১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদায়ী ম্যাচে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ব্যর্থতার দায় নিলেন ফ্রান্স কোচ

ফরাসিদের খুশি করতে না পারার হতাশা নিয়ে ক্যারিয়ারের এই অধ্যায় শেষ হলো দিদিয়ে দেশোঁর।

বিদায়ী ম্যাচে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ব্যর্থতার দায় নিলেন ফ্রান্স কোচ
দিদিয়ে দেশোঁ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Jul 2026, 12:54 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:41 PM

মূল লক্ষ্য থেকে আগেই ছিটকে পড়া ফ্রান্সের শেষটাও হলো হতাশার। বিশেষ করে, বিশ্বকাপের তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমার্ধে তাদের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেটাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে পুরো দায়ভার নিজের কাঁধে নিলেন দলটির বিদায়ী কোচ দিদিয়ে দেশোঁ।

এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে ফ্রান্সের ডাগআউটে নিজের ১৪ বছরের অধ্যায় শেষ করার ঘোষণা আগেই দিয়ে রেখেছিলেন দেশোঁ। তাকে আরেকটি শিরোপা উপহার দিতে মরিয়া দল। কিন্তু সেমি-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে তাদের সেই আশা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

ফাইনালে খেলতে না পারা ফ্রান্সের এই দলের জন্য বড় ব্যর্থতা। সেখানে তারা শেষটাও জয়ে রাঙাতে পারেনি। মায়ামিতে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হারে ফরাসিরা।

এদিন প্রথমার্ধে পুরোপুরো বিবর্ণ ছিল ফ্রান্স। ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ালেও, হার এড়াতে পারেনি দলটি। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষ ম্যাচটি পরাজয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়েন দেশোঁও।

ম্যাচ শেষে প্রথমার্ধের দলের হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য নিজেকেই দোষারোপ করেন ৫৭ বছর বয়সী দেশোঁ।

“এটা একটা পরাজয়, তবে আমরা ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল অগ্রহণযোগ্য। পরে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি এবং যেসব কাজ ভালো করতে পারি, সেগুলো করেছি। ৪-৪ সমতা আনার জন্য দুটি সুযোগ পাই, কিন্তু আমরা একটু বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে পড়ি।

“আমরা এটাই (আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা) করতে পারি, কিন্তু প্রথমার্ধে সেটা পারিনি। এটা আমারই ব্যর্থতা, কারণ প্রথমার্ধে যা করার দরকার ছিল তা করতে পারিনি।”

দেশোঁর নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। আর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়টিতে দলটির ডাকআউটে ছিলেন তিনি কোচ হিসেবে। খেলোয়াড় ও কোচ উভয় ভূমিকায় বিশ্বকাপ জেতা ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় ব্যক্তি তিনি।

উত্তর আমেরিকায় তৃতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিল ফ্রান্স। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তৃতীয় সেরা দলও হতে পারল না তারা। দেশোঁর কণ্ঠে ঝরল সেই আক্ষেপ।

“তৃতীয় হতে পারলে ভালো হতো। এখানে অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এসেছিলাম। অনেক ইতিবাচক কাজও করতে পেরেছি। স্পেনের বিপক্ষে ব্যর্থ হয়েছি এবং আমাদের বিপক্ষে কীভাবে ভালো খেলতে হয় তারা সেটা জানত। ফ্রান্সের এই দলে ফুটবলীয় গুণগত মানের কোনো অভাব নেই। ফল পাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রতিভা আমাদের ছিল।”

“ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে, এটা ছিল চমৎকার এক অভিযান। আট সপ্তাহ- অসাধারণ ছিল।”

১৮৫টি ম্যাচে ১২০টি জয় নিয়ে ফ্রান্স দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন দেশোঁ। এবারের বিশ্বকাপে দেশের মানুষকে খুশি করতে না পারার হতাশা নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।

“খেলাধুলার জায়গায় থেকে, হতাশা অবশ্যই আছে। কোটি কোটি ফরাসি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার সুযোগ ছিল। এটা বিশ্বকাপ- এর চেয়ে সুন্দর কিছু নেই।”