১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

মেক্সিকো ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে হাজারো চ্যালেঞ্জ

ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর সাফল্যেও ঈর্ষণীয়।

মেক্সিকো ম্যাচে ইংল্যান্ডের সামনে হাজারো চ্যালেঞ্জ
ইংল্যান্ড দল। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 07:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

শেষ ষোলোয় ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ কেবল মেক্সিকো নয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আসতেকা স্টেডিয়ামের উচ্চতা, স্বাগতিক দর্শক, এ মাঠে মেক্সিকোর ঈর্ষণীয় সাফল্য- এমন অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে টমাস টুখেলের দলকে। এমনকি, ম্যাচের আগের রাতে স্বস্তির ঘুম নিয়েও ভাবতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে!

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে, বাংলাদেশ সময় সোমবার ৬ টায় (এএম) মুখোমুখি হবে দুই দল। বিশ্বকাপে মেক্সিকোর সর্বোচ্চ সাফল্য সেরা আটে খেলা। ১৯৬৬ আসরে প্রথম ও সবশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড।

এবারের আসরের সহ-আয়োজকদের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের প্রথম চ্যালেঞ্জ আসতেকার উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭ হাজার ২শ ফুট উচুতে এ মাঠের অবস্থান। উচ্চতার কারণে এ মাঠে গিয়ে, দম ফুরিয়ে হাঁসফাঁস করতে হয় প্রতিপক্ষদের।

মেক্সিকোর সমর্থকদের উৎপাত আরেক চ্যালেঞ্জ। শেষ বত্রিশে একুয়েডরের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচের আগে স্বাগতিক দর্শকরা গ্যালারি তো মাতিয়ে রেখেছিলই, কিন্তু তার আগের রাত্রে তারা করেছিল আরেক কাণ্ড। একুয়েডরের টিম হোটেলের বাইরে রাতভর আতশবাজি ফুটিয়ে, হৈ-হুল্লোড় করে তাদের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল!

১৯৬৬ সালে আসতেকা স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর পর থেকে, ঐতিহাসিক এই মাঠে মেক্সিকোর দাপুটে পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের জন্য আরেক চ্যালেঞ্জ। এ মাঠে খেলা ৮৯ ম্যাচে মেক্সিকোর ৭০ জয়ের বিপরীতে হার মাত্র দুটি। বাকি ১৭ ম্যাচ ড্র। 

এই বাধাগুলো জানা টমাস টুখেলেরও। তবে, আসতেকায় মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়াটা ইংল্যান্ড কোচের কাছে রোমাঞ্চের চেয়ে বেশি কিছু!

“মেক্সিকোর বিপক্ষে আসতেকায় খেলা সম্ভবত সবচেয়ে সুন্দর এবং উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের একটি। সেখানে আমাদের জন্য অসংখ্য প্রতিকূলতা অপেক্ষা করবে, উচ্চতা তো অবশ্যই বড় একটা সমস্যা। কেননা, চার দিনে এর সঙ্গে আমরা শারীরিকভাবে মানিয়ে নিতে পারব না। এটা পারা একেবারেই অসম্ভব।”

ইংল্যান্ড অবশ্য কষ্টে পেরিয়ে এসেছে শেষ বত্রিশ। আটলান্টায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতে তারা। মেক্সিকো বাধা পেরুতে পারলে, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে ‘থ্রি লায়ন্স’রা। সেখানে মেক্সিকোর সামনে সব মিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো সেরা আটে খেলার সুযোগ। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলেছিল তারা।

গত চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে আট গোল দিয়ে মেক্সিকো হজম করেনি একটিও। রক্ষণের এই দৃঢ়তা আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে তাদেরকে। দলটির মিডফিল্ডার আলভারো ফিদাও বললেন, খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিতে প্রস্তুত তারা।

“এই মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ-সবাই এমন ম্যাচের স্বপ্নই দেখে। খেলোয়াড় হিসেবে সম্ভবত আমরা সবচেয়ে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিতে যাচ্ছি। আমরা জানি, তাদের দলে ভালো খেলোয়াড় আছে; তারা কীভাবে খেলে। সর্বপরি, তাদের মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিনির্ভর খেলোয়াড় আছে; সব পজিশনেই দারুণ খেলোয়াড় আছে। তারা আমাদের দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ হবে।”

ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইনকে মুখোমুখি হতে হবে মেক্সিকোর রক্ষণভাগের। ইতোমধ্যেই ৫ গোল করে কেইন আছেন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এ মুহূর্তে তিনি আছেন আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে, তৃতীয় স্থানে। ৭টি করে গোল নিয়ে তালিকায় শীর্ষে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে।

কেইনও ভালো করেই জানেন, নকআউট পর্বের ধাপ যত এগুবে, গোল পাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে ততই। তিনিও অনুভব করছেন, ক্লাবের জার্সিতে মেলে ধরা দাপুটে পারফরম্যান্স টেনে আনার সময় এখন।

“নিশ্চিতভাবে এখনও অনেক কাজ করার বাকি এবং এই রাউন্ডগুলো শুধু পার হওয়ার জন্যই (না পারলে বিদায়)। আমরা টুর্নামেন্টের এমন পর্যায়ে আছি, যখন কষ্ট করে জয় তুলে আনতে হয় এবং আমরা সেটাই করছি।”

মেক্সিকোর আক্রমণভাগে অবশ্য কেইনের মতো তারকা নেই। তবে, হুলিয়ান কুইনোনেস তিন গোল করেছেন ও একটি অ্যাসিস্টও আছে। রাউল হিমেনেসের নামের পাশে আছে দুই গোল। এছাড়া রবের্তো আলভারাদো অ্যাসিস্ট করেছেন তিনটি। 

দলের প্রতি আস্থা থাকলেও মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগিরে ক্ষুব্ধ অন্য একটি কারণে। ম্যাচটির ৬ ঘণ্টা এগিয়ে আনার আলোচনা চলছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। এমন ভাবনা মাথায় আনার জন্যই অফিসিয়ালদের ধুয়ে দিয়েছেন মেক্সিকো কোচ। 

“আমাকে বলা হয়েছিল, ম্যাচটা ভিন্ন সময়ে শুরু হবে এবং আমি বলেছিলাম, আমি এতে খুশি নই। ম্যাচের আগের দিন এই পরিবর্তন অসুবিধাজনক ছিল এবং আমি এটাই বলেছিলাম।”

টুখেলের ভাবনা অবশ্য ভিন্ন। মাঠের লড়াই শুরুর আগে এই জার্মান কোচ খুঁজছেন, মেক্সিকোর সমর্থকদের হৈ-হুল্লোড়ের মধ্যে রাতে একটু ঠিকঠাক ঘুমানোর পথ!

“ভালো একটা ঘুমের প্রত্যাশা আমাদের। ফিফা হোটেলের চারপাশে নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছে। যে সমস্যার অস্তিত্ব নেই, তা নিয়ে কথা বলতে চাই না আমি। সম্মানের সাথেই আতিথেয়তা দেওয়া হচ্ছে আমাদের।”

মাঠের লড়াইয়ে সহ-আয়োজক মেক্সিকো এই আতিথেয়তা নিশ্চয় দিবে না ইংল্যান্ডকে।