Published : 19 Nov 2021, 04:59 PM
আর্মি স্টেডিয়ামে শুক্রবার সোনা জয়ের লড়াইয়ে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি রুবেল ও দিয়া। ফাইনালে দুজন হেরে গেছেন ৫-১ ব্যবধানে।
তবে তাদের হাত ধরেই এশিয়া আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসে এলো বাংলাদেশের সেরা অর্জন। ২০০৩ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এই প্রথম কোনো রুপা জিতল বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে এবারের আসরেই এশিয়া আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসে প্রথম পদক পেল বাংলাদেশ। পদক পাওয়া নিশ্চিত হয়েছিল রুবেল-দিয়া জুটির ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়েই। তারা ফাইনালে মাঠে নামার আগেই অবশ্য রিকার্ভ মহিলা দলগত ও পুরুষ দলগত বিভাগ থেকে ব্রোঞ্জ পায় বাংলাদেশ।
২০১৬ সালে রিও দে জেনেইরো অলিম্পিকে রিকার্ভ পুরুষ দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেছিলেন লি সিয়ুং উন। ওয়ার্ল্ড আর্চারি র্যাঙ্কিংয়ে ৩৭তম স্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই আর্চার। রিও সু জং অবশ্য র্যাঙ্কিংয়ে নাম ওঠাতে পারেননি এখনও।
র্যাংকিংয়ে একশ’র মধ্যেও নেই বাংলাদেশের রুবেল কিংবা দিয়া। রুবেল ১০৪তম, দিয়া ১২১তম। গত মে মাসে সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড কাপে (স্টেজ-২) রোমান সানার সঙ্গে জুটি গড়ে রুপা জিতেছিলেন দিয়া। এবার তিনি রুবেলের সঙ্গে জিতলেন একই পদক।
সোনা জয়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও হতাশ নন কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখ। ফাইনালে স্নায়ুর চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আর্চারদের আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন এই জার্মান।
“কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে আমরা ভালো করেছি। এর অর্থ হচ্ছে আমরা সঠিক পথে আছি। নারী ও পুরুষ দলগত বিভাগে ব্রোঞ্জ পেয়েছি, মিক্সড রিকার্ভে রুপা পেলাম। ফাইনাল বিষয়টা আলাদা, এখানে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে অনেক ক্ষেত্রে সময় লাগে। শুরুর দুই সেটে ওদের খেলা খুব একটা ভালো ছিল না। তৃতীয় সেটে ওরা একটু ভালো করেছিল। আমি মনে করি, আর্চাররা যত বেশি টুর্নামেন্ট খেলবে, ফাইনালে উঠবে, তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করবে এবং এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।”
“ফাইনাল খেললে চাপ থাকবেই এবং সেটা ম্যানেজ করতে হবে। ফাইনালের প্রতিপক্ষ (দক্ষিণ কোরিয়া) দীর্ঘদিন ধরে আর্চারিতে আছে, এ খেলায় তাদের লম্বা ইতিহাস আছে। অলিম্পিকস গেমস, ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপসে অভিজ্ঞতা আছে তাদের। অভিজ্ঞ হতে আমাদের আরও সময় দরকার।”
একটি রুপা ও দুটি ব্রোঞ্জ নিয়ে এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপস শেষ করল বাংলাদেশ। আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আশাবাদ জানালেন মার্টিন।
“আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে, সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম আমাদের পদক পাওয়া উচিত। সেটা আমরা পেয়েছি। এই প্রথম এশিয়ান আর্চারি চ্যাম্পিয়নশিপসে পদক পেলাম এবং আমি এটা নিয়ে খুশি। আমি মনে করি, আমরা দারুণ একটা কাজ করেছি।”
“করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জাতীয় প্রতিযোগিতা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়া দরকার ছিল, আরও উন্নতি করার প্রয়োজন ছিল। এর মাঝে কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আর্চাররা অংশ নিয়েছে, কিন্তু সেটাও পুরো দল নয়। আশা করি, দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হবে। জাতীয় প্রতিযোগিতাগুলো হবে। আমরা ভালো একটা প্রস্তুতি নিয়ে এশিয়ান গেমসে যেতে পারব।”