বায়ার্ন ভক্তদের মুখে 'আলা মাদ্রিদ’ শুনে হেসেছিলেন লেভানদোভস্কি

জার্মান ক্লাবটির ভক্তদের ক্ষোভের কারণ বুঝতে পারছেন পোলিশ তারকা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 August 2022, 11:03 AM
Updated : 9 August 2022, 11:03 AM

ক্লাব ও সমর্থকদের চাওয়া ছিল যেকোনো মূল্যে রবের্ত লেভানদোভস্কিকে বায়ার্ন মিউনিখে ধরা রাখার। শেষ পর্যন্ত অবশ্য নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজে বার্সেলোনায় পাড়ি জমান তিনি। জার্মান ক্লাবটির কিছু ক্ষুদ্ধ সমর্থক তাই পোলিশ তারকার বিদায়বেলায় তার উদ্দেশে ‘আলা মাদ্রিদ’ স্লোগান দিয়েছিলেন, যেটা বার্সেলোনার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের স্লোগান। ভক্তদের ওই কাণ্ডে মজাই পেয়েছিলেন লেভানদোভস্কি।

গত কয়েক মাসে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল লেভানদোভস্কির বায়ার্ন ছাড়া নিয়ে। ২০২১-২২ ক্লাব মৌসুম শেষে জাতীয় দলে ফিরে তিনি জানান, বায়ার্নে তার অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে, খেলে ফেলেছেন দলটির হয়ে শেষ ম্যাচ।

বুন্ডেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা যদিও শুরু থেকেই বলে আসছিল, চুক্তি শেষের আগে কোনোভাবেই ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে ছাড়তে চান না তারা।

ক্লাবের শক্ত অবস্থানেও দমে যাননি লেভানদোভস্কি। নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল। অবশেষে তাকে সাড়ে চার কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে ছাড়তে রাজি হয় বায়ার্ন। বিভিন্ন বোনাসসহ অঙ্কটা হতে পারে পাঁচ কোটি ইউরো। এরপর গত জুলাইয়ে চার বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দেন বার্সেলোনায়।

বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে বায়ার্নে ফিরেছিলেন লেভানদোভস্কি। সেখান থেকে ফেরার পথে ক্লাবটির একদল সমর্থকের ‘রোষের’ মুখে পড়েন তিনি। তাকে উদ্দেশ্য করে রিয়ালের ক্লাব স্লোগান গেয়ে ওঠেন কয়েকজন।

সাবেক ক্লাবের সমর্থকদের এমন কাণ্ডে অবশ্য মোটেও ক্ষেপে যাননি লেভানদোভস্কি। জার্মান টিভি চ্যানেল ‘স্পোর্টওয়ান’-কে সোমবার দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বায়ার্ন ভক্তদের এমন আচরণের কারণ বুঝতে পারেন তিনি।

“হ্যাঁ, আমি এটা শুনেছি (বায়ার্ন ভক্তদের মুখে ‘আলা মাদ্রিদ’ স্লোগান) এবং আমি হেসেছিলাম। কিন্তু সেখানে কিছু লোক আমার নাম ধরেও চিৎকার করছিল, বিষয়টা সত্যিই চমৎকার ছিল।”

“আমি জানি যে আমার চলে আসা ভক্তদের অনেক কষ্ট দিয়েছে। আমি বিষয়টা বুঝি এবং এখন আমি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ওই সময়ে এটা পরিষ্কার করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ছিল যে আমি একটা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।”

বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ২০১৪ সালে লেভানদোভস্কি বায়ার্নে যোগ দিয়ে ক্লাবটির হয়ে প্রতি মৌসুমে বুন্ডেসলিগা ছাড়াও জিতেছেন সব ধরনের শিরোপা। দলটির হয়ে অনেক রেকর্ড গড়ে ৩৭৫ ম্যাচে গোল করেছেন ৩৪৪টি।

সাফল্যে মোড়ানো ক্লাব ক্যারিয়ারে বায়ার্নের হয়ে ৮টি বুন্ডেসলিগা, ৩টি জার্মান কাপ, ৪টি জার্মান সুপার কাপ এবং ১টি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন তিনি।

যে ক্লাবে এত অর্জন, ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে থাকা অবস্থায় সেই ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না লেভানদোভস্কির জন্য। তবে তার উপলদ্ধি হয়েছিল যে নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার এটাই আদর্শ সময়।

“দিন শেষে, আমরা সবাই মানুষ। জার্মানিতে ১২ বছর কাটানোর পর আমি নিজের কাছে পরিষ্কার ছিলাম যে সেখানে আমার সময় শেষ। সেটাই আমি পরিষ্কার করতে চেয়েছিলাম এবং নিঃসন্দেহে বায়ার্নের জন্য এই পর্যায়ে এসে আমাকে ছেড়ে দেওয়া মোটেও সহজ ছিল না।”

“পুরো বিষয়টির সঙ্গে জড়িত সবার জন্যই কঠিন পরিস্থিতি ছিল এবং আমাদের সেরা সমাধান খুঁজে বের করতে হতো।“

নতুন ঠিকানায় এসে লেভানদোভস্কির সামনে এখন অনেক কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কঠিন পরীক্ষা। জীবনে নতুন সব চ্যালেঞ্জ পেয়ে রোমাঞ্চ অনুভব করছেন তিনি।

“আমার জন্য এই পরিবর্তন, অন্য দেশে ও অন্য ক্লাবে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। এখন আমি নতুন খেলনা পাওয়া শিশুর মতো অনুভব করছি।”

বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর প্রাক-মৌসুমে তিন ম্যাচে গোল করতে পারেননি লেভানদোভস্কি। অবশেষে শেষ প্রস্তুতিমূলক ম্যাচে এসে জালের দেখা পান তিনি। কাম্প নউয়ে গত রোববার পুমাসকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গাম্পের ট্রফি ঘরে তোলে শাভি এরনান্দেসের দল। ওই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের তিন গোলে অবদান রাখেন লেভানদোভস্কি।

লা লিগায় বার্সেলোনার প্রথম ম্যাচে অবশ্য খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে লেভানদোভস্কির। কেননা এখনও তাকে ও এই দলবদলে কেনা খেলোয়াড়দের লা লিগায় নিবন্ধন করতে পারেনি ক্লাবটি।

লিগে আগামী শনিবার রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে মাঠে নামবে বার্সেলোনা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক