ইংলিশ ফুটবল
Published : 25 May 2026, 06:06 PM
ম্যানচেস্টার সিটিকে ইংলিশ ফুটবল তো বটেই, ইউরোপিয়ান ফুটবলেও পরাশক্তি করে তুলেছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায়ে দলটিকে অনেক শিরোপা এনে দিয়েছেন তিনি। বিদায় বেলায় অবশ্য ট্রফির চেয়ে তার কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে অন্যকিছু। ক্লাবটিতে কাটানো এক দশকের স্মৃতি আর আত্মিক বন্ধনই তার কাছে বেশি মূল্যবান।
সিটিতে গুয়ার্দিওলার গৌরবময় পথচলার শেষটা অবশ্য সুখকর হয়নি; ঘরের মাঠে রোববার অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে গেছে তারা। ৩৮ ম্যাচে ২৩ জয় ও ৯ ড্রয়ে ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে রানার্স আপ হয়েছে দলটি।
২০১৬ সালে তিন বছরের চুক্তিতে সিটিতে যোগ দেন গুয়ার্দিওলা। সাফল্যের স্রোতে সেই মেয়াদ গড়িয়েছে ১০ বছরে। তার কোচিংয়ে টানা চারটিসহ মোট ছয়টি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে সিটি। ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিও ধরা দিয়েছে এই সময়ে। সব মিলিয়ে, ২০টি ট্রফি জয়ের স্বাদ নিয়ে সিটি ছাড়ছেন তিনি।
সিটির হয়ে শেষ সংবাদ সম্মেলনে গুয়ার্দিওলার কণ্ঠে ঝরে আবেগ। সাফল্যের চেয়ে খেলোয়াড়, স্টাফ, সমর্থক ও ম্যানচেস্টার শহরের সঙ্গে গড়ে ওঠা গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন তিনি।
“এখানে যত স্মৃতি হৃদয়ে জমা হয়েছে, তা আগের যেকোনো (দলে কাজ করার) চেয়ে অনেক বেশি। ২০টি ট্রফি না জিতলে তারা আমাকে অনেক আগেই বরখাস্ত করত। কিন্তু ঘরে বসে ট্রফিগুলোর দিকে তাকিয়ে তো আপনি বলবেন না, ‘আহ, আমি কত সুখী।”
“প্রথম দিন থেকে এই শহর, বিশেষ করে স্টাফ আর খেলোয়াড়দের সঙ্গে এত গভীর সংযোগ কেন অনুভব করতাম, সেটা জানি না। আমি শুরু জানি, আমাদের মধ্যে সত্যিকারের বন্ধন ছিল।”
ভিলা ম্যাচ দিয়ে সিটিকে বিদায় জানিয়েছেন অধিনায়ক বের্নার্দো সিলভা ও ডিফেন্ডার জন স্টোন্স।
ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে দুই দলের খেলোয়াড়দের গার্ড অব অনার এবং গ্যালারি জুড়ে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্যে মাঠ ছাড়েন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার সিলভা। তখন তার চোখে ছিল জল। অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে স্প্যানিশ কোচের চোখও।
“আমি কান্না করি না, কিন্তু যখন বের্নার্দোকে কাঁদতে দেখলাম, তখন আমারও কান্না চলে আসে। বের্নির জন্য মুহূর্তটা বিশেষ। সে আমাকে বলেছিল, ‘আমি খুব ক্লান্ত, দৌড়াতে পারছি না।’ জনের জন্যও আজ ছিল আবেগময়।”
এই ১০ বছরে সিটিকে সাফল্যের শীর্ষে তুলতে আরও যারা অবদান রেখেছেন, বর্তমান ও আগের স্কোয়াডের, তাদের কয়েকজনও এদিন কেবল গুয়ার্দিওলাকে বিদায় জানাতেই সিটির আঙিনায় পা রাখেন- যা ছুঁয়ে গেছে এই কোচকে।
“ফের্নান্দিনিয়োকে এখানে দেখে ভালো লেগেছে, সে ব্রাজিল থেকে শুধু আজকের জন্য এখানে এসেছে, আমি এটা কখনও ভুলব না।”