২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা: পেনাল্টির প্রস্তুতি আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ

টাইব্রেকারে চাপে ভেঙে পড়েছে আসরের ফেভারিট দুই দল।

জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের ব্যর্থতা: পেনাল্টির প্রস্তুতি আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
টাইব্রেকারে জার্মানির প্রথম শটে ব্যর্থ হন কাই হাভার্টজ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jul 2026, 08:28 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:32 PM

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির হার ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যে দলটি বিশ্বকাপে তাদের আগের চারটি টাইব্রেকারে ছিল অপরাজেয়, তারা পঞ্চমটিতে এসে হেরে গেছে অভাবনীয়ভাবে।

চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিই শুধু নয়, তাদের কয়েক ঘন্টা পর মরক্কোর বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় তিনবারের ফাইনালিস্ট নেদারল্যান্ডসও। পেনাল্টির চাপে দল দুটির এভাবে ভেঙে পড়ায় এটির প্রস্তুতি আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 

বস্টনে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর, টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারে জার্মানি। দলটির হয়ে পেনাল্টি মিস করেন কাই হাভার্টজ, নক ভল্টেমাডা ও ইয়োনাথান টাহ।

প্যারাগুয়েও চাপে পড়েছিল, পেনাল্টি মিস করে জয় নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া করে তারা দুই দফায়। তৃতীয়বারে সফল হয় দলটি। হোসে কানালের লক্ষ্যভেদে তারা পৌঁছে যায় শেষ ষোলোয়। বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে।

১৯৭৬ সালে ইউরোর ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে হারের পর, কোনো বড় টুর্নামেন্টে টাইব্রেকারে জার্মানদের প্রথম হার এটি।

মন্তেরেইতে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতার পর, টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারে নেদারল্যান্ডস। জার্মানদের মতো ডাচদের হয়েও পেনাল্টি শুট আউটে মিস করেন তিন জন।

নরওয়েজিয়ান স্কুল অব স্পোর্টস সায়েন্সের ফুটবল ও মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এবং ‘Pressure: Lessons from the psychology of the penalty shoot-out’ নামক বইয়ের লেখক গেইর জর্ডেটের মতে, পেনাল্টি হলো মানসিক শক্তি ও প্রস্তুতির চূড়ান্ত পরীক্ষা।

“সেরা পেনাল্টি টেকাররা হলেন বিশেষজ্ঞ, যারা তাদের কিক নিখুঁত করার জন্য বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এই দক্ষতার সবসময়ই একটি কৌশলগত দিক থাকে- বলটিকে কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পাঠানোর জন্য কীভাবে শট করতে হবে”- বিশ্বকাপ থেকে জার্মানদের বিদায়ের ঠিক আগে রয়টার্সকে বলেন জর্ডেট।

জর্ডেট তার বইয়ের গবেষণার জন্য ১০০টির বেশি পেনাল্টি শুটআউট বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে পেনাল্টি কিক নেওয়া হয়েছিল ৭০০টির বেশি। তিনি মনে মনে শটের গতি-প্রকৃতি কল্পনা করা, আত্ম-জিজ্ঞাসা ও শট-পূর্ববর্তী অনুশীলনের মতো কিছু কৌশল তুলে ধরেছেন, যা বেশ কার্যকর হতে পারে।

“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং প্রতিপক্ষকে আধিপত্য বিস্তার করতে না দেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা বিভিন্ন কাজ করতে পারে- যেমন, গোলরক্ষক অস্থিরভাবে নড়াচড়া করলে বা আগ্রাসী মনোভাব দেখালে, স্ট্রাইকার শট নেওয়ার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করতে পারে অথবা রেফারি সংকেত দেওয়ার পর, কয়েকবার দম নিয়ে একটু বিরতি নিতে পারে।”

তবে শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি হলো যে শট নেবে তার সঙ্গে গোলরক্ষকের তাড়না ও দক্ষতার লড়াই।

জর্ডেট বলেন, “ছোট খেলোয়াড়রা পেনাল্টি মিস করে না, কারণ কেবল বড় খেলোয়াড়রাই পেনাল্টি নেয়।”

“যারা দায়িত্ব নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন, তারা আমাদের থেকে সর্বোচ্চ সম্মানের দাবিদার, কারণ তারা এই তীব্র চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্যই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং বিশ্বকাপের মতো এমন তীব্র চাপের প্রেক্ষাপটে খুব কম মানুষই তা করতে পেরেছেন।”