০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এমবাপেকে নিয়ে ইউনাইটেডের ভুলের গল্প শোনালেন গিগস

কিলিয়ান এমবাপেকে দলে নেওয়ার সুযোগ কীভাবে হাতছাড়া করেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, সেটি সামনে আনলেন দলটির সাবেক মিডফিল্ডার।

এমবাপেকে নিয়ে ইউনাইটেডের ভুলের গল্প শোনালেন গিগস
কিলিয়ান এমবাপে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 05:31 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

তখনও বিশ্ব ফুটবলে তারকা হয়ে ওঠেননি কিলিয়ান এমবাপে। ওই সময়ই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নজরে তাকে এনেছিলেন রায়ান গিগস। ফরাসি ফরোয়ার্ডের প্রতিভা ও সম্ভাবনা যাচাইও করেছিল ইংলিশ ক্লাবটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি আর নেয়নি ইউনাইটেড।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটির সাবেক মিডফিল্ডার গিগস। দলটির হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে স্বল্প সময়ের জন্য ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেডে লুই ফন খালের সহকারী ছিলেন গিগস।

২০১৫ সালে এক অদ্ভুত ঘটনাচক্রে এমবাপের ব্যাপারে জানতে পারেন সাবেক ওয়েলস তারকা গিগস। ওই সময় মোনাকোয় খেলতেন এমবাপে। রিও ফার্ডিনান্ড প্রেজেন্টস পডকাস্টে সেই গল্প শোনান তিনি।

“আমি তখন ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলে। ইউনাইটেডের হয়ে কোচিং করাচ্ছি, সময়টা ২০১৫ সাল। স্থানীয় একটি গ্রামে হাঁটতে গিয়েছিলাম। হোটেলে ফেরার সময় সৈকত দিয়ে হাঁটছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল, কেউ যেন আমাকে অনুসরণ করছে।

“হোটেলে পৌঁছানোর পর হঠাৎ মনে হলো, কেউ আমার কাছে আসছে। লোকটির নাম লিওনেল, ফরাসি। সে এসে বলল, ‘হাই, আমি লিওনেল। শুধু হ্যালো বলতে চেয়েছিলাম। আমি ইউনাইটেডের বড় ভক্ত, আপনারও বড় ভক্ত। তবে আমি ফ্রান্সের অনেক যুব ফুটবল দেখি। আপনাদের এই খেলোয়াড়কে দেখা উচিত। তার নাম কিলিয়ান এমবাপে। সে মোনাকোয় আছে এবং আমার মনে হয়, সে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় হতে পারে।”

এমবাপের ব্যাপারে পরে ইউনাইটেডের তখনকার আরেক সহকারী সঙ্গে কথা বলেন গিগস। এমনকি এমবাপের খেলা দেখতেও যান তারা দুইজন।

“কয়েক সপ্তাহ পর সে আমাকে এমবাপে সম্পর্কে সব তথ্য ই-মেইল করে পাঠায়। এরপর আমি ইউনাইটেডের তৎকালীন আরেক সহকারী কোচ আলবার্টের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি। আমরা বিকেলে প্রায়ই ম্যাচ দেখতে যেতাম কিংবা অনুশীলন মাঠে খেলোয়াড় দেখতে যেতাম।

“আমি তাকে পুরো ব্যাপারটা বললাম। সে বলল, ‘চলো, তাকে দেখে আসি।’ এরপর মোনাকোর কয়েকটি যুব দলের ম্যাচ দেখতে গেলাম। তাকে দেখে আমাদের মনে হলো, ‘বাহ, এ কী!’ আপনি কিছু খেলোয়াড়কে দেখেই বুঝতে পারেন, তারা বিশেষ কিছু হতে পারে। কিন্তু তাকে সত্যিই অসাধারণ মনে হয়েছিল।”

গিগস বলেন, ওই সময় এমবাপেকে দলে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কাজে লাগায়নি ইউনাইটেড।

“এরপর আমরা বিষয়টি স্কাউটিং দলকে জানালাম। তারা তাকে দেখতে গেল। ফ্রান্সে থাকা একজন স্কাউট তাকে দেখতে গিয়েছিল। একপর্যায়ে মোনাকো পিএসজির বিপক্ষে খেলছিল। তখন তারা তাকে দেখতে প্যারিসে যায়।

“কয়েক সপ্তাহ পর আমি ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেমন দেখলে?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ, তারা (ইউনাইটেডের সংশ্লিষ্টরা) তাকে নিয়ে খুব একটা নিশ্চিত ছিল না। তাই আমরাও আর বিষয়টি এগিয়ে নিইনি।’ ব্যস, সেখানেই শেষ।”

২০১৭ সালে এক মৌসুমের জন্য ধারে পিএসজিতে যোগ দেন এমবাপে। পরের বছর স্থায়ীভাবে তাকে কিনে নেয় পিএসজি।

এরপর ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন এমবাপে। সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠেন ফুটবল বিশ্বের হালের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। ২০২২ বিশ্বকাপে ফাইনাল এবং চলতি বছরের বিশ্ব আসরে সেমি-ফাইনালে খেলেছেন তিনি। এখন ক্লাব ফুটবলে রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন এই ফুটবলার।