২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘এটা বাংলাদেশের বি-টিম নয়’, বললেন কাবরেরা

হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসীরা না থাকলেও বর্তমান দলটি বাংলাদেশ কোচের চোখে শক্তিশালী।

‘এটা বাংলাদেশের বি-টিম নয়’, বললেন কাবরেরা
বাংলাদেশের প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ২৪

কাঠমাণ্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Sep 2025, 04:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:14 PM

সংবাদ সম্মেলনে কখনও গম্ভীর, কখনও হাসিখুশি দেখা গেল হাভিয়ের কাবরেরাকে। সকালটা কেমন কাটল, জানতে চাইলে বাংলাদেশ কোচ এককথায় দিলেন উত্তর-ব্যস্ততায় কেটেছে। এরপর তার দিকে প্রশ্ন ছুটে গেল- হামজা চৌধুরী, শোমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসীদের অনুপস্থিতির ফলে বর্তমান দলের শক্তি-সামর্থ্য কমেছে কিনা। আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে কাবরেরা বললেন, দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে তিনি আসেননি নেপালে।

কাঠমাণ্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শনিবার নেপালের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

২০২২ সালের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। সবশেষ ম্যাচের স্মৃতি বাংলাদেশ দল কিংবা কাবরেরা, কারো জন্যই সুখকর নয়। সেবার এ মাঠেই ৩-১ গোলে হেরেছিল তারা। সেই তেতো স্মৃতি সংবাদ সম্মেলনে আওড়ালেন কাবরেরাও।

“বাংলাদেশের জন্য এখানে খেলা সবসময় কঠিন। আমার একমাত্র অভিজ্ঞতা হলো ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, তখন আমরা বিরতির সময় ৩-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম। সত্যিই কঠিন লড়াই ছিল। আমরা এবারও খুব শক্ত প্রতিপক্ষ আশা করছি, তবে বিশ্বাস করি এবার আমরা আরও ভালো করব। মাঠের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তবে আশা করি বৃষ্টি হবে না। যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে দর্শকেরা একটি ভালো খেলা দেখতে পাবেন।”

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে হামজা, শোমিত, ফাহামিদুলদের অনুপস্থিতিতে কতটা ভালো খেলতে পারবে বাংলাদেশ? এই তিন প্রবাসীর মধ্যে বিশেষ করে হামজাকে কেন্দ্রে রেখে গত তিন ম্যাচে ছক সাজিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী অক্টোবরে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের ম্যাচেও লেস্টার সিটির এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থাকবেন কাবরেরার পরিকল্পনার কেন্দ্রে। অথচ নেপাল সফরে নেই তিনি। বাংলাদেশ কোচ অবশ্য হামজার অনুপস্থিতিতে খুব একটা সমস্যা দেখছেন না।

“সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলা শেষ ম্যাচ থেকে শিক্ষা নিয়ে, অক্টোবরের হংকং ম্যাচে কীভাবে নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশে যে প্রস্তুতি ম্যাচগুলো খেলেছি, সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর নেপালের এই দুটি ম্যাচ আমাদের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

“হামজা নেই, শোমিতও নেই, অনেকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে আছে। তবে সত্যি বলতে, কয়েক মাস আগেও আমরা প্রায় একই দল নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে খেলেছি। এই দলের ৯৫ শতাংশ খেলোয়াড়ই ছিল ২০২৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। যেখানে আমরা দারুণ খেলেছি। এছাড়া লেবানন, ফিলিস্তিন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রায় শতভাগ খেলোয়াড়ই তখন দলে ছিল। তাই আমরা শক্তিশালী দল এনেছি এখানে, দ্বিতীয় সারির দল নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দল, শক্তিশালী দল। আমরা কঠিন প্রতিযোগিতা আশা করছি।”

দশরথের আঙিনায় প্রায় দুই বছর পর ম্যাচ খেলবে নেপাল। মাঠের মান ভালো না হওয়ায় এবং আনুসাঙ্গিক সুবিধাদি না থাকায় কদিন আগে এই ভেন্যুর ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। তবে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বাধা নেই বলে এখানেই বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলবে তারা।

'আমি খেলব কি খেলব না, সেটা আমার হাতে নেই