১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মুরাসের বিপক্ষে হেরে বিদায় আবাহনীর

মাত্র দুই বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মুরাস ইউনাইটেডকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি মারুফুল হকের দল।

মুরাসের বিপক্ষে হেরে বিদায় আবাহনীর
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ থেকে বিদায় নিল আবাহনী। ছবি: বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2025, 07:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:34 PM

প্রতিপক্ষের আক্রমণে শুরুতেই কোণঠাসা আবাহনী কেবল চেষ্টাই করে গেল নিজেদের মেলে ধরার, কিন্তু পারল না। ২৬ দিনের প্রস্তুতির প্রতিফলনও তারা দেখাতে পারল না মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে। পোস্টে মিতুল মারমা সপ্রতিভ থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে তার প্রতিরোধের দেয়ালেও ধরল চিড়। মুরাসের বিপক্ষে হেরে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্লে-অফ থেকে বিদায় নিল মারুফুল হকের দল।

জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের প্রিলিমিনারি রাউন্ডের প্লে-অফ ম্যাচে মুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে আবাহনী। ২০১৯ সালে সবশেষ এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলেছিল আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ২০২২-২৩ মৌসুমে এএফসি কাপ বিলুপ্ত করে দেয় এএফসি। এ বছর থেকে চালু হয়েছে চ্যালেঞ্জ লিগ।

নিজেদের মাঠে খেলা বলে আত্মবিশ্বাসী ছিল আবাহনী। শেখ মোরসালিন, সুলেমানে দিয়াবাতেকে নিয়ে ভালো কিছুর স্বপ্নে বিভোর ছিল তারা। কিন্তু মাত্র দুই বছর আগে পথচলা শুরু করা মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে তেমন কিছুই করে দেখাতে পারল না বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে আবাহনীর রক্ষণে ভীতি ছড়াতে থাকে মুরাস। ষষ্ঠ মিনিটে সতীর্থের ক্রসে একজন ডামি করলে অন্য প্রান্তে পেয়ে যান ওলেহ মারচুক। এই ফরোয়ার্ডে প্লেসিং শট অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যায়।

তিন মিনিট পর কোদজে চাবেলের জোরাল শট ফিস্ট করে ফেরান মিতুল মারমা। নয় মিনিট পর আবারও আবাহনীর ত্রাতা মিতুল। এবার, আল ইগুলভের কোনাকুনি শট আটকান তিনি।

মুরাস ইউনাইটেডের আক্রমণ সামলে অষ্টাদশ মিনিটে ইব্রাহিমের পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন দিয়াবাতে, কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান। তবে মালির এই ফরোয়ার্ড দ্রুত উঠে শট নিলেও তা ক্রস বারের ওপর দিয়ে গিয়ে যায়। চার মিনিট পর ঝাঁপিয়ে কোদজো চাবেলের শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান মিতুল।

২৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ভালো সুযোগ আসে আল আমিনের সামনে। গোলকিপার একটু এগিয়ে এসে পথ আগলে দাঁড়ালে শট নেওয়ায় জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে তার সামনে। তারপরও তিনি শট নিয়েছিলেন, কিন্তু গায়ের সাথে সেঁটে থাকা ডিফেন্ডার দ্রুত পা চালিয়ে ক্লিয়ার করেন। 

৩২ মিনিটে দিয়াবাতের পাসে ইব্রাহিমের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়।

মিতুলের প্রতিরোধ ভাঙে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। আন্দ্রে বাতসুলার ক্রসে বক্সের ফাঁকায় থাকা আত আই জুমাসেভ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন; আটকানোর কোনো সুযোগই পাননি মিতুল। ৫২ মিনিটে ইগুলভের শট অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে গেলে ব্যবধান হয়নি দ্বিগুণ।

৭২তম মিনিটে দিয়াবাতের পাসে মোরসালিনের শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলকিপার। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরেক গোল হজম করে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় আবাহনী। ইয়াসিন খানের বাড়ানো পাস ধরতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে কামরুল ইসলাম তুলে দেন জুমায়েভের পায়ে। মিতুল পারেননি এই ফরোয়ার্ডের জোরাল শট আটকাতে।