Published : 26 Jun 2024, 03:17 AM
অনেক চেষ্টা আর অসংখ্য সুযোগ হারানোর পর অপেক্ষা ফুরাল কিলিয়ান এমবাপের। গোলখরা কাটল তার দল ফ্রান্সেরও। কিন্তু সেটা আগলে রাখতে পারল না তারা। পাল্টা পেনাল্টি পেয়ে, রবের্ত লেভানদোভস্কির গোলে ড্রয়ে আসর শেষ করল পোল্যান্ড। গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের নকআউট পর্বে উঠল দিদিয়ে দেশমের দল।
ডর্টমুন্ডে মঙ্গলবার ‘ডি’ গ্রুপে শেষ রাউন্ডের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছে।
একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে চমক উপহার দিয়েছে অস্ট্রিয়া। নাটকীয় লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়েছে তারা।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট অস্ট্রিয়ার। এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে ফ্রান্স। আর ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে নেদারল্যান্ডস, সেরা চার তৃতীয় দলের একটি হয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয় তাদের।
ডাচদের বিপক্ষে অনেক সুযোগ নষ্ট করায় শুরুর একাদশে জায়গা হারান অঁতোয়ান গ্রিজমান। আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারায় বেঞ্চে জায়গা হয় মার্কাস থুরামেরও। যেকোনো মূল্যে গোলের দাবি মেটাতে এমবাপের সঙ্গে বার্কোলাকে প্রথমে নামান ফ্রান্স কোচ।
মাস্ক পরে নামা এমবাপের উপস্থিতিতে তাদের খেলায় গতি আরেকটু বাড়ে। উনবিংশ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগও পায় তারা। এনগোলো কঁতের পাস ধরে উসমান দেম্বেলের শটটি অবশ্য ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।
নকআউট পর্বে ওঠার আশা আগেই শেষ হয়ে যাওয়া পোল্যান্ডও শুরুতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে। সুযোগ পেলেই উঠতে থাকে পাল্টা আক্রমণে। ৩৪তম মিনিটে খুব ভালো একটা সুযোগ পান লেভানদোভস্কি; কিন্তু দারুণ পজিশনে থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন বার্সেলোনা স্ট্রাইকার।
৪২তম মিনিটে বক্সে দারুণ ক্ষীপ্র হয়ে উঠলেন এমবাপে। ছোট পাস বাড়ালেন সামনে, বার্কোলার টোকায় বল গেল গোলমুখে, চোখের পলকে সতীর্থের পাশ দিয়ে গিয়ে কোনাকুনি শট নিলেন চোট কাটিয়ে ফেরা তারকা ফরোয়ার্ড; দুর্দান্ত সেভে জাল অক্ষত রাখলেন গোলরক্ষক।
পরের মিনিটে আবারও রক্ষণ ভেঙে ঢুকে পড়েন এমবাপে। দুরূহ কোণ থেকে শট নেন তিনি, এবারও তার প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন গোলরক্ষক লুকাস।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ফের শুরু হয়ে যায় ফ্রান্সের আক্রমণের ঝড়। প্রথম পাঁচ মিনিটেই গোলের জন্য তিনটি শট নেয় তারা, তবে প্রতিপক্ষের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভাঙতে পারেনি তারা। কঁতের শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর এমবাপের বাঁকানো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন লুকাস। এরপর ফ্রান্স অধিনায়কের দ্বিতীয় শট পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে যায়।
অবশেষে ৫৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙতে পারে দুবারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা। তাদের টানা আক্রমণের মুখে এতক্ষণ ঠাণ্ডা মাথায় রক্ষণ সামলে আসছিল পোল্যান্ড; কিন্তু হঠাৎ করেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন ডিফেন্ডার ইয়াকুব কিভিওর। তিনি ডান দিক থেকে দেম্বেলে বক্সে ঢেকামাত্র তাকে ফাউল করে বসেন, সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন এমবাপে।
চলতি আসরে ফ্রান্সের কোনো খেলোয়াড়ের এটাই প্রথম গোল। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রিয়ার আত্মঘাতী গোলে জিতেছিল তারা। আর ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতায় এমবাপেও পেলেন প্রথম গোলের স্বাদ।
এগিয়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পর একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন দেশম। বার্কোলা, আদ্রিওঁ রাবিও ও কঁতেকে তুলে নামান অলিভিয়ে জিরু, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা ও গ্রিজমানকে।
প্রথমার্ধে গোলের জন্য ছয়টি শট নেওয়া পোল্যান্ড বিরতির পর আর ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২৫ মিনিটে একবারও সেভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে পারেনি তারা, নিতে পারেনি কোনো শট। ৭২তম মিনিটে দূর থেকে একবার চেষ্টা করেন লেভানদোভস্কি, কিন্তু শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
সাত মিনিট পর ফ্রান্সের জয়ের আশা ফিকে হয়ে যায়। ডি-বক্সে ফরোয়ার্ড কারোলকে ফরাসি ডিফেন্ডার দায়দ উপামেকানো ফাউল করায় পেনাল্টি পায় অস্ট্রিয়া। লেভানদোভস্কির প্রথম স্পট কিক ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন মাইক মিয়াঁ, কিন্তু শট নেওয়ার আগেই তিনি গোললাইন থেকে এগিয়ে আসায় ফের শট নেওয়ার সুযোগ পান পোল্যান্ড অধিনায়ক। এবার আর ব্যর্থ হননি তিনি।
আরেক ম্যাচে এই সময় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল অস্ট্রিয়া। তাই গ্রুপ সেরা হতে ফ্রান্সের জয়ের বিকল্প ছিল না।
৮৫তম মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার নিশ্চিত সুযোগও পায় তারা। কিন্তু দারুণ পজিশন থেকে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড জিরুর শট রক্ষণে প্রতিহত হয়।
বাকি সময়েও ফল বদলে দিতে পারেনি ফ্রান্স, পরিবর্তন হয়নি অন্য ম্যাচের ফলও। গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় সবশেষ ২০০০ সালে ইউরোপ সেরা ট্রফি জেতা ফ্রান্সকে।
ধারহীন ইংল্যান্ডকে রুখে শেষ ষোলোয় স্লোভেনিয়া