১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রান্সফার ফির রেকর্ড চুরমার করে গালাতাসারাইয়ে ওসিমেন

অবিশ্বাস্য ট্রান্সফার ফি ও চোখধাঁধানো অঙ্কের পারিশ্রমিকে নাপোলি থেকে নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডকে দলে নিয়েছে তুরস্কের চ্যাম্পিয়নরা।

ট্রান্সফার ফির রেকর্ড চুরমার করে গালাতাসারাইয়ে ওসিমেন
ধারের ফুটবলার থেকে এবার সত্যিই গালাতাসারাইয়ের একজন ভিক্টর ওসিমেন। ছবি: গালাতাসারাই ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2025, 02:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:29 PM

ধারে খেলতে গিয়ে এতটাই অসাধারণ পারফরম্যান্স যে, ভিক্টর ওসিমেনকে পুরোপুরি নিজেদের করে পেতে উঠেপড়ে লেগেছিল গালাতাসারাই। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও গুঞ্জন শেষে অবশেষে লক্ষ্য পূরণ হলো তাদের। ট্রান্সফার ফির রেকর্ড দুমড়েমুচরে ও চোখধাঁধানো অঙ্কের পারিশ্রমিকে তুরস্কের ক্লাবটিতে যোগ দিলেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

নাপোলি থেকে ওসিমেনকে পেতে সাড়ে সাত কোটি ইউরো খরচ হচ্ছে তুরস্কের চ্যাম্পিয়নদের। এই ট্রান্সফার ফি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে তুরস্কের ফুটবলে আগের রেকর্ড।

গত বছরের জুলাইয়ে ২ কোটি ইউরোতে সেভিয়া থেকে ফেনারবাচেতে যোগ দিয়ে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মরোক্কার ফরোয়ার্ড ইউসেফ এন-নেসিরি।

গালাতাসারাই বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে জানায়, চার বছরের চুক্তিতে ওসিমেনকে নিয়েছে তারা। 

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওসিমেনের ভবিষ্যতে ট্রান্সফার ফির ১০ শতাংশ পাবে নাপোলি। 

গালাতাসারাইয়ে প্রতি মৌসুমে দেড় কোটি ইউরো পারিশ্রমিক পাবেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এছাড়াও প্রতি মৌসুমে ‘লয়্যালিটি বোনাস’ পাবেন তিনি আরও ১০ লাখ ইউরো এবং ক্লাবের ব্র্যান্ডিং ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের ‘ইমেজ রাইটস’ হিসেবে পাবেন ৫০ লাখ ইউরো।

চুক্তির শর্তাবলী নিশ্চিত করেছে নাপোলিও।

ধারে খেলতে গিয়ে ক্লাবকে আপন করে নিয়েছেন ওসিমেন। ছবি: গালাতাসারাই ফেইসবুক।

ধারে খেলতে গিয়ে ক্লাবকে আপন করে নিয়েছেন ওসিমেন

ফরাসি ক্লাব লিল থেকে ২০২০ সালে নাপোলিতে যোগ দেন ওসিমেন। ২০২২-২৩ মৌসুমে নাপোলির অবিস্মরণীয় সেরি আ জয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি নজর কাড়েন ফুটবল বিশ্বের। দলকে ৩৩ বছর পর লিগ শিরোপা জেতানোর পথে ৩২ ম্যাচে ২৬ গোল করেন তিনি। ২০২৩ সালে নির্বাচিত হন আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলারও।

ওই বছর তার চুক্তির মেয়াদও বাড়ানো হয় ২০২৬ পর্যন্ত। তবে নানা টানাপোড়েনে গত বছর ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর তার ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন জোরাল হতে থাকে। গত সেপ্টেম্বরে তাকে স্কোয়াডের বাইরেও রাখা হয়। তার গালাতাসারাইয়ে যাওয়ার আলোচনাও তখন ডালপালা মেলতে তাকে।

শেষ পর্যন্ত ধারে তুরস্কের ক্লাবটিতে পা রাখেন তিনি। আবির্ভাবেই দারুণ খেলে তুরস্কের ফুটবলে জন্ম দেন উন্মাদনার। সমর্থকদের কাছে হয়ে ওঠেন প্রবল জনপ্রিয়। ২৬ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ স্কোরার হন তিনি। তুর্কি লিগে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয় গালাতাসারাই, তাদের রেকর্ড যাত্রা পৌঁছে যায় ২৫ শিরোপায়।

এছাড়া তুর্কি কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরোয়া ডাবল জিতে নেয় গালাতাসারাই। সব মিলিয়ে মৌসুমে ৪১ ম্যাচে ৩৭ গোল করেন ওসিমেন, এক মৌসুমে যা তুরস্কের ফুটবলের ইতিহাসে বিদেশি ফুটবলারদের জন্য রেকর্ড। পাশাপাশি সহায়তা করেন আট গোলে।

এবার তুরস্কের ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ফুটবলার হিসেবে শুরু হচ্ছে তার পথচলা।