পাকিস্তান কোচের চোখে সাবিনা ‘ফ্যান্টাস্টিক’

প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসা পাওয়া সম্মানের বলে মনে করেন বাংলাদেশের এই তারকা ফরোয়ার্ড।

কাঠমান্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 12:57 PM
Updated : 10 Sept 2022, 12:57 PM

মালদ্বীপ ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিলেন জোড়া গোলে। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের আলোয় ভাসলেন সাবিনা খাতুন। আক্রমণভাগে দুরন্ত, দুর্বার সাবিনাকে দেখে মুগ্ধ পাকিস্তান কোচ আদেল মির্জা রিজকি। তার চোখে বাংলাদেশ অধিনায়ক ‘ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার’।

মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে শনিবার সাবিনার হ্যাটট্রিকে পাকিস্তানকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। দলের বাকি তিন গোলদাতা মনিকা চাকমা, সিরাত জাহান স্বপ্না ও ঋতুপর্ণা চাকমা।

তৃতীয় মিনিটে মনিকা দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্বপ্না। এরপর শুরু হয় সাবিনা ঝলক। ৩০তম মিনিটে সুযোগসন্ধানী শটে গোলের খাতায় নিজের প্রথম আঁচড় কাটেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৩৫তম মিনিটে সানজিদা খাতুনের পাসে গোলমুখ থেকে অনায়াসে করেন দ্বিতীয় গোল। ৫৮তম মিনিটে মারিয়া মান্দার ক্রসে গোলমুখ থেকে হেডে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

নেপালের আসরে এটি প্রথম হ্যাটট্রিক। সাফে এ নিয়ে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন সাবিনা। ২০১৬ সালে শিলিগুঁড়ির আসরে আফগানিস্তানকে ৬-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে পাঁচ গোল করেছিলেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় সাবিনার গোল হলো ১৯টি।

স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের ‘গোলমেশিন’ সাবিনাকে নিয়ে ছক কষেছিল পাকিস্তান। কিন্তু কাজ হয়নি। দলটির কোচ আদেলও ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় স্বীকার করলেন তা।

“নিশ্চিতভাবেই সাবিনা একজন ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার এবং এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। সে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। আমি মনে করি, তাকে আটকানোর পরিকল্পনা করা কঠিন। তারপরও তাকে আটকানোর জন্য আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল, আমরা যতটা সম্ভব তাকে আটকানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু পরিকল্পনা কাজ করেনি, পরাস্ত হয়েছে।”

মালদ্বীপ কোচ সাবিনাকে বলেছিলেন ‘গেম চেঞ্জার’। এরপর পাকিস্তান কোচ বললেন ‘ফ্যান্টাস্টিক প্লেয়ার’। প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসা পেয়ে সম্মানিত বোধ করছেন সাবিনাও। তবে স্তুতির বন্যায় ভেসে যেতে চান না তিনি।

“প্রতিপক্ষ কোচ যদি বলে থাকেন যে আমার বিপক্ষে কোনো পরিকল্পনা কাজে আসে না। অবশ্যই এটা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। আসলে সব সময়ই বলি, অভিজ্ঞতা একটা বড় ব্যাপার। আমার মনে হয়, অভিজ্ঞতা আমার কাজে দিয়েছে। চেষ্টা করেছি মাঠে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার এবং সফল হয়েছি।”

“প্লেয়াররা নিজেদের পারফরম্যান্সে কখনোই পুরোপুরি তৃপ্ত হয় না। সবসময় মনে হয় যে তার আরও ভালো করা উচিত। আমি ওই জিনিসটা সব সময় মনে করি, যেটা দিয়েছি মাঠে এর চেয়েও ভালো করা উচিত।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক