শরীর ঘুরিয়ে ভলি করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু রক্ষণের বাধায় ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি। কামাল মৃধার ক্লিয়ারেন্সের পর জদরিক আব্রানাচেসের দুর্বল হেড সহজেই গ্লাভসে জমান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সতীর্থের নিচু পাস বুটের টোকায় তুলে সাইড ভলি করেছিলেন রোনান, কিন্তু বল উড়ে যায় ক্রসবারের অনেক উপর দিয়ে।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই, কিন্তু কেউই প্রতিপক্ষের রক্ষণে চিড় ধরাতে পারেনি।

ভারতের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশ গোলকিপার ইসমাইলের জন্য দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারেনি।

৬৫তম মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের বদলি নামেন ডেকলান। ৮২তম মিনিটে ভারতের একটি প্রচেষ্টা উপরের জাল কাঁপায়। একটু পরই গোলমুখ থেকে বিশাল যাদব টোকা দিতে ব্যর্থ হলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। বাকি সময়ে কেউ গোলের দেখা না পাওয়ায় ফাইনালের ভাগ্য গড়ায় শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে। সেখানে ইসমাইল-রোনানদের নৈপুণ্যে আনন্দে ভাসে বাংলাদেশ।

‘মনে হচ্ছিল, ২০ কোটি মানুষের স্বপ্নকে রক্ষা করতে পেরেছি’