অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
Published : 13 Jan 2025, 09:21 PM
টেনিস কোর্টে লম্বা সময় ধরে নোভাক জোকোভিচ ও অ্যান্ডি মারে ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী। সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালসহ অনেকবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন তারা। এখন বদলে গেছে মারের ভূমিকা। চলতি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জোকোভিচের কোচ এই ব্রিটিশ তারকা। তার কোচিংয়ে প্রথম ম্যাচ খেলার পর মিশ্র অনুভূতির দোলাচল সার্বিয়ান তারকার মনে।
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১৯ বছর বয়সী নিশেশ বাসাভারেডির বিপক্ষে প্রথম সেটে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের ধাপে পা রাখেন জোকোভিচ। মেলবোর্ন পার্কে ৪-৬, ৬-৩, ৬-৪, ৬-২ গেমে জেতেন পুরুষ এককে রেকর্ড ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের রেকর্ড অনেক আগে থেকে জোকোভিচের। এবার এখানে ১১তম ট্রফির অভিযানে নেমেছেন ৩৭ বছর বয়সী তারকা। এখানে জিতলে মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড একার করে নেবেন তিনি।
সেই লক্ষ্যে গত নভেম্বরে তিনবারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী মারেকে কোচ হিসেবে যুক্ত করেন জোকোভিচ। গত প্যারিস অলিম্পিকস দিয়ে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানা ৩৭ বছর বয়সী মারের কোচিংয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা এটি। যার শুরুটা হলো জয় দিয়ে।
দীর্ঘ দিনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে কোচ হিসেবে পেয়ে যেমন রোমাঞ্চিত জোকোভিচ, তেমনি অন্যরকম অনুভূতিও হচ্ছে তার।

“তাকে আমার পাশে (কোচ হিসেবে) পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত। অবশ্যই বলব যে, তাকে কোর্টসাইডে পাওয়াটা কিছুটা অদ্ভুত। আমরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একে অপরের বিপক্ষে সর্বোচ্চ স্তরে খেলেছি, তাই তাকে আমার পাশে পেয়ে ভালো লাগছে।”
মেলবোর্ন পার্কে সবার নজর ছিল কোচিং পডের দিকে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নতুন সংযোজন এই কোচিং পড, যা খেলোয়াড়দের কোচিং স্টাফকে কোর্টের পাশে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। মারের সঙ্গে জোকোভিচের দলের আরও তিন সদস্য বসে ছিলেন সেখানে। প্রথম সেটে হারের পর উজ্জীবিত করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পয়েন্ট অর্জনের পর হাততালি দিয়ে জোকোভিচকে উৎসাহ জোগান তারা।
“ম্যাচের সময় সে (মারে) আমাকে দারুণ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এভাবে আলোচনা করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে। সত্যিই চমৎকার অভিজ্ঞতা। আশা করি, আমরা এখানেই থামব না।”
চারটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালসহ ৩৬ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন এই দুজন। যেখানে জোকোভিচের জয় ২৫টি, মারের ১১টি। ২০১৩ সালে জোকোভিচকে হারিয়ে ৭৭ বছরের মধ্যে প্রথম ব্রিটিশ খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডন শিরোপা জেতেন তিনি।